Saturday, April 20, 2024

Teacher Suicide: তিনবছরেও মেলেনি পেনশন, শিক্ষারত্ন শিক্ষক ঝুললেন গলায় দড়ি দিয়ে ! বাকস্তব্ধ শিক্ষক সমাজ

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: তিন বছর ধরে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন কিন্তু চালু হয়নি পেনশন। সংসার চলত তাঁরই উপার্জনে। পেনশন না পাওয়ায় শুরু হয়েছিল আর্থিক সঙ্কট। এরপরই মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী হলেন হেয়ার স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
ঘরে সাজিয়ে রাখা শিক্ষারত্ন পাওয়ার ছবি ও সরকারি মানপত্র

২০১৯ শিক্ষারত্ন উপাধি পেলেও অবসরের তিনবছর পরেও জোটেনি পেনশন। তার জেরেই মানসিক অবসাদ বলে মনে করছেন পরিজনরা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে

মৃতের নাম সুনীল কুমার দাস (৬৩)। মঙ্গলবার নিজের বাড়িতেই গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়েন তিনি।

এদিকে তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া পূর্ব বর্ধমানের দেবীপুরের রাজবাগান এলাকায়। পরিবার সূত্রে খবর, বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকতা করার পর শেষমেশ কলকাতার হেয়ার স্কুলে পড়াচ্ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই তিনবছর আগে অবসর গ্রহণ করেন। পারিবারিক কোনও অশান্তি ছিল না বলে খবর। তাঁর দুই মেয়ে রয়েছে। দু’জনরই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ছেলে। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, তিনি তাঁর মনের কথা কাউকেই জানতে দেননি। ধীরে-ধীরে মুষড়ে পড়ছিলেন। শেষমেশ এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নেন। জানা গিয়েছে, সুনীলবাবু ২০১৯ সালে শিক্ষারত্ন উপাধি পান।

প্রয়াত শিক্ষকের স্ত্রী বলেন, ‘মাঝে-মধ্যেই বিকাশ ভবনে যেতেন। কারোর সঙ্গে দেখা করতেন। কিন্তু কোনও কাজ হচ্ছিল না। আমার মনে হয় পেনশনের জন্যই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এই বিষয়ে আমার সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছিলেন যে পেনশন পেতেন না ঠিকমত। সংসার চলবে কী করে। আমরা চাই উনি অন্তত পেনশনটুকু পান।’ প্রয়াত শিক্ষকের আত্মীয় বলেন, ‘অবসর গ্রহণের তিন বছর পরও মেলেনি পেনশন। সেই কারণে মানসিক রোগে ভুগছিলেন তিনি। উনি খুবই ভাল। ওনার কাছে আমরা পড়াশোনা করেছি। আমাদের খুবই খারাপ লাগছে। ওনার স্ত্রী, ছেলে রয়েছে। সেই কারণে যদি পেনশনের বন্দোবস্ত করা হয় তাহলে পরিবার উপকৃত হবে।’

গোটা ঘটনায় রীতিমতো উদ্বিগ্ন শিক্ষক মহল। মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলির প্রধানদের সংগঠন ‘অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসস্’-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার মাইতি বলেন, “আমরা প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মহাশয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করছি।পরিবারের লোকজনের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।এই মৃত্যুর জন্য যে বা যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি এবং আর এক জনও প্রধান শিক্ষক- শিক্ষিকা বা পেনশন প্রাপকদের সাথে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে তার যথোপযুক্ত,দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা দপ্তরকে আবেদন জানাচ্ছি।”

শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ” রাজ্যে এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং হৃদয় বিদারক। একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বা কর্মচারী কেন অবসর গ্রহণের পর সাথে সাথে পেনশন পাবেন না? কেন আজও হন্য হয়ে অফিসে অফিসে দৌড়াতে হবে পেনশনের জন্য? এ আমাদের লজ্জা। প্রতিটি দপ্তরে ঘুঘুর বাসা তৈরি হয়েছে। কেন তাঁকে এবং তাঁর মত অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মচারীদের অবসরের পরেই পেনশন দেওয়া হচ্ছে না তার তদন্ত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। শিক্ষারত্ন পাওয়া প্রধান শিক্ষক মশাইয়ের প্রতি যদি এই আচরণ করা হয় তাহলে সাধারণ শিক্ষক, কর্মচারীদের প্রতি আচরণ কেমন হয়ে থাকে তা সহজেই অনুমেয়।”

শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘তোলা না দিলে সরকারি কর্মচারি পেনশন পাবেন না। এমনটাই ইঙ্গিত এই ঘটনায়। এর জন্য অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া দরকার। পার্থবাবুদের মতো অনেকের দশা দেখেও শিক্ষা হয়নি। এখনও চলছে তোলাবাজির খেলা।সেই কারণে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত।’ এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা দফতর। শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যেই জরুরি ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, স্কুল শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি কমিটিতে থাকবেন অর্থ দফতরের আধিকারিকরাও।

- Advertisement -
Latest news
Related news