Wednesday, May 22, 2024

Midnapore Murder: স্বামীর অবর্তমানে বাড়িতে আসর? পশ্চিম মেদিনীপুরে খুন গৃহবধূ, পাশেই মদ মাংস সিগারেট! এক ফুল দো মালির তত্ত্ব স্থানীয়দের

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: আড়াই বছরের মেয়ে কে নিয়ে একাই থাকতেন ঘরে। স্বামী কর্মসূত্রে প্রবাসী আর সেই সুযোগেই ঘরে অন্য পুরুষের আনা গোনা। সোমবার সেই গৃহবধূকেই মৃত অবস্থায় উদ্ধার করল পুলিশ। গলায় গামছা বেঁধে শ্বাসরোধ করার পর গলার নলিও কেটে দেওয়া হয়েছে। দেহ আলু থালু, বসন অসংবৃত। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা খুনই করা হয়েছে যদিও কী কারণে এই খুন তা এখনও বলার মত জায়গায় নেই। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানা এলাকার ৮নম্বর ওয়ার্ডের জয়ন্তীপুর এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে নিহত গৃহবধূর নাম সোমা পাল(২৬)।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে নিহত সোমার স্বামী গোবিন্দ পাল (৩২) সোনার কারিগর হিসাবে মুম্বাইতে কর্মরত। আড়াই বছরের মেয়েকে নিয়ে সোমা একাই থাকতেন। সোমবার সকালে ওই গৃহবধূর কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। বাইরেও দেখা যায়নি। যে ব্যক্তি সকাল বেলায় সোমার মেয়ের জন্য দুধ দিতে আসত সাড়াশব্দ না পেয়ে সেও ফিরে যায়। এরপর প্রতিবেশীরা শুনতে পায় আড়াই বছরের মেয়েটি কান্নাকাটি করছে। এরপরই প্রতিবেশী এক গৃহবধূ সোমার দরজায় ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে যায়। তখনই মহিলা দেখেন শোয়ার ঘরে খাটের পাশে মেঝেতে সোমা পড়ে রয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে ওই গৃহবধূ বাকি প্রতিবেশীদের জানান। খবর দেওয়া হয় চন্দ্রকোনা থানার পুলিশকে,ঘটনাস্থলে চন্দ্রকোনা থানার ওসি রবি স্বর্ণকার স্বয়ং এসে পৌঁছান সহকারীদের নিয়ে।

পুলিশ দেখতে পায় মৃত মহিলার গলায় ধারালো অস্ত্রের দাগ। মেঝেতেই পড়ে রয়েছে সিগারেট ও মদের বোতল। ঘরে মাংস রান্না হয়েছিল বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশের বক্তব্য এটি খুনের ঘটনা ঠিকই কিন্তু কী কারণে খুন তা তদন্ত না করে বলা সম্ভব নয়। আর তার আগে পুলিশ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেতে চায়। পুলিশ এই ঘটনার কথা সোমার স্বামী গোবিন্দ পালকে জানিয়ে তাঁকে দ্রুত বাড়ি আসার জন্য বলেছে। খবর পাঠানো হয়েছে মহিলার বাপের বাড়ি ঘাটাল থানার মনোহরপুরেও।

পশ্চিম মেদিনীপুরের এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “বাড়ির দরজা খোলা ছিল। যার অর্থ ওই ব্যক্তি বা খুনি খুন করার পর দরজা দিয়েই বেরিয়ে গেছে। আমাদের ধারণা ওই ব্যক্তি মৃতার পরিচিত এবং রাতে মৃতাই তাঁকে দরজা খুলে দিয়েছিলেন। এখানে বসে ওই ব্যক্তি মদ্যপান করেছেন, চাট হিসাবে মাংসও ছিল, সিগারেট পাওয়া গেছে। মনে হচ্ছে এমন ব্যবস্থার সঙ্গে ওই গৃহবধূ অভ্যস্থ ছিলেন। গৃহবধূ মদ খেয়েছিলেন কিনা ময়নাতদন্তে পরিস্কার হবে তবে কিছু খাইয়ে দিয়ে খুন করাটা সহজ না’হলে ওই গৃহবধূ চিৎকার চেঁচামেচি করতে পারতেন। শিশুকন্যাটি ঘুমিয়ে থাকায় কিছুই টের পায়নি। আমাদের মনে হচ্ছে গৃহবধূর সাথে প্রণয়ের সম্পর্কের সুবাদেই খুনি এতদূর অবধি এগুতে পেরেছিল। চোর বা ডাকাত লুট করতে এসে মদের আসর বসাবেনা।”
যদি খুনই হয়ে থাকে তবে কেন এই খুন এ নিয়ে মুখ খোলেননি পুলিশের কেউই। পুলিশের তত্ত্ব অনুযায়ী খুনের ২টি মোটিভ থাকতে পারে। এক, গৃহবধূর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে তাঁকে খুন করে সর্বস্ব হাতিয়ে নেওয়া। এক্ষেত্রে পুলিশ জানতে চাইছে বাড়ি থেকে কোনও মূল্যবান কিছু চুরি হয়েছে কিনা? দ্বিতীয়ত হতে পারে গৃহবধূ অন্য কোনও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় কিংবা যে কোনও কারণেই হোক এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছিলেন। হয়ত সেই কারণেই তাঁকে খুন হতে হয়েছে। প্রতিবেশীদের বক্তব্য, সোমা তাঁদের সঙ্গে খুব একটা মিশতনা।
আশেপাশের মানুষের সঙ্গে তেমন সম্পর্ক ছিলনা।আর বাড়িতে স্বামী না থাকার সুযোগ নিয়ে মাঝে মধ্যে অচেনা লোকজন আসত। প্রতিবেশীদের ধারণা প্রণয় প্রতিহিংসা থেকেই এই খুন।

- Advertisement -
Latest news
Related news