Friday, April 19, 2024

Bagtui Massacar: ‘খুন হতে পারি,’ আনিসের মতই পুলিশকে জানিয়েছিলেন ভাদু শেখও! গ্রাহ্যই করেননি SDPO

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: ঠিক যেমন ছাত্র নেতা আনিস খান আমতা থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক বা OC কে অভিযোগ করে জানিয়েছিলেন যে তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা তেমনই রামপুরহাটের খুন হওয়া উপপ্রধান ভাদু শেখও যে খুন হতে পারেন এমনটা নিজেই জানিয়েছিলেন রামপুরহাট SDPOকে। ভাদুর সেই চিঠি সম্প্রতি বাইরে এসেছে যা থেকে জানা যাচ্ছে মাত্র কিছুদিন আগেই নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘ওরা আমার গ্রামের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে!’

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
ভাদু শেখের চিঠি

গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসিয়াল লেটার হেডে লেখা সেই চিঠির গুরুত্বই দেননি রামপুরহাট SDPO সায়ন আহমেদ! ভাদু শেখের খুন এবং বগটুই গনহত্যার পর রাজ্য সরকার SDPO সায়ন আহমেদকে সাসপেন্ড করেছে কিন্তু শুধু এই টুকুতেই একজন আইনরক্ষকের শাস্তির পরিমান শেষ হয়ে যায়? উঠেছে প্রশ্ন। ঠিক একই প্রশ্ন উঠেছে আনিস খানের মৃত্যুর পর আমতা থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক দেবব্রত চক্রবর্তীকে সরিয়ে দিলেই তাঁর এই মারাত্মক কর্তব্য গাফিলতির যথাযথ শাস্তি সম্পূর্ণ হয়ে যায়?

রামপুরহাট SDPO সায়ন আহমেদকে আবেদনপত্রে ভাদু শেখ লিখেছিলেন, তাঁর দাদা বাবর শেখ খুন হয়েছিলেন। সেই খুনে অভিযুক্তরা সম্প্রতি জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। এরপরই আরও ভয়াবহ, দুর্ধর্ষ হয়ে উঠেছেন তাঁরা। বগটুই গ্রামের আশেপাশে ঘোরাফেরাও করছেন। ভাদু শেখের বক্তব্য ছিল, ‘আমি আশঙ্কা করছি ওই দুষ্কৃতীরা আমার ভাইয়ের মতো আমাকেও প্রাণে মেরে ফেলতে পারে। আমি এক জনপ্রতিনিধি। বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের দায়িত্বে রয়েছি। আমাকে পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে সুবিচার দিন।’

আনিস খানের চিঠি

পুলিশ নিরাপত্তা না দেওয়ার পর খুন হওয়ার আতঙ্কে ভাদু শেখ নিজেই নিজের অনুগামীদের নিয়ে একটি নিরাপত্তা বলয় গড়েছিলেন। বিশেষ করে ঘরের বাইরে গেলেই সেই বলয় তাঁকে ঘিরে রাখত। খুন হওয়ার দিনও সেই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই ছিলেন ভাদু। কিন্তু একটা জরুরি ফোন এসে যাওয়ায় সামান্য দূরত্বে সরে যান তিনি। আর সেই সুযোগটাই নেয় ওঁত পেতে থাকা দুস্কৃতিরা। হয়ত বা তারাই ফোন করে ভাদুকে নিরাপত্তাবলয়ের বাইরে বের করে নিয়ে গিয়েছিল।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে একজন পঞ্চায়েত উপপ্রধান তথা শাসকদলের নেতা থেকে শুরু করে আনিস খানের মত সাধারণ ছাত্র যদি পুলিশকে জানানোর পরও নিরাপত্তা না পান। তাঁদেরকে সেই আশঙ্কা সত্যি করেই খুন হতে হয় তাহলে প্রশ্ন ওঠে পুলিশের কাজটা তবে কী? ভারতের সংবিধান মোতাবেক পুলিশের প্রধান এবং প্রাথমিক কর্তব্যই হল মানুষের জীবন এবং সম্পত্তির নিরাপত্তা দেওয়া। তা’হলে পুলিশ তা দেয়না কেন? উত্তরটা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বোধহয় নিজেই দিয়ে গেছেন। বৃহস্পতিবার বগটুই গণহত্যাকান্ডস্থল পরিদর্শন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের পুলিশ নির্দেশক বা DG কে নির্দেশ দেন অবিলম্বে আনারুল হোসেনকে গ্রেফতার করতে হবে।

একদা অনুব্রত মন্ডলের পার্টি অফিসে পুলিশ সুপার ও জেলাশাসক! এটাই নাকি রেওয়াজ- নেটদুনিয়া

মুখ্যমন্ত্রীর নিজের ভাষায়, ‘ গ্রামবাসীরা আনারুলকে বলা স্বত্ত্বেও কেন আনারুল পুলিশ পাঠালোনা? আনারুল যদি সময়মত পুলিশ পাঠাত তাহলে এতগুলো মানুষের প্রাণ যেতনা!’ কে আনারুল? মুখ্যমন্ত্রীর নিজের দলের ব্লক সভাপতি। রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী কী তাহলে পুলিশের দায়িত্ব OC ,SDPO র বদলে ব্লক সভাপতি, জেলা সভাপতিদের হাতে অর্পণ করেছেন? বর্তমান রাজ্যে কী তাহলে মানুষকে নিজের জীবনের সুরক্ষার জন্য থানার পরিবর্তে তৃনমূলের ব্লক কিংবা জেলা অফিসে আবেদন করতে হবে?

- Advertisement -
Latest news
Related news