Tuesday, April 16, 2024

Teacher Suicide: প্রধান শিক্ষক ‘মরিয়া’ প্রমান করলেন তিনি দুর্নীতিবাজ নন! এবার আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়েরের পথে প্রধান শিক্ষকদের সংগঠন

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: রবীন্দ্রনাথের ‘কাদম্বরী মরিয়া প্রমান করিল সে মরে নাই’ আর হেয়ার স্কুলের প্রাক্তন ‘মরিয়া’ প্রমান করলেন তিনি কোনও দুর্নীতিই করেননি। অবসরের তিন বছর পরেও পেনশন না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন হেয়ার স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার দাস। ঘটনা জানার পর শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছিলেন, মর্মান্তিক ঘটনা। তিনি বলেছিলেন, তদন্ত কমিটি গড়া হবে। আর সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশের আগেই তিনি সাংবাদিকদের জানিয়ে দিলেন, ওনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে তাই ওনার পেনশন আটকে আছে। মানুষ জানলেন যে শিক্ষারত্ন পাওয়া ওই শিক্ষক তাহলে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
সেই তদন্ত রিপোর্ট -প্রথম পাতা

যদিও ঘটনা হচ্ছে ওনার বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির মনগড়া অভিযোগ আনা হয়েছিল তার প্রতিটিই খারিজ করে দিয়েছিল তদন্ত কমিটি এবং তা খারিজ হয়েছিল দেড় বছর আগেই। তারপরও তাঁর পেনশন চালু হয়নি। কারন সম্ভবতঃ উদ্দেশ্য ছিল প্রয়াত সুনীল কুমার দাসকে আরও টাইট দেওয়া। এবং মনে করা হচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে এই কাজটি যাঁরা করেছিলেন তাঁদের সাথে বিকাশ ভবনের কোনও আধিকারিক জড়িত রয়েছে। অন্ততঃ এমনটাই দাবি করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করতে চলেছে মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলির প্রধানদের সংগঠন ‘অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসস্’।

দ্বিতীয় পাতা

উল্লেখ্য কয়েকদিন আগেই আত্মহত্যা করেছেন হেয়ার স্কুলের ওই অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক সুনীল কুমার দাস। ২০১৯ সালে অবসর নেন সুনীল কুমার দাস। তিনি চার্জ বুঝিয়ে দেন স্কুলের এক সহকারী শিক্ষককে যাঁকে সহকারী ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক করা হয়েছিল সেই প্রণব কুমার ব্যানার্জীকে। ২০১৮ এবং ২০১৯ সাল থেকেই সুনীল কুমার দাসের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। এই অভিযোগগুলি দায়ের করা হয়েছে কমিশনার অফ স্কুল এডুকেশন, স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট ইত্যাদি জায়গায়। অভিযোগগুলি করেছেন কিছু শিক্ষক, শিক্ষা কর্মচারী, একটি কো-অপারেটিভ এবং সরকারি শিক্ষকদের একটি সংগঠন। অভিযোগ দুর্ব্যবহারের, সরকারি সুযোগ সুবিধা না দেওয়ার এবং সরকারি তহবিল তছরূপের। এমন কী অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানাতেও। এই অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে একটি কমিটিও তৈরি হয়। ২০২০ সালের শেষের মাসে কমিশন রিপোর্ট দেন যে সমস্ত অভিযোগই ভিত্তিহীন। এমনকি আর্থিক তছরূপের বিষয়টিও। কিন্তু তারপরও পেনশন চালু হয়নি সুনীল বাবুর।

‘অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসস্’-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার মাইতি বলছেন, “রিপোর্ট থেকে পরিষ্কার সুনীল বাবু ষড়যন্ত্রের শিকার। ষড়যন্ত্রকারীরা অন্য কেউ নয় তাঁর স্কুলেরই অ্যাসিস্ট্যান্ট মাস্টার। সুনীল বাবু নিয়মনিষ্ঠ মানুষ ছিলেন । ফাঁকিবাজদের অন্যায় সুযোগ নিতে দেন নি। তার প্রতিশোধ ওরা নিয়েছিল। ওদের মধ্যে একজন যখন টি আই সি হয় তখন চার্জ হ্যান্ড ওভারের সময় একটা দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়। একজন সৎ প্রধান শিক্ষকের কাজের প্রতিদান তাঁরা দিতে চাইলেন তাঁর পেনশন টাকে আটকে দিয়ে। অন্যদিকে শিক্ষা দফতরেরও বিশাল গাফিলতি আছে। নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার এতদিন পরেও কেন পেনশন পেলেন না। ব্রাত্য বসু আবার সবটা খোঁজ না নিয়েই বলে দিলেন উনি পেনশন পাননি কারন ওনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আছে। একজন মৃত মানুষের সম্বন্ধে এত বড় কথা বলার আগে তিনি জানলেন না যে তিনি ঠিক বলছেন কি না। সেটা মিডিয়া হলো । সবাই জানল ঐ প্রধান শিক্ষক দুর্নীতি করে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি যে নির্দোষ সে কথা কেউ জানল না। তাঁকে যে পরিকল্পনা করে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে সেটা অজানাই রয়ে গেল। চোর অপবাদ নিয়ে একজন সৎ মানুষ চিরতরে চলে গেলেন। এটাই বর্তমানের প্রধান শিক্ষকদের ভবিতব্য কি না কে জানে ?”

চন্দনবাবুর বক্তব্য, ” প্রয়াত সুনীল কুমার দাসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের হাত এতটাই লম্বা ছিল যে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও যাতে তিনি পেনশন না পান তার জন্য তাঁরা বিকাশ ভবনকেও ম্যানেজ করে ফেলেছিল। এ ঘটনা আমার আপনার যে কোনো কারোর ক্ষেত্রেই অদূর ভবিষ্যতে ঘটতে পারে। তাই তাঁর পরিবারের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। উনি সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। আমাদের সদস্য ছিলেন না। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তো ছিলেন। ওনার ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে স্কুল সরকারি, সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত বা সরকার পোষিত যাই হোক না কেন প্রধান শিক্ষকদের সমস্যাটা একইরকম। তাই আমাদের ওনার পরিবারের পাশে থাকতে হবে। এটা ছেড়ে দিলে হবে না । যে শিক্ষকরুপী অমানুষ আর আমলাদের জন্য তাঁকে এভাবে চলে যেতে হলো তাদের বিরুদ্ধে আত্ম হত্যায় প্ররোচনা অথবা খুনের মামলা দায়ের করতে হবে। আইনি লড়াইটা শেষ পর্যন্ত লড়তে হবে।”

- Advertisement -
Latest news
Related news