Monday, June 17, 2024

Wild life Pandion haliaetus: সমুদ্র থেকে মাছের হলদিয়ায়র মাছের ভেড়িতে এসে আহত মাছমুরাল! জাওয়াদে কী পথ ভুলে সমুদ্র ঈগল

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রাচীন গ্রীক দ্বীপপুঞ্জের এথেন্স রাজ্যের পৌরাণিক রাজা ছিলেন প্যান্ডিয়ন। প্যান্ডিয়নের ল্যাটিন অর্থ সামুদ্রিক ঈগল। কথিত আছে সমুদ্রের শাসক এই প্যান্ডিয়নের ক্ষুরধার চঞ্চু আর তীক্ষ্ণ ধারালো নখের জন্য তিমিও জলের ওপর মাথা তুলতে ভয় পায়। বাংলার মঙ্গলকাব্যের প্রাচীন সমুদ্র বণিক ধনপতি সওদাগর কিংবা চাঁদ সওদাগররাও সমুদ্রপথে এই প্যান্ডিয়ানকে দেখেছেন। এপার বাংলার আদুরে নামে এরা মাছমুরাল আবার ওপার বাংলায় কেউ ডাকেন কুরাঈগল বলে। মঙ্গলবার এমনই এক মাছমুরাল উদ্ধার হল পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার চৈতন্যপুরের লালপুরে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

জানা গেছে ডানায় আঘাত প্রাপ্ত এই সামুদ্রিক ঈগলটি উদ্ধার হয়েছে লালপুরের বাসিন্দা তপন বর্মনের মাছের ভেড়িতে। অস্প্রে প্রজাতির এই পাখিটিকে আহত অবস্থায়  দেখতে পেয়ে বনদপ্তরে খবর দেন স্থানীয় যুবক পাখিপ্রেমী ধ্রুব সিমলাই। তারপরই হলদিয়ার বালুঘাটা বিট অফিসের কর্মীরা আহত পাখিটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।

উদ্ধার হওয়া মাছমুরাল

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা বনাধিকারিক অনুপম খান বলেন, ‘আহত অবস্থায় একটি অস্প্রেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। পাখিটি কোনও কারণে ডানায় চোট পেয়ে উড়তে পারছিলনা।’ সমুদ্র থেকে ১০০ নটিক্যাল মাইল ভেতরে মাছমুরাল পাওয়াটা একটু আশ্চর্যের। জাওয়াদের কারনে এটি ঢুকে পড়ল তা ভাবার বিষয়।

মাছমুরালের বিজ্ঞানসম্মত নাম ‘প্যান্ডিয়ন হালয়াইতুস’ (Pandion haliaetus)।  পাখিটি অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ, মরু ও মেরু অঞ্চল ছাড়া সমগ্র পৃথিবীতে দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এদের আবাস, প্রায় ৩ কোটি ১৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এদের আবাস। মজার ব্যাপার হল বিশ্ব উষ্ণায়নের সাথে যেমন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নোনাজললের এলাকা তেমনই বিগত কয়েক দশক ধরে ক্রমেই বাড়ছে মাছমুরালের আবাস। ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলাদেশ ছাড়াও উত্তর-পূর্ব ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, লাওস, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও পশ্চিম ইন্দোনেশিয়ায় এদের দেখা যায়।

পক্ষীবিদরা জানিয়েছেন, রাজার মতই সুদর্শন সামুদ্রিক ঈগল মাছমুরাল বা কুরাঈগল লম্বায় প্রায় ৫৫-৫৮ সেন্টিমিটার। এদের শরীরের বেশির ভাগজুড়ের বিস্তৃত ডানা রয়েছে। ডানার দৈর্ঘ্য ৪২-৪৫.৫ সেন্টিমিটার। ওজনে মাঝারি ধরনের মাছমুরাল পাখি ১.৬ কেজি। তবে পুরুষ মাছমুরাল থেকে স্ত্রী মাছমুরালের ডানা বড়। লম্বায় ৪৪.৫-৫১.৮ সেমি.। স্ত্রী পাখি ওজনে প্রায় ২ থেকে আড়াই কেজি। পাখিটির শরীরের তুলনায় মাথা খাটো। মাথায় বাদামি ধূসর রং। আকারে চিলের মতো। এদের পেট সাদা ও পিঠ কালচে বাদামি। ডানা বেশ লম্বা। চোখের সামনে ও পেছনে লম্বা কালো দাগ। লেজ কালচে ডোরা। চঞ্চু কালো। শক্ত-মজবুত ধারালো ঠোঁটের অগ্রভাগ বড়শির মতো বাঁকানো। চোখ হলদে। লম্বা পা সাদা পালকে ঢাকা। পায়ে বাঁকানো কালচে নখ। ঘাড় ও গলা লালচে-বাদামি। পেট সাদা। লেজ বাদামি, বৃত্তাকার ও খাটো।

মাছ ছাড়াও এদের প্রধান খাদ্য তালিকায় রয়েছে সাপ, ইঁদুর। এরা লম্বা ঠোঁটের কারণে দ্রুত শিকার করতে পারে। এরা জলাভূমির গাছের ওপর বসে শিকারের অপেক্ষায় থাকে। শিকার খুঁজে জলাশয়ের ওপর চক্কর মেরে। ওপর থেকে নিশ্চিত হলে কেবল জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিজের ওজনের চেয়ে বেশ কয়েকগুণ ওজনের শিকারকে দুই পায়ে গেঁথে অবলীলায় ডাঙায় কিংবা নিরাপদ জায়গায় নিয়ে খায় এরা। মাছমুরালের প্রজননকাল নভেম্বর থেকে মে। এরা সর্বোচ্চ ২-৪টি ডিম পাড়ে। এক মাসের বেশি সময় তাপ দেয়ার পর ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। দু’মাস বয়সে এরা উড়তে শিখে। সংখ্যায় যথেষ্ট বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা (আইইউসিএন) মাছমুরালকে শঙ্কামুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

- Advertisement -
Latest news
Related news