Monday, June 17, 2024

Anis Murder Case: আনিস খুনের পর থেকেই পলাতক চার সিভিক! সিট কে মোবাইল দিলনা পরিবার

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: আলিয়ার ছাত্র নেতা আনিস খান খুনের পর থেকেই খোঁজ মিলছেনা ৪জন সিভিক ভলান্টিয়ারের। আনিস খুন (Anis Khan Murder Case )হয়েছেন শুক্রবার মধ্য রাতের পর আর শনিবার থেকেই বেপাত্তা হাওড়া জেলার আমতা থানার ওই চার সিভিক ভলান্টিয়ার। আমতা বাসস্ট্যান্ড থেকে আমতা কলেজ মোড় অবধি দাপিয়ে বেড়ানো তোলা বাজের কুখ্যাতি বহন করা ওই সিভিকদের কেউই দেখা পাচ্ছেন না গত টানা ৫ দিন। এমনকি বাড়ির লোকেও জানেনা তাঁরা কোথায়? আমতা থানার পুলিশও জানেনা, অন্ততঃ পুলিশের তাই দাবি। এই চার জনের নাম কৌশিক চক্রবর্তী, সৌরভ খাঁড়া, প্রীতম চক্রবর্তী এবং অরিজিৎ পোল্লে। এর মধ্যে অরিজিৎ আবার রসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের ছেলে বলেই জানা গেছে। বাকিরাও ডিউটি না থাকলে তৃণমূল কর্মী হিসাবেই কাজ করে থাকেন। বিশেষ করে গত বিধানসভায় শাসকদল কে ভালো সার্ভিস দিয়েছেন এঁরা।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

গত বিধানসভা নির্বাচনে আনিসের এলাকায় ভোট কম পেয়েছিল শাসকদল তৃনমূল কংগ্রেস। আর সেই কারণে তাঁকে হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে ৭ মাস আগেই আমতা থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক কে অভিযোগ জানিয়েছিলেন আনিস। আনিস লিখিত অভিযোগে জানান, ‘আমাদের গ্রাম কুশবেরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধানের ও স্থানীয় তৃণমূল বুথ সভাপতি মালেক খাঁন ও তার জেষ্ঠ পুত্র মাসুদ খাঁনের নেতৃত্বে এবং তাদের কিছু অনুগামীরা হুমকি সহকারে আমাকে প্রকাশ্য রাস্তায় জানায় “রক্তদান শিবির করা যাবে না আর করলে ফল ভীষণ খারাপ হবে”। আনিস এও বলেছিল যে ওই নেতারা তাঁকে হুমকি দিয়েছিল এই বলে যে, “এবারের নির্বাচনে আমাদের পার্ট থেকে তৃণমূল ছাড়া অন্যরা ভোট পেল কেন? এর দায় আমাকে নিতে হবে।” পুলিশ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি।

পরের ঘটনা আরও মারাত্মক। রাতে আনিসের বাড়িতে পুলিশ অথবা পুলিশের বেশে খুনিদের অভিযান। শুক্রবার রাত ৩.৫০, আনিসের বাবা সালেম খান আমতা থানায় ফোন করে ঘটনা জানাচ্ছেন। প্রায় ৫০ মিনিট পর আবারও সালেম ফোন করছেন আমতা থানায়। প্রতিবারই সালেম খানের ফোন পাওয়ার পর থানার অধিকারিক আর টি ভ্যানের (টহলদারি পুলিশ ভ্যান) পুলিশ কর্মীদের বলছেন আনিসের বাড়িতে যাওয়ার জন্য কিন্তু পুলিশ যায়নি। শনিবার সকাল ৬টায় সেই পুলিশ কর্মীরা ডিউটি সেরে বাড়ি চলে গেলেন। আনিসের বাড়ি পুলিশ গেল সকাল ৯ টায়। বোঝাই যাচ্ছে পুলিশ থানার আধিকারিকদের কথা শুনছে না আর। পুলিশ কী তাহলে অন্যের কথায় চলছে? আনিসের পরিবারের তেমনটাই দাবি। যে কারনে পুলিশি তদন্তে আস্থা নেই তাঁদের। আনিসের খুনের ঘটনার ৪দিন পরে গঠিত হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। মঙ্গলবার সকাল এবং সন্ধ্যায় দু’বার আনিসের বাড়িতে গিয়েছেন সিটের কর্তারা কিন্তু আনিসের পরিবার ফিরিয়ে দিয়েছে তাঁদের। পরিবারের একটাই বক্তব্য, পুলিশই খুন করেছে আমাদের ছেলেকে তাই পুলিশের তদন্তে আমাদের আস্থা নেই। আমরা সিবিআই চাই।’

সিট অবশ্য ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করেছে দুই পুলিশ কর্মীকে। কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে একজন হোমগার্ড কে। এরাই সেই তিনজন যারা সেদিন আর টি ভ্যানে ডিউটি দিচ্ছিল এবং থানা থেকে নির্দেশ পাওয়ার পরও আনিসের বাড়িতে যাননি। যদিও আনিসের পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী সম্ভবত: এরা অনেক আগেই আনিসের বাড়ি চলে গেছিল এবং ওই গায়েব হয়ে যাওয়া চার জন সিভিকের একজন কে সঙ্গে নিয়ে আনিসের বাড়িতে ঢুকে ছিল। যদি তাই সত্যি হয় তাহলে বুঝতে হবে এএসআই নির্মল দাস আনিসের বাবা সালেম খানের বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে তাকে নীচে আটকে রেখে ছিলেন আর কনস্টেবল জিতেন্দ্র হেমব্রম ও হোমগার্ড কাশীনাথ সাহা একজন সিভিক কে নিয়ে ছাদে উঠে গেছিলেন আনিসের খোঁজে। আর তারপর আনিসের দেহ পড়ে যায় তিনতলার ছাদ থেকে নিচের চাতালে। পুলিশ কর্মীরা নীচে নেমে এসে এএসআইকে জানিয়ে দেয়, স্যার কাজ হয়ে গেছে।

হুমকির ভয়েই আনিস ইদানিং বাড়িতে থাকছিলেন না। কয়েকদিন আগেই ফিরেছিলেন বাড়িতে। শুক্রবার গভীর রাত অবধি পাড়ার একটি জলসায় ছিলেন। তিনি বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পরেই বাড়িতে ঢুকেছিল পুলিশ অথবা পুলিশের বেশধারী দুর্বৃত্তরা। যার অর্থ আনিসের গতি বিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল এবং সেটা ওই গায়েব হয়ে যাওয়া সিভিক ভলান্টিয়াররাই রাখছিল কিনা তাই খতিয়ে দেখছে সিট। সিটের তরফেও খোঁজ করা হচ্ছে ওই চার সিভিকের। আমতা থানার পুলিশ আধিকারিক শুরুতেই জানিয়ে ছিলেন আনিসের বাড়ি পুলিশের তরফে কেউ যায়নি রাতে। যার অর্থ সম্ভবতঃ থানাকে এড়িয়ে পুলিশ, সিভিক আর শাসকদলের একটা চক্র কাজ করছে বিরোধীদের
শায়েস্তা করার কাজে।
আনিসের পরিবারের সাফকথা, খুনটা পুলিশের লোকেরাই করেছে। তাই পুলিশ কে তাঁরা তদন্তে সহযোগিতা করবেননা। তাঁরা সিবিআই তদন্ত চান। মঙ্গলবার সকালের দিকে আনিস হত্যা মামলায় গঠিত তদন্তকারী দলটিকে ফেরৎ পাঠিয়ে দেন। ওই দিন সন্ধ্যায় ফের সিটের কর্তারা একটি নোটিস নিয়ে হাজির হয়েছিলেন আনিসের বাড়িতে কিন্তু সেই নোটিস গ্রহণ করেনি পরিবার। সিটের পক্ষ থেকে আনিসের মোবাইল হ্যান্ডসেট চাওয়া হয় তদন্তের স্বার্থে। পরিবার তাও দেয়নি। আনিসের বাবা সালেম খানের বক্তব্য, ‘মোবাইলের চিপ বদলে দিয়ে পুলিশ উল্টে আমার ছেলেকেই অপরাধী বানিয়ে দিতে পারে। আমরা সিবিআই কিংবা আদালতে মোবাইল জমা দিতে পারি কিন্তু পুলিশ কে নয়।’

- Advertisement -
Latest news
Related news