Sunday, April 14, 2024

Bengal SSC Scame: ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়! চাকরি পাওয়া ৬০৯ জন পাশই করেনি, নাম জড়ালো পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা হোক FIR, সুপারিশ কমিটির

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নিয়োগ (Group D 2016 Scam) মামলার তদন্তে নেমে বিস্ফোরক রিপোর্ট দিল অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগের নেতৃত্বাধীন অনুসন্ধান কমিটি। সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চে রিপোর্ট জমা দিতে গিয়ে অনুসন্ধান কমিটি বলেছে, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অনুমতিতে যুগ্ম সচিব যে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল তা বেআইনি। সরাসরি রাজ্য সরকারের সঙ্গে এই কমিটির সরাসরি কোনও সম্পর্ক আছে কি না সেটাও স্পষ্ট নয়। রিপোর্ট আরও বলা হয়েছে, চেয়ারম্যানকে অন্ধকারে রেখেই দেওয়া হত এই সুপারিশপত্র। এই সুপারিশপত্রের জন্য হিসেব রাখার জন্য আলাদা রেজিস্ট্রার ছিল।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

রিপোর্টে বলা হয়েছে, গ্রুপ-ডি পর্যায়ে নিয়োগে ৬০৯টি ভুয়ো সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছিল। আর এই সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছিল কমিটির প্রাক্তন উপদেষ্টা-সহ একাধিক পদাধিকারীদের নির্দেশেই। উল্লেখ্য ২ দিন আগেই বেনিয়মের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তৃনমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। বলেছিলেন, বেনিয়ম হয়ে থাকলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আমলে হয়েছিল, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর আমলে নয়। সোমবার SSC সংক্রান্ত মামলায় জড়িয়ে গেল প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের তৈরি করা কমিটি বেআইনি বলে মন্তব্য করে এই মামলায় জড়িয়ে ফেলল তাঁর নামও।

রিপোর্টে বলা হয়েছে চাকরি পাওয়া ৬০৯ জন পাশই করেননি। এসএসসি কাণ্ডে বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ করল তদন্ত কমিটি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্যানেলে ওই ৬০৯ জনের র‍্যাঙ্ক বদলানো হয়েছে। তাহলে সেক্ষেত্রে কি পিছনে কোনও প্রভাবশালীর মাথা কাজ করেছেন? এবার এসএসসি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর তৈরি করা সুপারিশ কমিটিই নাকি বেআইনি। রিপোর্ট পেশ করল তদন্ত কমিটি। আরও চাপ বাড়ল স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিনহা-সহ চার কর্তার।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, গ্রুপ ডি-র ক্ষেত্রে এই ৬০৯ জনকেই ভুয়ো নিয়োগ করা হয়েছিল। কমিটির বক্তব্য, ২০১৯ সালে ১ নভেম্বর একটি সুপারিশ কমিটি তৈরি হয়েছিল। তারাই গ্রুপ ডি নিয়োগের ক্ষেত্রে এই ৬০৯ জনের প্যানেল তৈরি করেছিল। এক্ষেত্রে দফতরের প্রথম সারির বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। মূলত তাঁদের সুপারিশেই তৈরি হয়েছিল প্যানেল। আর সেগুলিকে রেজিস্ট্রারে নথিভুক্তও রাখা হয়েছিল। শর্মিলা মিত্র, সুবিলেশ ভট্টচার্য, মহুয়া মৈত্র, অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শেখ সিরাজউদ্দিনের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা যেতে পারে। অন্যদিকে সমরজিৎ আচার্য ও শান্তিপ্রসাদ সিনহার বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ আদালতের। আদালত বলছে, তাঁরাই মূলত ভুয়ো সুপারিশ পত্র তৈরি করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভুয়ো নথি বানানোর অভিযোগে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হতে পারে।

গত শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছিল। তদন্ত কমিটির পেশ করা রিপোর্টেও স্পষ্ট হল, একক বেঞ্চের পর্যবেক্ষণই সঠিক। একাধিক দুর্নীতি হয়েছে নিয়োগে। এবার প্রশ্ন, কী পদক্ষেপ করা হতে পারে আদালতের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে? এক, পাশ না করেই যাঁদের নিয়োগ হয়েছিল, তাঁদের চাকরি বাতিল করে দেওয়া হবে। আর যাঁরা মামলা করেছেন, তাঁদের জন্য নতুন প্যানেল তৈরি করে নিয়োগ করা হবে। কিন্তু বিষয়টা এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এই দুর্নীতিতে বোর্ডের রাঘব বোয়ালদের যোগ থাকার প্রমাণ আরও সুদৃঢ় হচ্ছে, সেক্ষেত্রে তাঁদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেটা দেখার।

এই ঘটনার এতদিন পর্যন্ত কোথাও প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম আসেনি। তবে এদিনের শুনানিতে এসেছে। অভিযোগ যে,নিয়োগের আগে যে সুপারিশ কমিটি তৈরি হয়েছিল, তা হয়েছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশ মাফিক। এ প্রসঙ্গে আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত বলেন, “আদালত সুপারিশ কমিটি গঠনের বিষয়টিকেই বেআইনি বলেছে। কারণ কেউ এই কমিটি গঠনই করতে পারে না। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই কমিটি কোনও সরকারি আদেশে হয়নি। মন্ত্রীর নির্দেশে জয়েন্ট সেক্রেটারি করেছেন। তাই এই কমিটিই বেআইনি।”

এই রিপোর্টের পর বন্ধ হওয়ার মুখে ওই ৬০৯ জনের বেতনও। উল্লেখ্য ইতিমধ্যেই ৯৮ জনের বেতন বন্ধ করে তাঁদের স্কুলে যেতে বারণ করেছে কলকাতা উচ্চ আদালত।রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, এসএসসির প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিনহা এবং সমরজিৎ আচার্য ভুয়ো সুপারিশপত্র তৈরি করেছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং ভুয়ো নথি বানানোর জন্য ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় FIR দায়ের করা উচিত বলে মনে করেছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির অনুসন্ধান কমিটি।

- Advertisement -
Latest news
Related news