Wednesday, May 22, 2024

Bloody Attacked: বাঁচালো শীতের পোশাক! পিংলায় ৩ জনকে ভোজলি মেরে ফেরার ‘মহিলা কারবারে’ অভিযুক্ত

- Advertisement -spot_imgspot_img

শশাঙ্ক প্রধান: শীতের পোশাক না থাকলে নির্ঘাৎ ভুঁড়ি ফেঁসে যেত জলচক উত্তর বস্তীর গ্রাম কমিটির সম্পাদক সেক মফিজুলের। একেবারে ভুঁড়ির ওপর আড়াআড়ি চালানো ভোজলির অনেকটাই আটকে দিল মোটা উলের শীতের পোশাক। শুধু মফিজুল নয়, রক্ষা পেয়েছেন উত্তর বস্তির সেক তায়াজুল সহ একাধিক ব্যক্তি।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
মফিজুল

কারও আঙুল, কারো কব্জিতে ভোজলির আঘাত। গ্রামে মহিলা কারবারে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে নিয়ে সালিসি সভা বসাতে গিয়ে এমনই রক্তারক্তি কান্ড পশ্চিম মেদিনীপুরের জলচক গ্রামের উত্তর বস্তীতে। শনিবার রাতে ঘটনার খবর পেয়েই ছুটে আসে পুলিশ তবে ততক্ষনে ভোজলি সমেত ফেরার অভিযুক্ত সেক জাহাঙ্গীর। এরপরই তার বাড়িতে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা।

জানা গেছে ওই উত্তর বস্তী এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ যে সে নিজের বাড়িতে মধুচক্র খুলে বসেছিল। নিজের দুই স্ত্রী ছাড়াও নিজেরই বিবাহিত মেয়েদের বিয়ে ভাঙিয়ে নিয়ে এসে এই কারবারে যুক্ত করেছিল। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে দেখে বেশকিছুদিন গা ঢাকা দেয় সে। দিন কয়েক আগে ফের বাড়িতে ফিরে আসে এবং একই কাজকর্ম শুরু করে।

উত্তর বস্তী গ্রাম কমিটির এক সদস্য সেক মোমিন অভিযোগ করেছেন, জাহাঙ্গীর ওরফে কালা শুধু নিজের বউ মেয়েদের দিয়ে ব্যবসা করাচ্ছে এমনটা নয় তার নজর রয়েছে অন্য মেয়েদের দিকেও। মেয়ে পাচারও করে সে। এলাকার পরিবেশটাই নষ্ট করছে। সম্প্রতি তার এক ভাই গ্রাম কমিটির কাছে অভিযোগ জানায় যে জাহাঙ্গীরের ব্যবহারে অতিষ্ঠ তারা। প্রতিবাদ করতে গেলেই অশ্রাব্য খিস্তি খেউড় করছে। গ্রাম কমিটি যেন এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়। এরপরই গ্রাম কমিটি জাহাঙ্গীরকে নিয়ে সালিসি সভায় বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। জাহাঙ্গীরকে সেই সভায় আসার কথাও বলা হয়। শনিবার সেই সভা বসেছিল কিন্তু জাহাঙ্গীর আসেনি।

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও জাহাঙ্গীর আসছেনা দেখে তার বাড়িতে যায় গ্রাম কমিটির সম্পাদক মফিজুল, তায়জুল সহ বেশ কয়েকজন। শুরু হয় জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কথা কাটাকাটি। মফিজুলের অভিযোগ, এরপরই জাহাঙ্গীর ‘তুই কোন নবাবের ব্যাটা’ বলে তার পেট লক্ষ্য করে ভাজালি চালিয়ে দেয়। গায়ে শীতের পোশাক থাকায় সেই পোশাক কিছুটা ভেদ করে আড়াআড়ি ভাবে বসে যায় তার ভুঁড়িতে। যদিও বেশি গভীর হয়নি সেই ক্ষত। এরপর জাহাঙ্গীরকে ধরতে গিয়ে একে একে ভোজলির কোপে আহত হয় তায়জুল সহ কয়েকজন। কারও হাতের চেটোয় কারও আঙুলে কব্জিতে চোট লেগে রক্ত ছুটতে থাকে।

আহতরা প্রত্যেকেই বরাত জেরেই কম আহত হওয়ায় জলচক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই চিকিৎসা করিয়ে নিতে পেরেছেন। এরপরই পালিয়ে যায় জাহাঙ্গীর। খবর পেয়েই ছুটে আসেন গ্রামের মহিলা পুরুষরা। উত্তেজিত জনতা অল্প বিস্তর ভাঙচুর চালায় জাহাঙ্গীরের বাড়িতে। খবর পেয়ে ছুটে আসে পুলিশও। পুলিশের খাতায় আগে থেকেই জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল অন্য মামলায়। পুলিশ খোঁজ শুরু করেছে জাহাঙ্গীরের। নতুন করে অভিযোগ দায়ের হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

- Advertisement -
Latest news
Related news