Sunday, April 14, 2024

TMC-ED: ২৪ ঘন্টায় ভোল বদল তৃনমূল নেতাদের! ইডিকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন হাইকোর্টে

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: ৫ বছরে সম্পত্তি বেড়েছে চোখ কপালে ওঠার মতই। কী করে এত সম্পত্তি জানতে চেয়ে আদালতে মামলা হয়েছে তৃনমূলের ১৯জন নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে। আর সেই সম্পত্তি বৃদ্ধির মামলায় ইডিকে পার্টি করেছে আদালত। অর্থাৎ ইডি খতিয়ে দেখবে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজ্য জুড়ে। কারন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবীর বাড়িতে থেকে যেভাবে ৫০ কোটির কাছাকাছি টাকা উদ্ধার হয়েছে তাতে তৃনমূল নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে রাজ্য জুড়েই। খুব স্বাভাবিক ভাবেই এই মামলাতে ইডি যুক্ত হয়ে যাওয়ায় মানুষের মনে হচ্ছে হয়ত নেতা-মন্ত্রীদের আরও কিছু বেআইনি সম্পত্তি উদ্ধার হতে পারে। এরপরই নিজেদের ও দলের ইমেজ রক্ষা করতে ময়দানে নেমে পড়েন ববি হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অরূপ রায়, শিউলি সাহা প্রভৃতি নেতানেত্রীরা। বৃহস্পতিবার প্রেস কনফারেন্স করে জানিয়ে দেন তাঁদের কোনও বেআইনি সম্পত্তি নেই। যা আছে সবই বৈধ। সুতরাং ওই মামলা নিয়ে তাঁদের কোনও ভয় নেই। কিন্তু ২৪ ঘন্টা পের হলনা, মামলা থেকে ইডিকে প্রায় সরানোর আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন ওই ১৯জন অভিযুক্তদের মধ্যে থাকা রাজ্যের তিন মন্ত্রী। শুক্রবার আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তিন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং অরূপ রায়ের আর্জি, ইডিকে এই মামলায় পার্টি করার নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করুন আদালত। আর এই নিয়ে ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

উল্লেখ্য ২০১৭ সালে কলকাতা হাইকোর্টে দু’টি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। দুই মামলাকারী অনিন্দ্যসুন্দর দাস এবং বিপ্লবকুমার চৌধুরী সেই সময় তৃণমূলের ১৯ জনের নামে মামলা করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ২০১১ থেকে ২০১৬— এই ৫ বছরে কী ভাবে এই ১৯ জনের সম্পত্তি এত বৃদ্ধি পেল? সম্পত্তির খতিয়ান হিসাবে দেখানো হয় নির্বাচন কমিশনে দেওয়া ওই নেতাদের হলফনামা। ওই ১৯ জন তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীর তালিকায় ফিরহাদ হাকিম, ব্রাত্য বসু, মলয় ঘটক, শিউলি সাহা, অমিত মিত্র, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অরূপ রায়, জাভেদ খান, সব্যসাচী দত্ত, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি রাজ্যের প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সাধন পাণ্ডে, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়েরও নাম ছিল। পরে আরও একটি মামলা করা হয় যেখানে ৩০জন সিপিএম এবং কংগ্রেস নেতাদের সম্পত্তির উৎস জানতে চাওয়া হয় সেই মামলায় ছিল সূর্যকান্ত মিশ্র থেকে অধীর চৌধুরীদের নাম। পরে দুটি মামলাই এক সাথে জুড়ে দেওয়া হয়।

গত ৮ অগস্ট তৃণমূলের ১৯ জন নেতা-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলায় ইডিকে যুক্ত করে আদালত। সেই কথা জানাজানির হওয়ার পরই শোরগোল ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যে কারন তার আগেই পার্থ ও অর্পিতার বিপুল টাকা ও সম্পত্তির হদিস পেয়েছে ইডি। ফলে মানুষের আশা এবার এঁদেরও কিছু না কিছুনা সম্পত্তি উদ্ধার হবে। এরপরই বৃহস্পতিবার প্রেস কনফারেন্স করে ওই নেতারা জানিয়ে দেন তাঁদের ভয়ের কিছু নেই। কিন্তু ২৪ ঘন্টাও পেরুলো না কার্যত মামলা থেকে ইডিকে বাদ দেওয়ার আবেদন নিয়ে আদালতে হাজির হলেন তৃনমূলের বাঘা বাঘা নেতারা। যা দেখে বিরোধীরা বলছেন, ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।

- Advertisement -
Latest news
Related news