Monday, May 20, 2024

Kolkata Paramedical Protest: দীর্ঘ বঞ্চনার প্রতিবাদে এবার কলকাতার রাজপথে নামলেন প্যারামেডিক্যাল কর্মী ও পড়ুয়ারা

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মঙ্গলবার কলকাতার রাজপথ কাঁপিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে সামিল হলেন প্যারামেডিক্যাল কর্মী ও ছাত্রছাত্রীরা। আক্ষেপ করলেন শুধু চিকিৎসক বানার্স  নয়, তাঁদের ছাড়াও অচল আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা অথচ সর্বাধিক অবহেলার শিকার তাঁরাই। মেডিক্যাল ল্যাবরেটরি টেকনোলজি, রেডিও ডায়গনিস্টিক, অপারেশন থিয়েটার টেকনোলজি থেকে শুরু করে ১৩টি প্যারামেডিক্যাল টেকনোলজি বিভাগ রয়েছে যাঁদের প্রত্যেকের পেশা আলাদা কিন্তু প্রতিটি পেশাই চিকিৎসাবিজ্ঞানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

অথচ পঠন পাঠন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে পেশায় যুক্ত হওয়ার পরও যেন ডাক্তারি দুনিয়ায় তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক এঁরা। পড়ুয়া থাকাকালীন অতি রদ্দিমার্কা হোস্টেল থেকে পেশাগত জায়গায় নেই পর্যাপ্ত বেতন কাঠামো বা সঠিক মর্যাদা। হাজার হাজার সরকারি পদে নেই নিয়োগ। এই সব দাবি নিয়ে মঙ্গলবার রাস্তায় নামলেন প্যারামেডিক্যাল কর্মী ও পড়ুয়ারা।

অল বেঙ্গল প্যারামেডিক্যাল ছাত্র যুব সংগঠন এবং ওয়েষ্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ফোরাম (যুগ্ম মঞ্চ) যৌথ ভাবে এদিন মহানগরের রাজপথ কাঁপিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ প্রদর্শন করল এসএসকেএম বা পিজি হাসপাতালের সামনে। দাবি উঠল আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার এই স্বার্থে ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা এবং পেশাদারদের সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।

সমাবেশ থেকে আরও দাবি উঠেছে PPP মডেলের নাম করে কম বেতনে অস্থায়ী ভাবে প্যারামেডিক্যাল কর্মী নিয়মের চালাকি বন্ধ করতে হবে। পরিবর্তে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ করতে হবে। প্রতিটি স্ট্রিমে নিয়ম করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে এবং পশ্চিমবঙ্গ হেলথ রিক্রুমেন্ট বোর্ডের আওতায় যে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে তা অবিলম্বে সম্পন্ন করতে হবে।

বিক্ষোভ অবস্থানে উপস্থিত নেতৃত্বরা বলেছেন, ‘শুরু থেকেই অবহেলার শিকার হই আমরা। কোনও একটা কলেজের ভবনে নিম্নতম পরিকাঠামোয় জুড়ে দেওয়া হয় আমাদের। আমাদের না আছে পৃথক কলেজ, না পৃথক হোস্টেল। আমাদের ইন্টার্নশিপের বেতনের পরিমান সরকারের বেঁধে দেওয়া দৈনিক নূন্যতম পারিশ্রমিকের চাইতেও কম। আমাদের কাউন্সিলের মাথায় আমাদের পেশার মানুষের পরিবর্তে অন্য পেশার মানুষদের বসানো হয়, যাঁরা আমাদের যন্ত্রনা, আমাদের কষ্ট বুঝতে ব্যর্থ।’

নেতৃত্ব আরও বলেছেন, প্যারামেডিক্যাল কর্মীদের নিয়ে সরকারের সুস্পষ্ট ও সমদরদি নীতি না থাকায় বেসরকারি ক্ষেত্রে হাসপাতাল ও নার্সিং হোম, ডায়গনিস্টিক সেন্টারগুলি মনমর্জি মত বেতন দেয়। প্রচুর পরিশ্রম করায় অথচ শ্রমের মূল্য দেয়না। আমরা চাইছি সরকার নীতি প্রণয়ন করে এক্ষেত্রেও একটি নূন্যতম বেতন মান তৈরি করুন।

মরা সরকারের কাছে এই বিষয়গুলি তুলে ধরেছি বারবার কিন্তু প্যারামেডিক্যাল বলেই বোধহয় সে কথা কর্তাব্যক্তিদের কানে পৌঁছায়না।”

বিক্ষোভ অবস্থান থেকে দাবি করা হয়েছে, ইন্টার্নশিপের পরিমান বাড়িয়ে মাসিক ১০হাজার টাকা করতে হবে। পৃথক কলেজ ও হোস্টেলের ব্যবস্থা করতে হবে। বেতন কাঠামোর সংস্কার করে, উচ্চতর পদ সৃষ্টি করতে হবে। সুনির্দিষ্ট পরিকাঠামো নেই এমন কলেজ ও ভবিষ্যৎ নেই এমন কোর্স বন্ধ করতে হবে।

দাবি উঠেছে, প্যারামেডিক্যালের জন্য পৃথক প্রশাসনিক শাখা তৈরি করতে হবে। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের প্রাপ্য সম্মান ও সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে হবে  ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সমস্ত দাবি না মানলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হওয়ার শপথ নিয়েছেন এই বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী।

- Advertisement -
Latest news
Related news