Tuesday, June 25, 2024

Suicide:’আমাদের সমাজ ও রাজ্যটা খুব খারাপ!’ সুইসাইড নোট লিখে জানিয়ে গেল ইংরেজি স্নাতক ও শিক্ষন প্রশিক্ষিত তরুনের

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: আমরা কী জানতাম? হয়ত জানতাম কিন্তু মানতামনা। কিন্তু বাবু জানিয়ে গেল। মাত্র ২লাইনের সুন্দর টানা ইংরেজি হরফে জানিয়ে গেল আমাদের রাজ্যটা, আমাদের সমাজটা খুব খারাপ। বছরের পর বছর ধরে সেই অর্থে বড় কোনও নিয়োগ নেই। যেটুকু নিয়োগ হচ্ছে সেখানেও অস্বছতার অভিযোগ, অভিযোগ লক্ষ লক্ষ টাকার কাটমানির লেনদেন। বেআইনি নিয়োগের অভিযোগে মামলায় মামলায় জেরবার রাজ্য। ডোমের চাকরি পদে পরীক্ষা দিতে হাজির হচ্ছেন স্নাতকোত্তর থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারীও। এমনই করুন পরিস্থিতি এই রাজ্যের। সেই পরিস্থিতির কথাই জানিয়ে আত্মহত্যা করলেন এক মেধাবী যুবক বাবু দলুই। বৃহস্পতিবার এমনই ঘটনা ঘটল এই পশ্চিমবাংলায়।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

জানা গেছে মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার বড়া গ্রামের ছেলে বাবু। বয়স মাত্র ২৪, হতদরিদ্র দিনমজুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও ছোটবেলা থেকেই বেশ মেধাবী ছিল সে। মাধ্যমিকে ৭৮ শতাংশ, উচ্চ মাধ্যমিকে ৭৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাশ করার পর ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে স্নাতক ডিগ্রিও লাভ করেছিল সে। ৭ বছর আগেই বাবাকে হারিয়েছিল বাবু, বছর দুয়েক আগে মারা যান মাও। তবু স্বপ্ন ছাড়েনি সে। অতি কষ্টে সরকারি কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক শিক্ষক হওয়ার জন্য ডিএলএড ট্রেনিংও নিয়েছিল বাবু।

কিন্তু সমস্ত স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল অচিরেই, তীব্র অবসাদে আত্মহত্যাকেই পথ হিসেবে বেছে নিল ২৪ বছরের এই যুবক। জানা গিয়েছে, বিছানার চাদর দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়েই আত্মহত্যা করে সে। পাশে একটি সুইসাইড নোটে লেখা,  “আমি, বাবু দলুই, বিদায় নিচ্ছি। আমাদের সমাজ ও রাজ্য খুব খারাপ” বাবুর জামাইবাবু তমাল দলুই জানিয়েছেন, কিছুদিন আগেই পিএসসি ক্লার্কশিপ পরীক্ষায় ছ হাজারের মধ্যে নাম এসেছিল বাবুর। এর আগে কলকাতায় থেকে চাকরি খুঁজছিল সে। কিন্তু ক্লার্কশিপ পরীক্ষায় নাম আসার পর জামাইবাবুর কাছে চলে এসে টাইপিং স্কুলে ভর্তি হয় বাবু। ৬হাজারের মধ্যে নাম থাকায় বাবু আনন্দ পেয়েছিল কিন্তু সেই তালিকা বাতিল হয়ে গেল! এরপর দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায় বাবুর নাম চলে গেল ১২হাজারের নিচে!

গোটা ঘটনায় ফের বে-আব্রু হয়ে গেছে রাজ্যের কর্মহীনতার চূড়ান্ত কঙ্কাল। একেকটা ভোট আসলেই শোনা যায় হাজার হাজার নিয়োগের প্রতিশ্রুতির কথা। এবারও পুজোর আগে ‘অনেক’ শূন্যপদে নিয়োগের কথা শোনানো হয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। যুবক-যুবতীদের বয়স ক্রমশঃ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হতাশা। সরকারি ক্ষেত্রে যখন এমন অবস্থা তখন বেসরকারি ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নেই। প্রতিবছরই জাঁকজমক শিল্প সম্মেলনে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ আর হাজার হাজার চাকরির স্বপ্ন ওড়ানো হয় কিন্তু দিনের শেষে একেকটা বাবু দলুই জানিয়ে যায়, আমাদের সমাজ, রাজ্যটা খুব খারাপ।

একটা প্রশ্ন উঠতে পারে রাজ্যটা না হয় খারাপ, চাকরি দিতে পারছেনা কিন্তু সমাজটাকে খারাপ বলে গেল কেন বাবু? হতে পারে এই সমাজ বেকারদের ভালো চোখে দেখেনা বলে কিংবা সব দেখে শুনেও এই সমাজ কেমন চুপ করে থাকে। টেট নিয়োগে দুর্নীতি, দল বদলে অন্যদল থেকে আসা নেতার ফেল করা মেয়ের নাম এসএসসির তালিকায় প্রথমে থাকে। কী করেছে সমাজ? হয়ত বাবু বুঝতে পেরেছিল আগের তালিকায় কাছের লোকেরা চান্স পায়নি বলেই সেই তালিকা বাতিল করা হয়েছিল। হয়ত বাবু বুঝেছিল পরীক্ষাটা আসলে লোক দেখানো। সাধারণদের চাকরি হয়না, হতে পারেনা। বাবুর হয়ত অভিমান, সব বুঝেও সমাজ কেন চুপ করে থাকে!

- Advertisement -
Latest news
Related news