Sunday, July 21, 2024

কুম্ভ কথা ( পর্ব – ৫ )

- Advertisement -spot_imgspot_img

কুম্ভ কথা- ৯


নিউজিল্যান্ডের একটি পরিবার কে দেখে নীলু ভীষণ উত্তেজিত। দাদা, দেখুন দেখুন…সত্যিই শেখার আছে…আমি বামুনের ছেলে, কোনোদিন স্নানের আগে এত আচরন পালন করিনি….
সত্যি, তাই। স্নানের আগে বিশুদ্ধ সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণ সহ দম্পতির হাত ধরে অবগাহন, স্নানান্তে নববস্ত্র পরিধানান্তে হনুমান চালিশা পাঠ আমাদের আত্মবিস্মৃতির ধারণা কে আরো দৃঢ় করে ।
Actually my parents practice Hinduism &  we love it with all its aspects.My father knows sanskrit very well &  I have learnt from him. We are here to feel the spirit . সনাতন ধর্ম আচ্ছা হ্যায়, মিষ্টি হাসে মধুরভাষিনী। আমরা হাসতে পারি না। চোখ নামাই। চোখে ভাসে কবির গরুর মাংস খাবার লাইভ টেলিকাস্ট। কুম্ভ বারে বারে অবাক করে, চমকে দেয় নানা ভাবে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

হুইল চেয়ারে বসিয়ে পঙ্গু দাদাকে স্নান করাতে নিয়ে এসেছে যে ভাইটি , শিক্ষিত শহুরে মন দোলাচলে -পূণ্য বলে যদি কিছু থাকে তাহলে কার ঝুলিতে এল সেই পূণ্য? পূর্ণ হলো কে !!!

কুম্ভ কথা- ১০


বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, বিজ্ঞানে মেশে ধর্ম। তিন দিনই দেখলাম  কিছু জন বিভিন্ন পাত্রে  বিভিন্ন সময় সঙ্গমের জল সংগ্রহ করছে। জানা গেল, এনারা দেশি বিদেশি বিজ্ঞানী দের একটি মিলিত দল। জলে পুণ্য বিষয়টি বোঝার ও বোঝানোর চেষ্টা করছেন।

২০১৩ সাল থেকে চলছে এই প্রোজেক্ট।  বিজ্ঞানী রা লক্ষ্য করছেন যে, বিশেষ বিশেষ সময়ে বা যোগে, সঙ্গমের জলে ব্যাকটেরিয়ার পরিমান প্রায় শূন্য।  বহু মানুষের স্নানের পরেও সংগৃহীত জলে কলুষতা র পরিমান অতি নগন্য।

প্রকৃত সিদ্ধান্তে আসতে সময় লাগবে তাঁদের, প্রাচীন সাহিত্যে -দর্শনে  উল্লেখ গুলি র গোপন সান্ধ্য ভাষা আয়ত্তের জন্য  সাধু মহাত্মাদের পরামর্শ সাহচর্য নিতে কুন্ঠা নেই তাঁদের। সম্ভ্রম মেশানো সুরে তাঁরা বলেন, really it is astonishing. ছবি তুলতে মানা। ভ্রাম্যমান ল্যাবে তখন ব্যস্ত microbiologist রা।  metalurgy, Chemist,  ইত্যাদির টিম।

 

কুম্ভ কথা-১১


ফটু নিকাল না হ্যায় তো বাহার যাও না….ব্যয়ঠে হ্যায় উধার….সব চলে আতে হ্যায়….ক্যায়া হ্যায় ইসমে….বিরক্তিতে বলে ওঠে লাল ভারতী। তুফানে মোবাইল পকেটে। নীলু ও আমার ও ।  ফলে বকুনিটা ভীড় টাকে পাতলা করে দিতেই ঢুকে পড়া গেল  মহারাজের কাছে। ওঁ নমো নারায়ণ। ভূপালে ডেরা। সংস্কৃত মহাবিদ্যালয়ের স্নাতক। দীক্ষা গ্রহণ কালে পিতা মাতা উপস্হিত থেকে ভান্ডারা দিয়েছিলেন। অমর কন্টক পরিক্রমা সেরে সোজা কুম্ভে। পায়ের তলা ফেটে চৌচির। সন্তানের জন্য মন খারাপ হলে পিতা আসেন ভাই কে সাথে নিয়ে অথবা খবর দেন। গ্রামের সীমানায় পৌঁছে দিন দুয়েকের আস্তানা,মিল জুল। বেদ আত্মস্থ করার চেষ্টার রত। ইস জীবন মে অগর কৃপা মিলে তো….। আরে, দাদা ইস সময় কাঁহা যা রহে হো…..প্রসাদ পাকে যাও। ঘি মাখানো গরম গরম চাপাটি , ডাল ,ভাজি, চাওল এর  অমৃত আস্বাদ। পরিবেশন করলেন নিজেই। আরাম করো বেটা থোড়ি দের, ফির নিকাল না। কথা শুরু হয়।  রাজনীতি, সমাজনীতি, রামমন্দির, আধ্ম্যাত্মবাদ, অনুভব নিয়ে অনর্গল লাল ভারতীর পাশে এসে বসে কলেজের বন্ধু। প্রনাম মহারাজ।  স্মিত হাস্যে বলে চলেন নানান গোপন রহস্য। নাগা রহস্য। বসন রাঙালে যোগী মন তো রাঙালে না।  হম তো  কভি নহি যাতে আপকে পাশ…. মাঙতে ভি নহি…. আপলোগই তং করতে হো। হম লোগোঁ কো জানো ফির বাতেঁ করো।  বেকার ফটো নিকালনেসে ক্যা ফায়দা। মুড অফ মহারাজের।

অশ্লীল গালি গালাজ করে বলতে থাকেন আরে ভাই যাও না বড়ে বড়ে পান্ডাল মে…প্রবচন শুনো …
হমে হামরা মাফিক রহনে দো না ভাই।
মাস্টার জি, চায় পিয়েঙ্গে?আরে পিও মহারাজ….।
চা এর সাথে কথার অনুপান, আদান প্রদান। চারটার বিকেল  তখন পথ হাঁটছে থিকথিকে ভিড় কে সঙ্গে নিয়ে।
মোরী মার্গে রামকৃষ্ণ মিশনের আশ্রমে সন্ধ্যা নামে। দীক্ষিত মানুষ মানুষী রা সানগ্লাস কপালে তুলে সুগন্ধ ছড়ায়। পরিচিত জন তখনো আসেন নি। দাতব্য
চিকিৎসালয়ে তখন মনোযোগী চিকিৎসকেরা মানব সেবায় ব্যস্ত।

এই যে দেখছেন  চাঁদবাবা। এবারের কুম্ভের মুখ। দর্শন মেলা দুষ্কর।  বাঙালী শরীর। বিটেক। মেট্রোর চাকুরী, কনট্রাকটরি, কোটি কোটির ব্যবসা ছেড়ে এখন সিদ্ধ মহাত্মা।২৫ বছর আগে গৃহত্যাগ। হরিদ্বারে ১৮ বছর একনাগাড়ে সাধন ।
কখন কোথায় থাকেন কেউ জানে না। স্পর্শে বুঝতে পারেন মনোবাসনা । বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হতে হয়। নাথ সম্প্রদায়ের বরিষ্ঠ সাধু কনিষ্ঠের সম্পর্কে বললেন। হাত জড়ো করে নমস্কার জানালেন চাঁদবাবা কে।  দেখো , অগর মিল যায়ে অউর দো বাঁতে হো যায়ে তো ধন্য হো যাবেগা। সন্ধানে মিলায় সাধু….খাটবে না…..উনি নিজেই খুঁজছেন চাঁদবাবাকে আজ তিন বছর ধরে। চাঁদবাবার কায়াসিদ্ধিও নাকি আয়ত্ত্ব।  তাহলে!!! কি রূপে খুঁজব তোমায় ?মেক আপ আর্টিস্ট দের তুলনা নেই।  নিঁখুত কুষ্ঠ রোগী, ভিখিরী…সার সার বসে সুশৃঙ্খল ভাবে আপনাকে পুন্যের সুযোগ করে দেবার জন্য।  হাত ধরে টানাটানি নেই। পুরো প্রফেশনাল। রোজগার মন্দ হচ্ছে না….। আছে ভান্ডারা লোভী ভন্ড দের ভীড়। কবে কোথায় ভান্ডারা খোঁজ রাখছেন, পৌঁছে যাচ্ছেন যথা সময়ে । রুদালীদের মতো জয়ধ্বনী দিয়ে পুঁটুলি-প্রনামী সংগ্রহের পর যাত্রা অন্য ভান্ডারার দিকে। সবাই সব জানে। তবুও হঠাৎ করেএরই মধ্যেযদি কোনো সিদ্ধপুরুষ উপস্থিত হন … যদি জয় ধ্বনি দেন…যদি…. তব তো লটারী লাগ গয়ী….পাঁচ-দশ -বিশ লাখ-কোই বাত নহি।
নাগা সন্নাসিনী রা নিজেদের মতো করে ধূনির চার পাশে নৃত্যগীতে রত।  না , চমকাবার মতো কিছু নয়।  গেরুয়া বস্ত্রে আচ্ছাদিত ভস্মাবলেপিত শরীর। মুন্ডিতা-জটাধারিণী-গঞ্জিকা সেবন কারিনী মাতা গণ কথা বলতে অনাগ্রহী।  তারই মধ্যে দু এক জন….শান্ত শীতল স্হির দৃষ্টি….দুচার টি কথা…. চেয়ে থাকা….অনুভব….প্রত্যানুভব…..যে যার নিজস্ব ….প্রমানবিহীন….ব্যাখ্যাতীত।

কিন্নর আখাড়া। এই প্রথম কুম্ভে স্নানের অধিকার পেয়েছে।  আনন্দের সীমা নেই। প্রেম বিলাচ্ছেন অকাতরে। নেচে গেয়ে দর্শনার্থী দের বুঝিয়ে দিচ্ছেন  তাঁদের সংঘর্ষের মাত্রা।  পবিত্রা নিম্রোদকর, ময়ুরী মাই ইত্যাদিরা হাসি মুখে অকাতরে সেলফি তুলছেন দর্শনার্থী দের সাথে। সুন্দর শৈল্পিক শিল্পকর্ম , হাতের কাজ, পেন্টিং, দিয়ে সাজানো পুরো পরিসর।অনন্য অভিজ্ঞতা।  খুব ব্যস্ত  তথাকথিত অবমানবরা।  কি মধুর সম্মান।  সমাজ সংসার  এর অনেক ঊর্ধ্বে উচ্চ কোটির মহাত্মাদের নির্নয়ে আজ তাঁরা স্নানের অধিকারী। মহামন্ডলেশ্বর, পীঠাধীশ্বরদের  সান্নিধ্যে কিন্নররা নিজেদের আখাড়ার মর্যাদা রাখার আয়োজনে ব্যস্ত।
সুরক্ষা বাহিনীর তীক্ষ্ণ নজর।
ময়ুরী মাই মিছরি দিলেন খেতে।  ফির আনা।
জরুর , বলে বেরিয়ে আসি কিন্নর আখাড়ার সুন্দর পরিবেশ ছেড়ে।

- Advertisement -
Latest news
Related news