Monday, May 20, 2024

Anish Murder Case: কোন পথে মৃত্যু আনিসের ? উত্তর খুঁজবেন ৩ চিকিৎসক

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: সোমবার কবর থেকে দেহ তুলে নিয়ে গিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য ময়নাতদন্ত হয়েছে আনিসের। আদালতের নির্দেশে ৩জন চিকিৎসক যাঁরা অটোপসি বিশেষজ্ঞ তাঁরাই এই ময়নাতদন্ত করবেন। কেন দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করতে হচ্ছে এখানেই লুকিয়ে আছে ‘আনিস মৃত্যু রহস্য’র গুরুত্ব। দলগত ভাবে শাসকদল তৃনমূল কংগ্রেস এই মৃত্যুকে হত্যা বলে মানতে রাজি নয় কিন্তু সরকারের তরফে এটিকে প্রায় হত্যা বলেই ধরে নিয়েছে। এক হোমগার্ড ও এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছুটিতে পাঠানো হয়েছে আমতা থানার ওসিকে। যে ওসি প্রথম দিনই বলে ফেলেছিলেন যে আনিসের বাড়িতে পুলিশ যায়নি। ওদিকে গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তি বলছেন, তাঁরা বলির পাঁঠা হয়েছেন। ‘বড়বাবু’র নির্দেশেই তাঁরা আনিসের বাড়িতে গিয়েছিলেন কিন্তু বাড়ির ভেতরে তাঁরা ঢোকেননি। বাড়ির ভেতরে অন্যরা গিয়েছিল। আনিসের বাবাও টিআই প্যারেডে জানিয়েছেন গ্রেফতার হওয়া হোমগার্ড বা সিভিক নয় তাঁর বাড়িতে যে চারজন পুলিশ এবং সিভিক ঢুকেছিল তাঁদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া এই ২জন ছিলেননা। কিন্তু তারা কারা? আনিস মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের জন্য গঠিত ‘সিট’ এই উত্তর এখনও পায়নি।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

আনিস মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে দ্বিতীয়বারের ময়নাতদন্তে যে বিষয়টা প্রথমেই সিট জানতে চাইছে, আনিসকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল না সে পড়ে গেছিল? প্রথমেই বলা দরকার আনিসকে ফেলে দেওয়া হোক বা তিনি পড়ে যান কোনও ক্ষেত্রেই পুলিশ এই মৃত্যুর দায়িত্ব এড়াতে পারবেনা যদি এটা প্রমাণিত হয় যে, সেদিন আনিসের বাড়িতে পুলিশ ঢুকেছিল। ঘটনা হচ্ছে আনিসের বাড়িতে যে পুলিশ ঢুকেছিল এটাও প্রাথমিক ভাবে মেনে নিচ্ছে ‘সিট’ যদি তা না’হত তবে পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নিতনা বিশেষ তদন্তকারী দল। পুলিশের উপস্থিতিতে, পুলিশের তাড়া খেয়ে যদি কারও মৃত্যু হয় সেই দায় পুলিশের। সেক্ষেত্রেও পুলিশের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হলেও খুনের দায় বর্তাবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সমস্যা অন্য জায়গায়। যেহেতু আমতা থানার বড়বাবু বা ওসি প্রথমেই বলেছেন যে, আনিসের বাড়িতে ওই রাতে পুলিশ যায়নি তাহলে বুঝতে হবে যে ‘অপারেশন আনিস’ বৈধ পথে হয়নি। আনিসের বিরুদ্ধে কোনও গ্রেফতারি পারওয়ানা, সার্চ ওয়ারেন্ট, পুলিশের পদ্ধতি মেনে অভিযান হয়নি। অর্থাৎ সেক্ষেত্রে পুলিশ চোরের মত, খুনির মত আনিসের বাড়িতে ঢুকেছিল যা বেআইনি যা ট্রেসপাসাস।

দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তে চিকিৎসকরা খুঁজবেন, আনিসের দেহের কোন অংশ আগে মাটি ছুঁয়েছিল, কত ডিগ্রি কোনে আনিস উপর থেকে নিচে পড়েছিলেন। যদি কোনও মানুষ পালানোর জন্য লাফ দেয় নিশ্চিতভাবে তাঁর পা আগে মাটিতে পড়বে। আবার সেটা নাও হতে পারে যেমন কেউ যদি পাইপ বেয়ে নীচে নামতে গিয়ে হড়কে পড়ে যান তাঁর পায়ের বদলে শরীরের অন্য অংশে আঘাত লাগতে পারে। আবার কেউ লাফ দিতে গিয়ে কার্নিশে ঠেকে নীচে পড়লে তার আঘাত অন্য রকম হবে। কিন্তু এসবের থেকে আলাদা হবে যদি কাউকে ছুঁড়ে ফেলা হয় কিংবা ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় যে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ তা’হল কোন কৌণিক দূরত্বে আনিসের দেহ মাটিতে পড়েছিল? কাউকে ফেলে দেওয়া আর পড়ে যাওয়ার মধ্যে এই কৌণিক দূরত্বের ফারাক পড়বেই।

এছাড়াও চিকিৎসকরা যেটা দেখবেন সেটা হল আনিস পড়ে যাওয়া অথবা ফেলে দেওয়ার আগে আনিসকে মারধর করা হয়েছিল কিনা? অর্থাৎ আনিসের দেহে পড়ে যাওয়ার আঘাতের বাইরেও অন্যান্য আঘাত ছিল কিনা? আনিসের বাবার দাবি, একজন পুলিশ আধিকারিক তাঁকে বন্দুকের মুখে নীচে আটকে রেখেছিলেন বাকি ৩জন উপরে উঠে গিয়েছিল। তাঁরাই আনিসকে মারধর করার পর ওপর থেকে ফেলে দেয়। পরে ওই তিনজন নীচে নেমে এসে আধিকারিককে জানায় যে ‘কাজ হয়ে গেছে।’ যদি আনিসের বাবার এই দাবি সত্যি হয় তবে বলতেই হয় যে, আনিসকে ধরতে নয়, মারতেই এসেছিল ওই পুলিশ কর্মীর দলটি। নিশ্চিত ভাবেই সেই প্রশ্নেরও উত্তর মিলবে ময়নাতদন্তে।

- Advertisement -
Latest news
Related news