Monday, May 20, 2024

West Midnapore: ৩৫ বছর পর ভয়াবহ বন্যা সবং-পিংলা-নারায়নগড়ে! জলবন্দি সাড়ে ৫লক্ষ মানুষ! ক্ষতিগ্রস্ত ৭৪ হাজার বাড়ি, ৩দিনে ১৩মৃত্যু জেলায়, ভয়াবহ অবস্থা সবং পিংলা নারায়নগড়, পটাশপুরের

- Advertisement -spot_imgspot_img
নামল NDRF

নিজস্ব সংবাদদাতা: এখনো অবধি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সাড়ে ৫ লক্ষ মানুষ জলবন্দী যার মধ্যে শুধু ২লক্ষ মানুষ জলবন্দি হয়ে রয়েছেন সবংয়েই। পিংলাতেও প্রায় ১লক্ষ মানুষ জলবন্দী। মোট ১১জায়গায় বাঁধ ভেঙেছে সবং ও পিংলা মিলিয়ে। ৬ জায়গায় কেলেঘাই, ৪ জায়গায় কপালেশ্বরী এবং শুক্রবার বিকালে ভেঙেছে চন্ডিয়া নদীর বাঁধ আর তার জেরে ভাসতে চলেছে পিংলার মালিগ্রাম, বাখনাবড়া আর জলচকের প্রায় ৫০টি মৌজা।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
জলের খোঁজে

সবংয়ের চাউলকুড়ি, দশগ্রাম, সারতা সহ ৪টি গ্রামপঞ্চায়েত পুরোপুরি জলের তলায়। সবংয়ের ৩১২টি গ্রামের ৩০০টি গ্রামের ৬০হাজার বাড়িই জলমগ্ন। ১৬টি খালের মধ্যে প্রলয়ঙ্করী অবস্থা ৭টি খাল সরিষা, দেউলি, কনাই, আমড়াখালি, গণপত, দেবী এবং কালচিতির। পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের মধ্যে যোগাযোগ কারি সমস্ত বাঁশের সাঁকো ও কাঠের পুল ভেঙে অথবা ভেসে গিয়েছে।

জলের তলায় সংসার

সবংয়ের বিধায়ক তথা রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী মানস ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ‘ ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে সবং। ১৯৮৬ সালের পর এমন বন্যা দেখেনি মানুষ। আড়াই দিনে ৪০০মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে যা কুড়ি বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। সমস্ত পানীয় জলের উৎস জলের তলায়। এখনও অবধি ৬টি কমিউনিটি কিচেন তৈরি করে ত্রাণশিবির ও জলবন্দি মানুষকে খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১লক্ষ জলের পাউচ চেয়ে পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছে। আমনধান, মদুর কাঠি, সবজি ক্ষেত সমস্ত জলের তলায়। গবাদি পশুদের জন্য খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে।’

ইটভাটাই সর্বনাশের মূলে

সমগ্র পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এখনও অবধি ১৩জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবারই চার জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এরমধ্যে সবংয়ের ২জন, নারায়নগড় ও ডেবরায় ১জন করে। এই গোটা পরিস্থিতির জন্য সাধারণমানুষ দায়ি করেছেন কেলেঘাই ও কপালেশ্বরী নদীর সংযোগস্থলে নদী গর্ভে অবস্থিত একাধিক ইটভাটা ও বেআইনি মাছের ভেড়িকেই। ইটভাটাগুলিতে জমে থাকা মাটি ও ইটের জন্য ওই দুই নদীর জল নামতে পারছেনা হলদি নদীতে। এদিকে কেলেঘাই কপালেশ্বরী সংস্কারের জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্যের বরাদ্দ প্রায় ৭০০ কোটি টাকায় সংস্কার হয়নি লাঙলকাটা এলাকায় প্রায় দেড় কিলোমিটার জায়গা সংস্কার করা হয়নি। ওখানেই জল ফুলে নদীর দুদিকে প্রায় চারটি জায়গা ভেঙে জল ঢুকছে সবং, পটাশপুর, ভগবানপুরে।

এখনও অবিরাম বৃষ্টি চলছে ওই এলাকায়। বাঁধের ওপর আশ্রয় নেওয়া মানুষরা বিপদে পড়েছেন নতুন করে কারন বেশ কিছু জায়গায় বাঁধের ওপর জল উঠতে শুরু করায় পা ফেলার জায়গা নেই। এই বৃষ্টির মধ্যেও হাজার হাজার মানুষ নেমেছেন বাকি বাঁধগুলি রক্ষার জন্য। জেলা প্রশাসনের তরফে চারটি ভুটভুটি নামানো হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই NDRF ও SDRF নেমেছে বিপর্যস্ত মানুষকে সাহায্য করার জন্য। শিশু এবং গর্ভবতী মায়েদের সরিয়ে আনার কাজ করছেন তাঁরা। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার পরিদর্শন করেছেন দুর্গত এলাকা।

- Advertisement -
Latest news
Related news