Monday, June 17, 2024

Crime in Midnapore: পশ্চিম মেদিনীপুর সীমান্তে খুনের কিনারা করল পুলিশ! চুরির টাকার ভাগ নিয়েই খুন পটাশপুরের বাপি, গ্রেপ্তার ৩ সাকরেদ

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: ওপরে সাদাসিধা ইঞ্জিন ভ্যানের চালক কিন্তু আদতে জোটবদ্ধ চুরির অন্যতম সদস্য! দিনের বেলায় পরিশ্রমী যুবক যার পরিশ্রম আর নিষ্ঠা দেখে অবাক হয়ে যায় স্থানীয় মানুষ। স্থানীয় মানুষ স্বোচ্চার হয়ে বলেন, বাপীর মত ছেলে হয়না। কোনও নেশা নেই, বাজে সংসর্গ নেই, রাজনীতির ধারে কাছেও যায়না। কিন্তু সেই যুবক যে আদতে দিনে ভালো মানুষ আর রাতে চোর সেটাই প্রমান হল শেষ অবধি।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
বুধবার উদ্ধার হওয়া দেহ

তিনদিন আগে পশ্চিম মেদিনীপুর সীমান্ত ঘেঁষে পূর্ব মেদিনীপুরের বিশ্বনাথপুর গার্লস হাইস্কুলের সামনে যে যুবকের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল সেই বাপী নায়েক (২১)আদতে একটি চোরের দলের সদস্য ছিল বলেই পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে চুরির ভাগ নিয়েই গন্ডগোলের জেরে খুন হয়েছে বাপী। ঘটনা সামনে আসার পর হতভম্ব এলাকার মানুষের প্রতিক্রিয়া, ‘এও হয়?’

বুধবার ভোরে বাড়ি থেকে সামান্য দূরত্বে মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল বাপীর। বাপীর স্ত্রী ফাল্গুনী নায়েকের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেন পটাশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক স্বয়ং দীপক চক্রবর্তী। ফাল্গুনীর অভিযোগ ছিল বাপীর ৩ সঙ্গীর বিরুদ্ধে। পটাশপুর থানার ওসি দীপক চক্রবর্তী বিশ্বনাথপুর গ্রামেরই তিনজন কে আটক করে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চালান। এরপরই উঠে আসে আসল রহস্য। জানা যায় রাতের অন্ধকারে বাপী এবং ওই তিনজন টারজান নায়ক (২০)।, লক্ষণ নায়ক(২১) এবং তাপস নায়ক (২০) বিভিন্ন জায়গায় চুরি করতে যেত। এদের চুরির মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। যেমন গাড়ি বা স্যালো, সাবমার্সিবল পাম্প ইত্যাদির যন্ত্রাংশ।

পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের সীমান্ত থানা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে, কৃষিজমি থেকে যন্ত্রাংশ চুরি করত এই চারজন। সঙ্গে আরও কারা ছিল নাকি পুলিশ তাও খতিয়ে দেখছে। মঙ্গলবার জাওয়াদের জেরে বৃষ্টি শেষের হিমেল আবহাওয়ার মধ্যেও বাপী সন্ধ্যার পর বেরিয়ে গেছিল এবং বেরিয়ে সেই ওই তিন সাকরেদের সঙ্গে দেখা করে বিশ্বনাথপুর গালর্স হাইস্কুল চত্বরে। সেখানেই চুরির টাকার ভাগ নিয়ে বাকিদের সাথে বচসা হয় বাপীর। এরপরই তাকে গুলি করে ওই তিনজনের একজন। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে , পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এরা স্বীকার করে নিয়েছে যে টাকা পয়সার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে গন্ডগোলের জেরেই তারা বাপী নায়ক কে খুন করেছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে যে প্রশ্নগুলি পুলিশকে এই তদন্তে সাহায্য করেছে তা’হল, খুনের আগের দিন সন্ধ্যা বেলায় স্ত্রীর হাতে দেড়হাজার টাকা দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল বাপী। প্রশ্ন উঠেছে ইঞ্জিন ভ্যান চালিয়ে একদিনে দেড় হাজার এলো কোত্থেকে? এরপর রাতভর বাড়ি ফেরেনি বাপী কিন্তু বাড়ির লোকেরা তার খোঁজে আশেপাশে যায়নি কেন? তাহলে বাড়ির লোক অভ্যস্ত ছিল যে বাপী রাতে হামেশাই বাড়ি ফেরেনা বা ভোর রাতে ফেরে। প্রশ্ন তিন, যে মানুষ নেশাভাঙ করেনা সে কেন সারাদিন পরিশ্রম করার পর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়? এই সব উত্তর মিলে যায় ধৃত ৩জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই।এদের গ্রেপ্তার করে শুক্রবার পুলিশ এই তিনজনকে কাঁথি আদালতে পাঠায়।বিচারক এই তিন খুনির জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

- Advertisement -
Latest news
Related news