Wednesday, June 19, 2024

Tragic death: সরস্বতীর মন্ডপ সাজিয়েও অঞ্জলি দেওয়া হলনা ঝাড়গ্রামের মৌসুমীর! ২বছর পরে স্কুলে যাওয়ার আনন্দ কেড়ে নিল বালি বোঝাই লরি

- Advertisement -spot_imgspot_img
তখনও পড়ে দেহ

নিজস্ব সংবাদদাতা: ১মাস পরে ফের খুলেছে স্কুল তাও আবার সরস্বতী পূজো! দুই সহপাঠিনীর সাথে তাই নাচতে নাচতে স্কুলে গিয়েছিল মেয়েটা। রাত পেরুলেই সরস্বতী পূজা। শেষ বার স্কুলের সরস্বতী পূজো হয়েছিল যখন তখন তার ক্লাস সেভেন। ছোট বলে কেউ পাত্তাই দেয়নি। এবার নাইন, তাই সব্বাই মিলে সাজিয়েছিল মন্ডপ। কেউ দিয়েছে আল্পনা, কেউ এঁকেছে ছবি। তারপর আজকের মত ছুটি হয়ে গেছে। কাল তাড়াতাড়ি আসতে হবে তাই ছুটেছে বাড়ি। মাঝখানে একটা ছোট্ট বাজার। ৩জনেই কিনে নিয়েছে টুকিটাকি সাজার জিনিস। তারপর বাড়ির পথে কিন্তু ফেরা হলনা বাড়ি। ৬নম্বর জাতীয় সড়কে হাঁটার সময় পেছন থেকে বালি বোঝাই লরির ধাক্কায় ছিটকে পড়ে তিন বান্ধবীই। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মৌসুমীর। বাকি ২জন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ১৪বছরের নবমশ্রেণীর ছাত্রীর নাম মৌসুমী শবর। ঝাড়গ্রাম থানার মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা মৌসুমী পড়ত জাতীয় সড়কের উত্তর দিকে অবস্থিত দেবীচক হাইস্কুলে। স্কুল থেকে যাতায়তের পথে বাঁকশোলের কাছে জাতীয় সড়ক পারাপার করতে হয় মোহনপুরের পড়ুয়াদের। ছয় লেনের চওড়া হাওড়া-মুম্বাই জাতীয় সড়ক। এই সড়ক সম্প্রসারণনের সময় এলাকাবাসীর দাবি ছিল একটি আন্ডারপাশ করার কিন্তু সেই দাবিতে কর্ণপাত করেনি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। একটি সরু জেব্রা ক্রসিং করেই দায় সেরেছে। কিন্তু সেই ক্রসিং পর্যন্ত আসার সময় পায়নি মৌসুমীরা। ওই ক্রসিংয়ের একটু আগে নেমে রাস্তা পেরুনোর জন্য ক্রসিংয়ের দিকে আসার সময়ই পেছন থেকে তাদের ধাক্কা মেরে চলে যায় লরি।

ঘটনার পরই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় জনতা। দীর্ঘক্ষন ৬নং জাতীয় সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ দেখায় জনতা। প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে জাতীয় সড়কের দুপাশেই ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মানুষের দাবি, বারংবার একই ঘটনা ঘটা স্বত্ত্বেও নিষ্ক্রিয় জনতা। জনতার দাবি স্থানীয় ডুলুং নদীর ফেকোঘাট থেকে নির্বিচারে বালি তোলা এবং বহন করা লরি গুলো দাপিয়ে বেড়ায় জাতীয় সড়কে। অনেক সময় পুলিশ তোলা তুলতে তাড়া করে তাদের, সেই তাড়া খেয়ে সেগুলি দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে ছোটে। এদিনও সেরকমই ঘটনা ঘটেছিল বলে জনতার দাবি। জনতা দাবি করে ওই জেব্রা ক্রসিংয়ে কোনও সিভিক ভলান্টিয়ার পর্যন্ত দেওয়া হয়না যান নিয়ন্ত্রণের জন্য। অথচ গাদা গাদা সিভিক ভলান্টিয়ার ছড়িয়ে থাকে এদিক ওদিক।

ঘটনায় আহত অন্য দুই ছাত্রী শিখা শবর, সুমিত্রা খিলাড়িকে স্থানীয়রাই উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠান। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা খুবই আশংকা জনক বলে জানা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে তাদের ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ হয়। পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উদ্ধার করতে এলে পুলিশকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখায় জনতা। পরে ওই স্থানে
ট্রাফিকের ব্যাবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে জনতাকে শান্ত করে অবরোধ প্রত্যাহার করায় পুলিশ।

- Advertisement -
Latest news
Related news