Saturday, May 25, 2024

Bomb Blast Killed 2: পূর্ব মেদিনীপুরের সন্ত্রাস কবলিত খেজুরিতে বিস্ফোরণনে ছিন্নভিন্ন ২ দুষ্কৃতি! নিহতরা তৃনমূল আশ্রিত, দাবি বিরোধীদের

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে এক ভয়াবহ বিস্ফোরনে অন্ততঃ ২জনের মৃত্যু হয়েছে বলে একটি অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে। খেজুরি ২
ব্লকের জনকা গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৯৫ নম্বর পশ্চিম ভাঙ্গনমারী বুথের একটি পরিত্যক্ত অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানা গেছে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
তছনছ বিরোধী বাড়ি

স্থানীয় মানুষজন এবং বিরোধীরা দাবী করেছেন ওই পরিত্যক্ত ঘরে কয়েকদিন ধরেই আশ্রয় নিয়েছিল তৃনমূল আশ্রিত কয়েকজন দুষ্কৃতী। এখানে বোমা বাঁধার কাজ করছিল তারা। সেই বোম ফেটেই মৃত্যু হয়েছে অন্ততঃ ২ দুষ্কৃতীর। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কারন ঘটনার পরই বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত ব্যক্তিকে সরিয়ে নিতে দেখেছেন স্থানীয়রা। সোমবার রাত ৮টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে।

খেজুরির বিধায়ক শান্তনু প্রামানিক দাবি করেছেন গত দুদিন ধরে স্থানীয় কয়েকটি গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা বহিরাগত বেশ কয়েকজন ভাড়াটে গুন্ডা আমদানি করে তীব্র অত্যাচার চালাচ্ছে। ওই দুষ্কৃতীরা ৮টি বিজেপি সমর্থক পরিবারের বাড়ী ভাঙচুর করেছে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মারধোরের পাশাপাশি মেয়েদের ওপর অত্যাচার করেছে।

ভেঙে দেওয়া হয়েছে দুটি পা

এই দুষ্কৃতীদের একটি অংশ সন্ত্রাস সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নিয়েই বোমা বানাচ্ছিল ওই পরিত্যক্ত অঙ্গনওয়াড়ি ঘরে। ওই খানেই ঘটনাটি ঘটেছে। বিস্ফোরণে নিহত এক ব্যক্তির নাম অনুপ দাস। ২৮ বছরের এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর হিসাবেই পরিচিত। অন্য নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও উদ্ধার করা যায়নি।

জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ ডাঃ পার্থপ্রতিম দাস জানিয়েছেন। মৃত এক জনের নাম পাওয়া যায়নি। তবে কঙ্কন করণ নামে ৩০ বছরের এক যুবককে গুরুতর আহত অবস্থায় তমলুক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় তাকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ ডাঃ পার্থপ্রতিম দাস জানিয়েছেন। মৃত এক জনের নাম পাওয়া যায়নি। গোটা ঘটনায় থমথমে করছে ওই এলাকায়। এলাকায় শুরু হয়েছে পুলিশি টহল। শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপান উতোর।

বিজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে, ১লা জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবসের নাম করে খেজুরীর গোড়াহাট,কটকা দেবিচক গ্ৰামে রাতের অন্ধকারে বিজেপি কর্মীদের উপর তান্ডব চালায়।

শাসক বিরোধিতার মাশুল

জানুয়ারির প্রথম দিনেই তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসের নামে বিভিন্ন এলাকা থেকে হার্মাদ বাহিনী নিয়ে এসে কটকা দেবীচক গ্ৰামের বিজেপি কর্মীদের রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে লোহার রড, লাঠি দিয়ে তার দুটি পা ভেঙে ঝোপের মধ্যে ফেলে দিয়ে যায়। পরে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় ঊদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে চিকিৎসা করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে তাঁর বাড়িতে যান বিজেপি জেলা সভাপতি সুদাম পন্ডিত, সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার দোলই, বিধায়ক শান্তনু প্রামানিক ও অন্যান্য নেতৃত্ব। বিধায়ক বলেন, ২রা জানুয়ারিতে এলাকার সাধারণ মানুষ এর প্রতিবাদ করায় রাতের অন্ধকারে আবার অত্যাচার চালায়। ৮ থেকে ১০টি বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট হয়। মহিলাদের সম্মানহানি করার চেষ্টা করে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে প্রতিটা ক্ষেত্রেই অভিযোগ জানানো স্বত্ত্বেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। আর সেই কারণেই দুষ্কৃতীদের সাহস দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছে।

বিজেপির আরও দাবি নতুন করে হামলার ছক কষছিল দুষ্কৃতীরা। আর সেই কারণেই বাঁধা হচ্ছিল বোমা। সেই বোমা বাঁধার সময় ঘটে যায় এই বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা। এরপরই তড়িঘড়ি পৌঁছায় তৃনমূলের নেতারা। পৌঁছায় পুলিশও। তারাই বেশ কয়েকটি দেহ এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে গেছে। যদিও ২ জনের দেহ সরাতে পারেনি। এই ঘটনায় এখনও অবধি পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

- Advertisement -
Latest news
Related news