Monday, May 20, 2024

Northbengal Medical College: বিবর্ণ পূজোয় ৮শিশুর অকাল বিসর্জন! ১মাসেরও কম সময়ে মৃত্যু ৫৩ শিশুর মৃত্যু উত্তরবঙ্গে, রাজ্যে চার সপ্তাহে ৬৭

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: ২৪ঘন্টায় খালি হয়ে গেল ৮মায়ের কোল। মহাপঞ্চমীর দিনেই বিসর্জন হয়ে গেল ৮টি নবজাতকের। পুজোর মধ্যেই হাহাকারের স্রোত আছড়ে পড়ল উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে। ১৩ই সেপ্টেম্বর ৩শিশুর মৃত্যু দিয়ে উত্তরবঙ্গে শিশু মৃত্যুর যে মিছিল শুরু হয়েছিল ১০ই অক্টোবর তা এসে দাঁড়িয়েছে ৫৩ জনে। আর গত চার সপ্তাহে গোটা রাজ্যে এই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৬৭ জনে। যদিও এটা সরকারি হিসেব মাত্র। বেসরকারি মতে সংখ্যাটি আরও বেশি। গোটা বিষয়টি নিয়ে সরকারের এক অদ্ভূত উদাসীনতা আর নিস্পৃহতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বারবারই বলা হয়েছে, আতঙ্কের কিছু নেই কিন্তু আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে কই?

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

রবিবার মহাপঞ্চমীর দিনে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলে যে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে ৭ জনেরই জন্মগত সমস্যা ছিল বলে ইতিমধ্যেই হাত ধুয়ে ফেলেছেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন ওই ৭ শিশুর মধ্যে ২টি শিশু ২দিনের, একটি শিশু ৫দিনের, ১১, ১২ ও ১৩ দিনের ৩শিশু রয়েছে। একটি শিশুর বয়স ৪ মাস। এদের সবাই নাকি বিভিন্ন ত্রুটি নিয়েই জন্মে ছিল। অপর একটি ৮ মাসের শিশু জ্বর ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে ৬ অক্টোবর জলপাইগুড়ি জেলার  মালবাজার মহকুমা থেকে রেফার হয়ে আসে। মজার ব্যাপার গত প্রায় ১মাস ধরে শিশু মৃত্যুর মিছিল চলা স্বত্ত্বেও নিজেদের পরিকাঠামো গত কোনও সমস্যা রয়েছে বলে মানতেই চাইছেনা কলেজ কর্তৃপক্ষ ফলে নিজেদেরকে শুধরানোর কোনও লক্ষণও মেলেনি।

গত একমাস ধরে শিশু মৃত্যুর আতঙ্ক যখন তাড়া করে ফিরছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা গুলিতে তখন উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুশান্ত রায় অসুস্থ শিশুর পরিবারগুলিকে এই বলে সান্তনা দিয়ে গেছিলেন যে, ‘আতঙ্ক হওয়ার মতো কিছুই হয়নি, সাধারণ আবহাওয়া বদলের সঙ্গে প্রতিবছরই এমন হয়। সামান্য জ্বর, সর্দি হলেই হাসপাতালে আনার প্রয়োজন নেই।’ কিন্তু একজন শিশুর বাবা মা বুঝবেন কী করে কোনটা সামান্য জ্বর? যেখানে স্বাস্থ্যদপ্তরই এখনও সুনির্দিষ্টভাবে বলতেই পারেননি জ্বরটা ঠিক কী? সংবাদমাধ্যম প্রথমে বলতে শুরু করে অজানা জ্বর। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘অজানা জ্বর নয় ওটা আসলে অন্য একটা অসুখ।’ কী অসুখ? রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম জানিয়েছিলেন , ‘এটা আরএস ভাইরাস। কারও মৃত্যু হয়নি’।

 উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, মায়েরা নানা কারণে অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। সেই জন্য শিশুদের জন্মের সময় ওজন কম থাকছে, নানা শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ছে, শিশুরাও অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। এরফলেই মৃত্যু হচ্ছে একের পর এক শিশুর। প্রশ্ন হল যদি তর্কের খাতিরে সেটাই ধরে নেওয়া হয় তাহলেও তার দায়িত্ব কার। মায়ের পুষ্টি, শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে বারংবার। মায়েদের জন্য পুষ্টিকেন্দ্র, আশাকর্মী, এএনএম নার্স, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র গুলি কিসের জন্য রয়েছে?

উল্লেখ্য শিশুমৃত্যু নিয়ে হইচই শুরু হওয়ার পরই স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি বিশেষজ্ঞ দলকে পাঠানো হয়েছিল উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অবস্থা দেখে আসার জন্য। তাঁরা পরিদর্শন করে জানিয়ে দেন সবই ঠিকঠাক রয়েছে।যদিও তারই মধ্যেই জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মৃত্যু হয় একাধিক শিশুর। এমন কী চিকিৎসা করার পর ভালো হয়ে গেছে বলে ছেড়ে দেওয়া এক শিশুর মেডিক্যাল কলেজ চত্বরেই মৃত্যু হয়। অনেকেই দাবি করেছেন, ভবানীপুর উপনির্বাচনে ব্যস্ত প্রশাসন উপেক্ষা করেছে শিশু মৃত্যুর বিষয়টি। আর তারপরই শুরু হয়ে গেছে উৎসব। চলছে একের পর এক পুজো উদ্বোধন। সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে শ’য়ে শ’য়ে পুজোর উদ্বোধনে ব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী।

     যদিও পুজো বলে যেমন থেমে থাকেনি মৃত্যু তেমনই থেমে নেই নতুন করে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা। গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও মোট ৩১ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এআরআই অর্থাৎ অ্যাকিউট রেসপিরেটোরি ইনফেকশন নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৮ জন শিশু। তাদের মধ্যে জলপাইগুড়ি, মালবাজার, বীরপাড়া ও ইসলামপুর থেকে ১ জন করে মোট ৪ জন শিশু রেফার হয়ে এসেছে। কী আছে এই শিশুদের ভাগ্যে কে জানে?

- Advertisement -
Latest news
Related news