Monday, June 17, 2024

Jangalmahal Festival: পৌষের সংক্রান্তি কাটিয়ে পয়লা মাঘেই কুড়মিদের নববর্ষ, জঙ্গলমহলে এদিনও উৎসবের ধুম

- Advertisement -spot_imgspot_img
কুড়মি ক্যালেন্ডার

নিজস্ব সংবাদদাতা: কৃষি মাতৃক ভারত, সেই কৃষি আবার প্রকৃতি নির্ভর। বৃহৎ ভারতে প্রকৃতি বৈচিত্র্যময়, একেক স্থানে একেক রকম। কৃষিকাজ শুরু থেকেই বছরের শুরু হত এক সময়। সে ভাবেই তৈরি হত বর্ষপঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডার। সময়ের সাথে প্রকৃতি বদলেছে, হাজার বছর পেরিয়ে বদলেছে সূর্যের অবস্থান কিন্তু রয়ে গেছে মানুষের আচার, সংস্কৃতি। এক সময় অঘ্রানে বছর শুরু হত বলে বছরের নাম হয়েছিল অগ্রহায়ন। তারপর বছর শুরু হয়েছে মাঘ মাসে, বছরের শুরুর মাস তাই মাসের নাম মাঘশীর্ষ। এখন বছরের শুরু বৈশাখে। হাজার বছর আগে সূর্যের উত্তরায়ন শুরু হত মাঘের শুরুতে। ইংরেজি হিসাবে ১৫ই জানুয়ারি কিংবা একদিন এদিক ওদিক। দিন বাড়তে শুরু করত, রাত ছোট। পর্যাপ্ত সূর্যালোক তাই অঙ্কুরোদগম থেকে ফসলের বৃদ্ধি সবেতেই সুবিধা। পৌষের বিদায় আর মাঘের শুরুতে তাই আনন্দ, তাই পরব। বিজ্ঞান মতে এখন যদিও ২২শে ডিসেম্বর উত্তরায়ন শুরু হয় তবুও আচার আর উৎসব থেকে গেছে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
কৃষি কাজের শুরু করছেন কুড়মি কৃষক

পুরানো সেই রীতি মেনেই ১৫ই জানুয়ারি কুড়মালী নববর্ষ।২৭৭২ কুড়মাব্দ। ভারতবর্ষের আদিমতম অধিবাসী মাহাত কুড়মী সম্প্রদায় মধু মাস, বিহা মাস, মওহা মাস, নীরন মাস, ধরন মাস, বিহন মাস, রপা মাস, করম মাস, টান মাস, সহরই মাস, মাইসর মাস, জাড় মাস-এই বারমাসে বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক আচার অনুষ্ঠানে মেতে থাকেন।সবগুলোই মূলত প্রকৃতি কেন্দ্রিক।মকরসংক্রান্তিতে পিঠে পুলি খেয়ে টুসু ভাসিয়ে বছর শেষ করেন।

গৃহলক্ষীর গো-বন্দনা

তাঁদের আজও বিশ্বাস এই দিনই সূর্য দক্ষিণায়ণ থেকে উত্তরায়ণ যাত্রা শুরু করে অর্থাৎ অক্ষায়ণ আর এই অক্ষায়ণ থেকেই আইখ‍্যান যাত্রা।এই দিন সকালে কাস্তে গরম করে চিড়ুদাগ দেওয়া হয়, তাছাড়া অনেকে বাইটা দিয়ে দড়ি তৈরী করেন আর সারা বাড়িতে লাতা দিয়ে পরিস্কার করে স্নান সেরে ভিজে কাপড়ে গরু বা মোষকে লাঙ্গল জুড়ে জমিতে আড়াই পাক লাঙ্গল করে বাড়িতে ফিরে।একে বলা হয় হালচার বা হালপুইন‍্যা।

স্নান সেরে ভিজে কাপড়ে বাড়িতে বরণ উপাচার হাতে অপেক্ষা করেন বাড়ি বউ।তাদের পা ধুইয়ে সিঙে তেল সিন্দুর মাখিয়ে বরণ করে যত্ন সহকারে মান(বেতের তৈরী পাত্র)-এ করে খাওয়ানো হয়।আর এভাবেই কৃষিকাজের শুভসূচনা করেন কুড়মী সম্প্রদায়ের মানুষ। পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া তথা জঙ্গলমহল ছাড়াও উড়িষ্যা, বিহার,ঝাড়খণ্ড এবং আসাম অর্থাৎ সমগ্র ছোটনাগপুরের কুড়মী সম্প্রদায়ের মানুষ পালন করে এই রীতি।

আইখান

আদিবাসী কুড়মী সম্প্রদায়ের শিক্ষক বিপ্লব মাহাত বলেন,আমরা ভারতবর্ষের আদিমতম অধিবাসী। আমরা প্রকৃতির পূজারী। প্রকৃতিরই একটা অংশ কৃষি। কৃষক ছাড়া আমাদের অন্ন যোগানোর বিকল্প নেই। আমরা কৃষি ভিত্তিক। তাই আমাদের এই কুড়মাব্দের প্রথম দিনটিকে আমরা শুভদিন হিসাবেই ধরেই কৃষি কার্যের শুভসূচনা করি।তাছাড়াও সারাগ্রামের মঙ্গলার্থে সবগ্রামে আজ গরাম পূজাও হয়।

জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছেন এই কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষেরা। এখানকার সংস্কৃতিতে তাই আজও এঁদেরই প্রাধান্য বেশি। স্বাভাবিক ভাবেই গোটা জঙ্গলমহল ও তার আশেপাশে আজ নববর্ষ পালনের ধুম লেগেছে। নিজ নিজ সাধ্যমত চলেছে উৎসব আয়োজন। প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে এবছরও প্রকাশ পেয়েছে কুড়মি জনজাতির নতুন ক্যালেন্ডার।

- Advertisement -
Latest news
Related news