Wednesday, June 19, 2024

[School Service Commission] নজিরবিহীন রায় আদালতের! এসএসসির চেয়ারম্যানকে ২০হাজার টাকা জরিমানার পাশাপাশি অপসারণের সুপারিশ হাইকোর্টের

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে কলকাতা হাইকোর্টের
(Calcutta High Court) বিভিন্ন রায় এই সংস্থাটির সাথে সাথে রাজ্যের শিক্ষাদপ্তরকেও তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলে দিয়েছে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের জন্য বারংবার হাইকোর্টে মুখ পুড়েছে রাজ্য সরকারেরও। কিন্তু এবার যা ঘটল তা নজির বিহীন। সরাসরি স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে শুভশঙ্কর সরকারকে অপসারণের  সুপারিশ করল কলকাতা হাইকোর্ট ৷ সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই সুপারিশ সোরগোল ফেলে দিয়েছে শিক্ষা মহলে৷

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

এসএসসি-র চেয়ারম্যান পদে শুভশঙ্কর সরকারের থাকার যোগ্যতা নিয়ে রীতিমতো সন্দেহ প্রকাশ করে এই সুপারিশ করেন ক্ষুব্ধ বিচারপতি৷ এসএসসি চেয়ারম্যানের ভুলের মাশুল হিসেবেই এই সুপারিশ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি৷ রাজ্যের কাছে তাঁর প্রস্তাব, শিক্ষা দফতরকে বলব এসএসসি-র চেয়ারম্যানকে সরানো যায় কি না তা তারা খতিয়ে দেখুক। এসএসসি-তে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মামলাতেই এই নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট৷ শুধু অপসারণের সুপারিশই নয়, একই সঙ্গে সোমবার বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, এসএসসি-র চেয়ারম্যানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। নিজের পকেট থেকেই ওই জরিমানার টাকা দিতে হবে বলে রায়ে পরিষ্কার জানান বিচারপতি।

উল্লেখ্য ২০১৬ সালে নবম ও দশম শ্রেণির নিয়োগের জন্য এসএলএসটি পরীক্ষা হয়। সুমনা লায়েক নামে এক পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, তালিকায় আগে নাম থাকা স্বত্ত্বেও তাঁকে নিয়োগ করা হয়নি। অথচ তালিকার নীচে থাকা পরীক্ষার্থীদের নিয়োগ করা হয়েছে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। নিয়ম মেনে নিয়োগ হয়নি মামলার শুনানিতে তা প্রমাণিত হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এসএমএস-এর মাধ্যমে মাত্র তিন দিন আগে কীভাবে দেওয়া হল কাউন্সেলিং বার্তা? তারই পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়৷ এসএসসি চেয়ারম্যানের অপসারণের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য শিক্ষা দফতরের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি৷ পাশাপাশি মামলাকারী চাকরিপ্রার্থীকে কাউন্সিলিংয়ের সুযোগ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট৷ এসএসএসি চেয়ারম্যানের এই ধরনের ভুলের সম্পর্কে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে অবগত করার জন্য হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকেও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়৷

চেয়ারম্যানের ভূমিকায় রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে এ দিন বিচারপতি বলেন, ‘এসএমএস-এ কাউন্সিলিংয়ের তিন দিন আগে কীভাবে চাকরিপ্রার্থীকে বার্তা দেওয়া হয়? কেন ই মেল বা স্পিড পোস্টে করে নিয়োগের সুপারিশ পত্র পাঠানো হয়নি?’ এসএসসি চেয়ারম্যানের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিস্মিত বিচারপতি বলেন, ‘কোন ধরনের চেয়ারম্যান ইনি! কোন যোগ্যতামানে ইনি চেয়ারম্যান হিসেবে সেন্ট্রাল সার্ভিস কমিশনে কাজ করছেন ?’অভিযোগ, মামলাকারী চাকরিপ্রার্থী এসএলএসটি-র মেধা তালিকায় ১৪৯ নম্বরে ছিলেন৷ তার পরেও তিনি নিয়োগপত্র পাননি৷ অথচ ১৫৯, ১৯৬, ১৯৮ নম্বরে প্রার্থীরা চাকরির নিয়োগপত্র পেয়েছেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই বেনিয়মের অভিযোগেই মামলা হয় হাইকোর্টে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এ দিন আরও নির্দেশ দিয়েছেন, শূন্যপদ অনুযায়ী মামলাকারী চাকরিপ্রার্থীকে তাঁর বাড়ি থেকে সবথেকে কম দূরত্বের মধ্যে পাঁচটি স্কুলের জন্য কাউন্সিলিংয়ের সুযোগ দিতে হবে৷ পাশাপাশি, কাউন্সিলিংয়ের ৪৫ দিন আগে তাঁকে সে বিষয়ে অবগতও করতে হবে৷ নির্দেশে রাজ্যের প্রতি তাঁর মন্তব্য, এত কিছুর পরও আশা করব পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা দফতর ওই ব্যক্তিকে পদে রাখা হবে কি না সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে এবং এই নির্দেশকে গুরুত্ব দেবে।

- Advertisement -
Latest news
Related news