Monday, April 15, 2024

Actor beaten by TMC Men: তৃণমূলীরা বেধড়ক পেটালো অভিনেতাকে! লুম্পেনদের লাগামছাড়া হামলা, ফিরছে সিদ্ধার্থ জামানা! বললেন অভিনেতা, মুখে কুলুপ ব্রাত্য অর্পিতাদের

- Advertisement -spot_imgspot_img
আক্রান্ত অভিনেতা অমিত সাহা

নিজস্ব সংবাদদাতা: তৃনমূল কংগ্রেস কর্মীরা করবে কেক উৎসব তাই চলবেনা অন্য কোনও উৎসব। সেই ফতোয়া না মানায় বেধড়ক পেটানো হল দুই অভিনেতাকে। অনুপ্রেরণার বাংলায় এমনই ঘটনা ঘটে গেল শিল্প সংস্কৃতির রাজধানী বলে পরিচিত কলকাতা মহানগরীতে। কল্লোলিনী তিলোত্তমা কলকাতার এই ঘটনায় এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি তৃনমূলপন্থী বিশিষ্ট জনদের। মুখে কুলুপ এঁটেছেন নাট্য জগতের দুই পরিচিত ব্যাক্তিত্ব রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও প্রাক্তন সাংসদ অর্পিতা ঘোষের। গোটা ঘটনাকে বাংলার নাট্য আন্দোলনের ওপর আক্রমণ বলেই মন্তব্য করেছেন অনেকে। কারও কারও মতে এই ঘটনা সত্তর দশকের সিদ্ধার্থ রায়ের জমানাকে মনে করিয়ে দিয়েছে। ঘটনার জেরে নিজেদের দু’দিনের নাট্য উৎসব স্থগিত করে দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
কী হয়েছিল? বলছেন ফেসবুক লাইভে

উল্লেখ্য ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩ ডিসেম্বর বেলেঘাটায়। ওখানাকারই একটা স্থানীয় মাঠে পূর্ব কলকাতা বিদুষক নাট্যমণ্ডলীর ২৪-২৫ ডিসেম্বর দু’দিনের নাট্য উৎসবের আয়োজন করে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর ধরেই এই উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। এবারও থানা ইত্যাদির যাবতীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। আমন্ত্রণ জানানো হয় স্থানীয় কাউন্সলরকে। পরিচিতজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য সংগ্রহ করে উৎসবের আয়োজন করা হয়। আক্রান্ত অভিনেতা অমিত সাহা যিনি একজন বলিষ্ঠ অভিনেতা বলেই নাট্য জগতে পরিচিত নিজের ফেসবুকে বলেন, ” ছোট্ট একটা মাঠ। সেখানেই নাট্য উৎসব আয়োজন করা হয়। ২৩ তারিখ খবর পাই সেখানে তারস্বরে মাইক বাজছে। আরও খবর পাই ২৪ তারিখ ওই মাঠেই নাকি কেক উৎসব হবে। তারই প্রস্তুতি হিসাবে ওই মাইক বাজছে। একই মাঠে কী ভাবে এটা সম্ভব? এটা বোঝার জন্যই দলের সম্পাদক অরূপ খাঁড়াকে নিয়ে রাসমেলা মাঠে যাই। তৃণমূলের কিছু লোকজন প্রশ্ন করেন আমরা কারা? পরিচয় দেওয়ার পরই শুরু হয় মার। আমাদের কোনোও কথাই বলতে দেওয়া হয়নি।”

আক্রান্ত অমিত সাহা নিজে ওই নাট্য সংস্থার সভাপতি। ফেসবুক লাইভে তিনি জানান,” স্থানীয় তৃণমূল নেতা অলোক দাস ও তাঁর কর্মীরাই মারধর করেন আমাদের। আমাদের কোনও কথা বলার অবকাশ না দিয়েই মারতে মারতে মাঠের বাইরে নিয়ে এসে রাস্তায় ফেলা হয়। এই পরিস্থিতিতে নাট্য উৎসব করার পরিবেশ নেই।” তাই বাধ্য হয়ে বিদূষক নাট্যগোষ্ঠী নাট্য উৎসব মুলতুবি করে দেন। অমিত বলেন, ” প্রচুর মানুষ এই নাট্য উৎসব করার জন্য সাহায্য করেছেন। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই অন্য কোনও সময় উৎসব করার কথা ভাবা হচ্ছে।” ঘটনার তীব্র নিন্দা করে অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, “অমিত সাহা আমাদের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা নাট্যব্যক্তিত্ব নাট্যসংগঠক এক দারুণ মানুষ। ওদের বিদূষক নাট্যদলের নাট্য উৎসব বন্ধ করতে রাজনৈতিক দলের গাজোয়ারির গুন্ডাগিরি অসহ্য। নিন্দাজনক। ধিক্কার রইল।”

ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন নাট্য পরিচালক জয়রাজ ভট্টাচার্যও। একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে জয়রাজ লিখেছেন, “নাট্য আন্দোলনের একজন কর্মী হিসাবে জানি, সব সরকারের আমলেই সহিষ্ণুতার অভাব ছিল। কোনো সরকারই ধোয়া তুলসীপাতা নয়। আমার মনে পড়ছে, তিস্তাপারের বৃত্তান্ত নাটকটি চলার সময় তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের সহিষ্ণুতার অভাব ছিল। তারপরেও কিছু ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষিপ্ত ঘটনা, কিন্তু নিঃসন্দেহে সমালোচনার যোগ্য। কিন্তু তৃণমূল আমলে যা চলছে, তার সঙ্গে কোনো তুলনা হয় না। এই আমলে লুম্পেনদের লাগামছাড়া হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে থিয়েটারের লোকজনকে।” তিনি আরও বলেছেন, “অমিতের মত একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতাকে ধরে পেটানো হচ্ছে, এমন ঘটনা আগের আমলে ভাবা যেত না। অমিত জানিয়েছে, ও কথা বলতে চেয়েছিল, আলোচনা করতে চেয়েছিল। তাতেই চড়থাপ্পড় মারা শুরু হয়। তারপর আরও মার। এমন একজন অতিপরিচিত অভিনেতার সঙ্গেই যদি এমন ঘটে, তাহলে বাকিদের সঙ্গে কী হতে পারে সহজেই অনুমেয়। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এমন ঘটনা বাম জমানায় ঘটেনি। নজির খুঁজতে গেলে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের জমানায় ফিরে যেতে হবে। আমরা শুনেছি কল্লোল নাটক চলার সময়ে কংগ্রেসের গুন্ডারা এমন হামলা করত। তৃণমূল সেই অন্ধকার ফিরিয়ে এনেছে।”

জয়রাজ বলেন,” আমি বারবার একটা কথা বলি, তা হল তৃণমূলের অন্দরে থাকা নাট্যজনেরা গোটা থিয়েটার জগতের সঙ্গে বেইমানি করছে। নাটকের লোকজন রাজনৈতিক দলে বড় পদে রয়েছেন, এরকম তো আগে কখনো ঘটেনি। বাংলার নাট্য জগতের দুই মুখ ব্রাত্য বসু এবং অর্পিতা ঘোষ। একজন শাসকদলের নেতা, একজন মন্ত্রী। ব্রাত্য তো অমিতকে সরাসরি চেনেন। তাঁর তো প্রাথমিক দায়িত্ব ছিল সোচ্চার হওয়ার। অথচ তিনি চুপ। এর আগে নাট্যব্যক্তিত্ব শুভঙ্কর দাসশর্মাকে হেনস্থা করা হয়েছে। সেই ঘটনাটি ঘটেছিল ব্রাত্য বসুর বিধানসভা এলাকা দমদমে। তিনি রা কাড়েননি। এমন উদাহরণ আরও দেওয়া যায়।”

অমিত সাহা রবিবার জানিয়েছেন, এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ২৮ তারিখ ফুলবাগান মোড়ে তাঁরা পথ সভা করবেন। সেখানে সমস্ত নাট্য দলকেই আহ্বান জানানো হবে। নাট্য উৎসব নিয়ে তিনি জানান জানুয়ারি মাসে তাঁরা আবার এই নাট্য উৎসব সংগঠিত করবেন। ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ, পশ্চিমবঙ্গ, কলকাতা জেলার পক্ষ থেকেও এই ঘটনার নিন্দা করা হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, এই আক্রমণ সংস্কৃতির ওপরেই আক্রমণ। একদিন মানুষই এই বর্বরতার জবাব দেবেন। যদিও এই ঘটনায় এখনও অবধি বাংলার তৃনমূলপন্থী বুদ্ধিজবীদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আশ্চর্য্য ভাবে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন নাট্যকার ব্রাত্য বসু ও অর্পিতা ঘোষ। উল্লেখ্য এই প্রথম নয়, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যেই কলকাতায় আক্রান্ত হন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিমল চক্রবর্তী। সেই সময় বামেদের একটি সভায় গেছিলেন বলে কয়েকজন মাছ বিক্রেতাকে বাজারে বসতে দেননি স্থানীয় তৃনমূল কর্মীরা। তারই প্রতিবাদ করায় আক্রান্ত হন বিমল চক্রবর্তী।

- Advertisement -
Latest news
Related news