Monday, May 20, 2024

Midnapore: সবংয়ে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব! প্রধান নির্বাচনে ব্যর্থ হল তৃনমূল

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা : ১৪ জন পঞ্চায়েত সদস্যের মধ্যে ১৩জনই তৃনমূল কংগ্রেসের তবুও প্রধান নির্বাচন করতে ব্যর্থ হল শাসকদল। বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচনকে ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠার আশঙ্কায় দিনভর পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ করে দেওয়া হয়েছিল দু’দুটি মন্ত্রকের দায়িত্বপ্রাপ্ত পূর্নমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার বিধানসভা ক্ষেত্র পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং। তার জেরে তীব্র গোষ্ঠী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হলেও করা গেলনা প্রধান নির্বাচন। গোটা ঘটনায় কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে সবং নেতৃত্বের ভূমিকা।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

উল্লেখ্য কিছুদিন আগেই সবং পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত নারানবাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নারায়ন বেরা পদত্যাগ করেন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচিত নারায়ন বাবু। ১৪জন সদস্যের ৯জন তৃনমূল পঞ্চায়েত সদস্যের সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি। বাকি ৫জন সদস্যের ৪ জন সিপিআই ও ১জন বিজেপি সদস্য ছিলেন। প্রধান নারায়ন বেরা আদি তৃনমূল। অন্যদিকে মানস ভূঁইয়ারা পরে তৃনমূলে যোগ দেন। স্বাভাবিক ভাবেই নারায়ন বাবুর সঙ্গে মানস ভূঁইয়া গোষ্ঠীর বনিবনা ছিলনা। অভিযোগ মানস ভূঁইয়া গোষ্ঠী সবং তৃনমূলের দায়িত্বে আসার পরই আদি তৃনমূল বিতাড়ন অভিযান শুরু হয়। আদি তৃনমূলের বেশিরভাগই বিজেপিতে চলে যায়। নারায়ন বেরা থেকে যান।

নারায়ন বেরা গোষ্ঠীর অভিযোগ, সবং তৃনমূলের পূর্ন ক্ষমতা আত্তিকরনের পরই নারায়নবাবুকে পদত্যাগ করতে বলে মানস বাবুর লোকেরা। নারায়ন বাবু রাজি হননি। এরপরই এক মহিলাকে দিয়ে নারায়নবাবুর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ আনা হয়। জামিন অযোগ্য অপরাধে গ্রেপ্তার থেকে বাঁচতে নারায়ন বেরা পদত্যাগ করেন। এরপরই নিজের লোককে প্রধান করার জন্য উদ্যোগ নেয় মানস বাবুর লোকেরা। কিন্তু ওই ৯জন সদস্যের কেউই মানস ভূঁইয়া গোষ্ঠীতে যোগ দিতে রাজি হয়নি। পরে সিপিআইয়ের ৪জন সদস্যকে তৃনমূলে যোগ দেওয়ানো হয়। ওই ৪জনই মানসবাবুর হাত ধরেই তৃনমূলে যোগ দেন।

বৃহস্পতিবারের প্রধান নির্বাচনে সিপিআই থেকে আসা অসিত মাইতিকেই সরকারি প্রধান প্রার্থী করা হয়। কিন্তু তাঁকে সমর্থন করতে রাজি হননি ৭জন তৃনমূল সদস্য। নারায়ন বেরা এবং আর একজন এই নির্বাচনে আসেননি ভোট দিতে। প্রাক্তন সিপিআইয়ের ৪জন আর তৃনমূলের মাত্র ১জন রাজি হয় সিপিআই থেকে আসা তৎকাল তৃনমূল অসিতকে সমর্থন করার জন্য। আদি তৃনমূলের বাদবাকি ৭জন বেঁকে বসেন অসিতকে সমর্থন করতে। ফলে ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া কার্যত ভেস্তে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মানস ভূঁইয়া বিরোধী গোষ্ঠী।

সবং তৃনমূল নেতা তথা তৃনমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান অমল পন্ডা বলেছেন, ‘কিছু সমস্যার জন্য আজ প্রধান নির্বাচন করা যায়নি। একটা দিনক্ষণ দেখে আবার হবে।’ নারায়ন বেরা অনুগামীরা জানিয়েছেন, ভোট হলে ওরা হারবে জেনেই আজ পুলিশ আর প্রশাসনকে দিয়ে ভোটদান প্রক্রিয়া আটকানো হয়েছে। সবংয়ে আপনি ন্যায় পথে চললেই আপনাকে মহিলা কেসে ফাঁসানো হবে। যেমনটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্তপ্রাণ নারায়ন বেরাকে ফাঁসানো হয়েছে। কিন্তু যতবার প্রধান নির্বাচন হবে ততবারই আমরা মানসবাবুর প্রার্থীকে আটকাবো।

- Advertisement -
Latest news
Related news