Saturday, April 20, 2024

Blood Donation: এসেছে রক্তদানের ডাক, পাঁশকুড়া থেকে বাইকেই আরামবাগ! দুই মেদিনীপুর ও হুগলীকে মেলালেন শিক্ষক

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: খুব সুপরিকল্পিত ভাবেই কিনা এখুনি বলা মুশকিল কিন্তু কোথাও যেন শিক্ষক সমাজের প্রতি একটা তাচ্ছিল্য কিংবা সরাসরি বলতে গেলে ঘৃণার চোরা স্রোত বইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু শিক্ষক যে শিক্ষকই তা আরও একবার প্রমান করে দিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের এক শিক্ষক। ডাক এসেছিল রক্তদানের। আরামবাগের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন এক মুমূর্ষু মহিলার জটিল অপারেশনের জন্য দরকার রক্ত। আর সেই ডাকেই সাড়া দিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া থেকে বাইকে প্রায় ৭০ কিমি রাস্তা উজান বেয়ে হুগলী জেলায় গিয়ে রক্তদান করে এলেন ময়নার রাধাবল্লভচক সারদাময়ী বিদ্যাপীঠের রসায়নের শিক্ষক আলোক মাইতি।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

আবেদনটা এসেছিল বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ঝিলিক দত্তের কাছ থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা থানার রাইখা গ্রামের বাসিন্দা ঝিলিক জানিয়েছিলেন তাঁর মা সুমিতা দত্ত
আরামবাগের একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে দিন কয়েক হলো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর জরুরি অপারেশনের প্রয়োজনে ও পজেটিভ গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন ছিল। মায়ের চিকিৎসার জন্য রক্তের প্রয়োজনে সুমিতা দেবীর কন্যা বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী ঝিলিক দত্ত যোগাযোগ করেন মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্রের সদস্য,রক্তদান আন্দোলনের কর্মী শিক্ষক সুদীপ কুমার খাঁড়ার সাথে।

সুদীপবাবু সমাজ সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান মেদিনীপুর ক্যুইজ কেন্দ্রের অন্যতম সদস্য। বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা পাশাপাশি রক্তদাতা বন্ধুদের ও রক্তদান আন্দোলনের কর্মীদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন। সুদীপবাবুর ফোন পেয়েই নিজেই আরামবাগে গিয়ে রক্তদিতে রাজী হয়ে যান আলোকবাবু। আলোকবাবু নিজেও মেদিনীপুর ক্যুইজ কেন্দ্রের সদস্য। সুদীপের ডাকে সাড়া দিয়ে
তিনি অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই ওই কেন্দ্রের আরেক সদস্য শুভাশীষ প্রধানকে সাথে নিয়ে বাইকে রওয়ানা দেন আরামবাগের উদ্দেশ্য।দুপুরে আরামবাগ ব্লাড ব্যাংকে পৌঁছে রক্ত দান করেন।

একসময় আরামবাগের পার্শ্ববর্তী এলাকা হুগলী জেলার বড়ডঙ্গল রমানাথ ইনস্টিটিউশনে পড়াশোনা করা আলোক মাইতি। রোগীর পরিবারের সদস্যরা আলোকবাবু ও শুভাশীষ বাবুকে ধন্যবাদ জানান। সুদীপবাবু অলোকবাবুর রক্তদানের বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করলে নেটিজনেরা আলোকবাবুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা মুগ্ধ শুধু রক্তদানের জন্যই নয়, সে তো আছেই। তারসাথে ওই রক্তদান মিলিয়ে দিল ৩ জেলাকে। আর আরও একবার প্রমান হল শিক্ষকরা আছেন শিক্ষক হয়েই।

- Advertisement -
Latest news
Related news