Monday, May 20, 2024

Farmers Protest: জাওয়াদে জলের তলায় আলু, আত্মহত্যা কৃষকের! কীটনাশকের বোতল হাতে নিয়ে চন্দ্রকোনায় কৃষি ঋন মুকুবের দাবিতে বিক্ষোভে, ডেপুটেশন বিডিওকে

- Advertisement -spot_imgspot_img
বাঁধাকপি

নিজস্ব সংবাদদাতা: এক বছরে পাঁচবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে সর্বশান্ত কৃষক। কৃষির কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিয়ে গিয়েছে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ। তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে ঘাটাল, চন্দ্রকোনা, কেশপুর, গড়বেতায় সদ্য লাগানো হাজার হাজার বিঘা জমির আলু বীজ জলের তলায়। এ মরশুমে আবার খরচ করে আলু লাগানো অসম্ভব। সর্বস্ব বাজি রেখে নেওয়া কৃষিঋণই এখন মাথার বোঝা। সেই বোঝা হালকা করতে দু’দিন আগেই আত্নহত্যা করেছেন চন্দ্রকোনার কৃষক ভোলানাথ গায়েন। কী হবে কৃষকদের? এখানে ঘোষিত হয়নি সরকারি নীতি। বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামলেন কৃষকের দল। বৃহস্পতিবার কৃষি ঋণ মুকুবের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। বিক্ষোভ রত কৃষকদের কাউকে কাউকে দেখা গেল কীটনাশকের বোতল হাতে বিক্ষোভে সামিল হতে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

৩ দিন আগেই চন্দ্রকোনায় আত্মহত্যা করেছিলেন ভোলানাথ সেই চন্দ্রকোনারই ভগবন্তপুরে কল্লা-খুড়শী সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে সামিল হলেন কয়েকশ কৃষক। হাতে কীটনাশকের বোতল নিয়ে বিক্ষোভরত কৃষকদের কেউ কেউ মনে করিয়ে দিয়েছেন তাঁদের গতি হয়ত ভোলানাথের পথেই। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা সমবায় সমিতির ম্যানেজারকে সমিতির অফিসেই তালা লাগিয়ে দেন।

সবজি

তাঁদের দাবি, জাওয়াদের ভারি বৃষ্টিতে জলে ডুবে বিঘার পর বিঘা চাষের জমি,ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আলু সহ ধান চাষে।কিন্তু এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে চাষিদের এই ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কোনও উদ্যোগ নেই। যতক্ষণ না কৃষিঋণ মুকুব করা হয়, বিক্ষোভ চলবে। কারন তাঁদের কাছে এর বিকল্প মৃত্যুই।

ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক আব্বাস উদ্দিন খান বলেন, ”খুড়শি, কল্লা সহ ৭ থেকে ৮টি গ্রামের প্রায় ৭০০ কৃষক এই সমবায় সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছেন। কেউ ৪০ হাজার আবার কেউ ১লক্ষ যার যেমন প্রয়োজন ঋণ নিয়েছেন। কিন্তু এখন আমরা ঋণ মেটাবো কী করে? আর এই ঋণ মুকুব না করলে না খেয়ে মরতে হবে আমাদের। আমরা আশা করেছিলাম সরকার কৃষকদের জন্য কিছু ঘোষণা করবেন কিন্তু এখনও অবধি কোনও নিশ্চয়তা নেই। বাধ্য হয়ে আজ রাস্তায় নেমেছি আমরা।”

কীটনাশককের বোতল হাতে আরেক বিক্ষোভকারী জানিয়েছেন, ‘ ক্ষতির ধাক্কা সামলাতে পেরে আমাদের এক কৃষকবন্ধু আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর পরিবার অথৈ জলে। যদি কৃষি ঋণ মুকুব না হয় তাহলে আমাদেরও ওই পথে যেতে হবে। পরিবার ভেসে যাবে। কেন্দ্র বা রাজ্যের কোনও সুনির্দিষ্ট নীতি নেই এ ব্যাপারে। যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সমস্ত জমির ফসল নষ্ট সেখানে দেখা যাবে সরকার দু’চার হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করবে। সেটাও আবার কেউ পাবে কেউ পাবেনা। আমরা চাই পুরো কৃষি ঋণই মুকুব করা হোক।”

বাঁচেনি ধানও

ওই সমবায় সমিতির ম্যানেজার মান্ত ঘোষ জানান, সত্যি কৃষকদের অবস্থা খারাপ। জাওয়াদের জেরে সর্বশান্ত হয়েছেন তাঁরা। কিন্তু এবিষয়ে সমবায় সমিতির নিজের উদ্যোগে কিছু করার এক্তিয়ার নেই।এবিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত সরকার নেয়।চাষিদের দাবিগুলি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। দীর্ঘক্ষন বিক্ষোভের পর ব্লক প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ওঠে বিক্ষোভ।

এদিনই সারাবাংলা আলু চাষি সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে বৃষ্টিতে চাষিদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে চন্দ্রকোনা ২ ব্লকের বিডিওকে ডেপুটেশন দেওয়া হয়।বৃহস্পতিবার চন্দ্রকোনা ২ ব্লকের বিডিও অফিসে গিয়ে একগুচ্ছ দাবিদাওয়া নিয়ে বিডিওকে ডেপুটেশন দেওয়া হয় সারা বাংলা আলু চাষি সংগ্রাম কমিটির চন্দ্রকোনা শাখার পক্ষ থেকে। সেখানেও জাওয়াদের জেরে ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও ঋণ মুকুবের দাবি করা হয়।

- Advertisement -
Latest news
Related news