Tuesday, June 25, 2024

Pingla child Death: কৃপন স্বামীর ঘর ছেড়ে নতুন সংসারের স্বপ্ন দেখেছিল পূজা! প্রেমিকের পরামর্শেই পথের কাঁটা মেয়েকে সরানো, পিংলা শিশুকন্যা খুনে নতুন তথ্য

- Advertisement -spot_imgspot_img

শশাঙ্ক প্রধান : যদি আপনি স্বামী হিসাবে খুবই কৃপন হয়ে থাকেন তবে ১০বার ভাবতে হবে। পশ্চিম মেদিনীপুর পিংলায় মায়ের হাতে শিশুকন্যা খুনের পেছনে যে তথ্য পুলিশের হাতে উঠে এসেছে তা রীতিমত মারাত্মক। জানা গেছে উত্তরবাড় গ্রামের পূজা জানা তার ২ বছরের মেয়ে দীপ্তিকে হঠাৎ কোনও রাগের বশে নয়, খুন করেছে ঠান্ডা মাথায়, পরিকল্পনা করেই।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
দীপ্তি, গত দীপাবলির দিন

আর এই পরিকল্পনার নায়ক ছিল পূজার প্রেমিক দেবাশিস মন্ডল। জানা যাচ্ছে হাড় কৃপন হওয়ার কারণেই নিজের স্বামীকে ভালবাসতে না পেরে অন্য একজনের সাথে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিল শিশুকন্যার মা। আর সেই কারণেই নিজের সন্তানকে খুন করে পথের কাঁটা সরানো হয়। কারন প্রেমিক এই সন্তানকে নিয়ে প্রেমিকাকে বিয়ে করতে রাজী ছিলনা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রীতিমত পরিকল্পনা মাফিক ঠান্ডা মাথায় বালিশ চাপা দিয়ে খুন করা হয়েছে দীপ্তিকে। পরিকল্পনা ছিল এই খুনকে দুর্ঘটনা বলে চালানো এবং সেই পরিকল্পনা সফল হওয়ার পরই পূজা এবং দেবাশিস পালিয়ে বিয়ে করত। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায় কয়েকজন তরুণের বুদ্ধিমত্তায়। প্রেমিক দেবাশিসের পরিকল্পনা মতই পূজা বালিশ চাপা দিয়ে মেয়েকে মেরে জানায় যে লেপে জড়িয়ে দমবন্ধ হয়ে মারা গেছে দীপ্তি। ওই যুবকদের খটকা লাগে যে, মেয়ে মারা যাওয়ার পরও মা কাঁদছেনা কেন? যেখানে মেয়ের মৃত্যুতে মায়ের কেঁদে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা সেখানে পূজার কান্না ছিল নেহাতই কাঁদতে হয় কাঁদার মত। এখানেই সন্দেহ হয় কয়েকজন তরুণের। ভিলেজ পুলিশকে সামনে রেখে পূজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই পূজা নতুন গল্প ফাঁদে যে সে স্তনপান করানোর সময় শিশুটি তার স্তনবৃন্তে দংশন করলে সে রাগের মাথায় তাকে বালিশ চাপা দিয়ে দেয়। সে বুঝতে পারেনি যে দ্বীপ্তি মারা যাবে।

পুলিশ প্রথম থেকেই এই গল্প মানতে চায়নি। পুলিশের এক আধিকারিক বলেছেন, প্রথমত: মেয়েটির বয়স ২বছর। এই বয়সের শিশুরা সাধারণত: মায়েদের স্তন দংশন করেনা। সাধারণভাবে শিশুদের নতুন দাঁত ওঠার সময় এই প্রবণতা থাকে। ২বছর বয়সে সচরাচর এটা হয়না। তাছাড়া পূজা সেই দংশনের চিহ্ন দেখাতে পারেনি। দ্বিতীয়ত: যদি শিশু কোনও ভাবে মায়ের স্তনে দংশন করেও থাকে তাহলে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হিসাবে মা শিশুকে চড়চাপাটি মেরে থাকতে পারেন কখনই বালিশ চাপা দিতে পারেনা। ফলে পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিক আরও জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। জিজ্ঞাসাবাদ চলে পূজা এবং তার প্রেমিক প্রতিবেশী দেবাশিস মন্ডলকে। তারপরই ভেঙে পড়ে ২জন। বেরিয়ে আসে আসল গল্প।

জানা যায় পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এলাকার পূজার বিয়ে হয় পিংলার উত্তরবাড়ের দেবাশিস জানার সঙ্গে। বিয়ে হয় ৩বছর আগে যখন পূজার বয়স ১৭বছর। পূজার স্বামী দেবাশিস রাজমিস্ত্রির কাজ করত এবং আন্দামানে যায় কাজের জন্য। দেবাশিস অত্যন্ত কৃপন স্বভাবের মানুষ। স্ত্রীকে হাত খরচা তো দূরের কথা প্রয়োজনীয় টাকা পয়সাও দিতে চাইতনা। ২বছর আগে উত্তরবাড় গ্রামেরই রাসপূর্ণিমা উপলক্ষ্যে উৎসবে পূজার সাথে আলাপ হয় প্রতিবেশী যুবক দেবাশিস মন্ডলের। দেবাশিস পেশায় গাড়ির চালক। মাছের গাড়ি চালাত সে। হাতে প্রচুর কাঁচা টাকা। সে মাঝে মধ্যেই টাকা দিত পূজাকে। পূজার সঙ্গে প্রেম জমে ওঠে। এরপরই দু’জনে মিলে সংসার পাতার স্বপ্ন দেখে। হয়ত আগেই পালাত দু’জন কিন্তু এরই মধ্যে লকডাউন পড়ে যায়। পূজার স্বামী ফিরে আসে আন্দামান থেকে। দেড়বছর থেকে যায় সে। পূজা এবং প্রেমিক দেবাশিস অপেক্ষা করে স্বামী দেবাশিসের ফিরে যাওয়ার জন্য।

ঘটনার অর্থাৎ শনিবারের ৫দিন আগে আন্দামান চলে যায় পূজার স্বামী। আর তারপরই ফের নতুন করে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা তৈরি করে ২জন কিন্তু বাধা হয়ে যায় দীপ্তি। প্রেমিক দেবাশিস পূজার সন্তানকে মেনে নিতে পারেনি। সে পূজাকে পরামর্শ দেয় দীপ্তিকে সরাতে হবে। এবং তারপর বিষয়টিকে দুর্ঘটনা বলে চালাতে হবে। ঝামেলা মিটে গেলে দুজনে পালাবে। কী ভাবে দ্বীপ্তিকে সরানো হবে, সরানোর পর কী বলতে হবে সবই বলে দিয়েছিল প্রেমিক দেবাশিস। কিন্তু পরিকল্পনা ফেঁসে যায় কয়েকজন যুবকের ওই সন্দেহে যে, মেয়ের মৃত্যুর পরেও মা কেন তেমন করে কাঁদছেনা?

- Advertisement -
Latest news
Related news