Wednesday, May 22, 2024

Kolkata Tragic Death : জমা জলে নগর জুড়ে বিদ্যুতের মৃত্যু ফাঁদ! একের পর এক মৃত্যু! জনতার ক্ষোভের মুখে পালালেন মন্ত্রী আর সাংসদ

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: জমা জলে শহর বেছানো মৃত্যু ফাঁদ। একের পর এক মৃত্যু। মাত্র ৪৮ ঘন্টায় চলে গেছে ৬টি প্রাণ। মৃত্যু হয়েছে একই পরিবারের ৩জন। অনাথ হয়ে গেছে ৪বছরের শিশু।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে শশ্মানে পাঠানো হল লাল টেডিকেও। ওকে ছাড়া যে সে ঘুমাতে পারতনা

মৃত্যুর তালিকায় ৪ নাবালক নাবালিকা পড়ুয়া কিন্তু হেলদোল নেই প্রশাসনের, গাফিলতির অভিযোগে কেউ অভিযুক্ত হয়নি। মিডিয়ারও খুব বেশি গা নেই। কারন, মাত্র ক’দিনের মাথায় ভবানীপুর উপনির্বাচন। যে নির্বাচনে লড়ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর যে ৩০শে সেপ্টেম্বর ওই নির্বাচন সেদিনই ছিল শ্রেয়ার জন্মদিন।

শ্রেয়া বণিক, ১৪বছরের যে কিশোরী বুধবার মারা গেছে বান্ধবী অনুষ্কাকে বাঁচাতে গিয়ে। ওই দুই পরিবারের কাছে স্বান্তনা আর ৪লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের আশ্বাস নিয়ে গিয়ে জনতার তাড়ায় কার্যত এলাকা ছেড়ে পালাতে হল রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও সাংসদ সৌগত রায় কে।

কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিজন, পড়শিরা

মঙ্গলবার খড়দহে মৃত্যু হয়েছিল ১০বছরের কিশোর আর তার বাবা-মার। বাড়ির জমা জলে দাঁড়িয়ে প্ল্যাগে হাত দিয়ে একের পর এক মৃত্যু। অনাথ হয়ে গেছে ওই পরিবারের ৪বছরের শিশু। ওইদিন টিটাগড়ে ফের মৃত্যু আরেক কিশোরের। দিদিকে টিউশনিতে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে জমা জলে পা দিয়ে মৃত্যু হয় কিশোরের।

তারপর দমদমের বান্ধবনগরে জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় শ্রেয়া আর অনুষ্কা। তাঁদের বাড়িতেই ক্ষতিপূরণ নিয়ে সমবেদনা জানাতেই গিয়েছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। সেখানে তাঁদের জনতার ক্ষোভে মুখে পড়তে হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে সাংসদ ও মন্ত্রীকে তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় নিরাপত্তারক্ষীরা।

মৃত দুই কিশোরীর পরিবার জানায়, তাঁদের দুই লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলেছিলেন সাংসদ ও মন্ত্রী। তাঁরা ওই ক্ষতিপূরণের টাকা নিতে অস্বীকার করে পাল্টা ৪ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলে। মৃতার পরিবার পাল্টা জানায়, আমরা ৪ লক্ষ টাকা দিচ্ছি আমাদের মেয়েদের ফিরিয়ে এনে দিন।

উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধ্যাবেলায় অনুষ্কা নন্দী ও শ্রেয়া বণিক দুই বান্ধবী মিলে বাড়ির কাছেই জলমগ্ন একটি রাস্তায় বের হয়। সেখানে তাঁরা লাইটপোস্টে হাত দিতেই বিপত্তি ঘটে। হাত আটকে গিয়ে তাঁরা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। মুখ থেকে বের হতে থাকে ফেনা। তৎক্ষণাৎ তাঁদের উদ্ধার করে আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা দুজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করে। এরপর গোটা এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিস্থিতি উত্তাল হতেই ঘটনাস্থলে মোতায়েন হয় পুলিশ।

ভবানীপুরের ভোটের দিন ৩০ সেপ্টেম্বর ছিল শ্রেয়ার জন্মদিন। কিন্তু এবার আর তাঁর জন্মদিন পালন হবে না। এভাবে দুটি ফুটফুটে প্রাণ চলে যাওয়াতে যেমন শোকার্ত হয়েছে দুই পরিবার, তেমনই চোখের জল ফেলছে পাড়া, প্রতিবেশীরাও। মৃত দুই কিশোরীর পরিবারকে আজ সমবেদনা এবং ক্ষতিপূরণ দিতে গিয়েছিলেন মন্ত্রী ও সাংসদ। কিন্তু ক্ষোভের মুখে পড়ে তাঁদের এলাকা ছাড়তে হয়।

ঘটনার জন্য প্রকৃতির ওপরেই পুরো দোষ চাপিয়ে খালাস রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। হাকিম জানিয়েছেন, গত ৩০বছরে এমন বৃষ্টি হয়নি। আর উত্তরাখণ্ডের সমস্ত জল গঙ্গা দিয়ে নামায় গঙ্গা ফুলে থাকায় কলকাতা মহানগরের জল নামতে পারছেনা।

- Advertisement -
Latest news
Related news