Monday, May 20, 2024

Sexual Harassment: প্রধান শিক্ষকের ‘যৌন লালসা’ থেকে বাঁচতে বদলি চান শিক্ষিকা! চিঠি লিখলেন ব্রাত্য বসুকে

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: দুরদুরান্তের শিক্ষক শিক্ষিকা শিক্ষাকর্মীদের বাড়ির কাছাকাছি আসার জন্য শুরু হয়েছে উৎসশ্রী। অগ্রাধিকারে রয়েছেন শিক্ষিকারা। কিন্তু এখনও চুক্তি ভিত্তিক শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্য তেমন সুযোগ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে সরাসরি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীকেই বদলির আবেদন জানিয়ে চিঠি লিখলেন এক চুক্তিভিত্তিক শিক্ষিকা। আর দুরের জন্য বদলি চান প্রধান শিক্ষকের যৌন লালসা থেকে বাঁচতে! এমনি এক ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তোলপাড় রাজ্যের শিক্ষা মহল। শুরু হয়েছে ওই প্রধান শিক্ষক বনাম শিক্ষিকার চাপান উতোর।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে চিঠি লিখে পূর্ব বর্ধমান জেলার একটি বিদ্যালয়ে কর্মরত বোলপুর নিবাসী ওই শিক্ষিকা ওই চিঠি পাঠিয়েছেন ব্রাত্যকে। বলেছেন, প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে মিলছে কু-প্রস্তাব।
চুক্তির ভিত্তিতে কর্মরত ওই শিক্ষিকার অভিযোগ, বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বসার জায়গায় সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। তার মাধ্যমে তাঁকে দেখে প্রধান শিক্ষক ‘যৌন লালসা মেটান’। এই অভিযোগের সূত্র ধরেই বোলপুরের কাছাকাছি কোনও বিদ্যালয়ে বদলির জন্য আবেদনও করেছেন অভিযোগকারিণী।

গত মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রীকে পাঠানো ওই চিঠির প্রতিলিপি দেওয়া হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক এবং শিক্ষা দপ্তরের অন্য আধিকারিকদেরও। যদিও ওই শিক্ষিকার সমস্ত অভিযোগ ‘মিথ্যা’ এবং ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে জানিয়েছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। পাল্টা তিনি ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আউশগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। শিক্ষামন্ত্রীকেও চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে ওই শিক্ষিকা অভিযোগ করেছেন, প্রধান শিক্ষক তাঁর উপর ‘নানা ভাবে নির্যাতন’ চালাচ্ছেন।

ওই শিক্ষিকা লিখেছেন , ‘উনি বহু দিন ধরে আমাকে নানা কুপ্রস্তাব দিতেন। তাতে আমি রাজি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাকে প্রতি পদে অপদস্থ এবং হেনস্থা করেন। যার ফলে আমি সব সময় আতঙ্কে থাকি। সুস্থ ভাবে চাকরি অবধি করতে পারছি না।’ চিঠিতে শিক্ষিকার দাবি, ওই বিদ্যালয়ে তিনি ১৭ বছর ধরে চাকরি করছেন। ওই শিক্ষিকা আরও লিখেছেন, ‘আমি প্রতি দিন ৪০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সকাল সাতটার ট্রেন ধরে সকাল ন’টার মধ্যে বিদ্যালয়ে পৌঁছই।’ তাঁর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক ‘শুধুমাত্র বেলা সাড়ে তিনটের সময় একটি ক্লাস দেন এবং সাড়ে চারটে অবধি বসিয়ে রাখেন। এমনকি স্টাফরুমে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে সেই ক্যামেরার মাধ্যমে আমাকে দেখতে থাকেন এবং ওই ভাবে নিজের যৌন লালসা মেটান।’

জানা গেছে স্বামী এবং ছয় বছরের একটি শিশু কন্যা রয়েছে ওই শিক্ষিকার। শিক্ষামন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে সে কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, প্রাপ্য ছুটি তাঁকে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর আরও অভিযোগ, কোভিড পরিস্থিতিতে ট্রেন-বাস না চলার দরুন স্কুলে উপস্থিত না হতে পারায় বেতন কেটে নেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের কড়া শাস্তির দাবিও তুলেছেন ওই শিক্ষিকা।

একটি সংবাদমাধ্যমকে ওই শিক্ষিকা বলেছেন, ‘‘আমি সামান্য বেতনে ওই স্কুলে চাকরি করি। স্কুলটিকে ভালবেসেই ১৭ বছর ধরে চাকরি করছি। কিন্তু উনি প্রধান শিক্ষক হয়ে আসার পর থেকে আমি সম্মানের সঙ্গে চাকরি করতে পারছি না। আমাকে একটি বিয়েবাড়িতেও কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন উনি। এর আগে এক দিদিমণির শ্লীলতাহানিও করেছিলেন। সে সময় উনি হাতেপায়ে ধরে বিষয়টি মিটিয়ে নেন। তবে আমি এর শেষ দেখতে চাই।’’

 

- Advertisement -
Latest news
Related news