Wednesday, May 22, 2024

Farmar Protest: সেচ খালের ওপর অবাধে বেআইনি নির্মাণ! অকাল বন্যায় ভাসল পিংলার পাকা ধানের ক্ষেত, অবরোধ রাজ্য সড়ক

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: গত এক দশক ধরে সেচ খালের ওপর চলছে অবৈধ নির্মাণ আর তার জেরে অকেজো হয়ে পড়েছে খালের জল ধারণ ক্ষমতা। সেই জল উপচে ঢুকছে ধানের ক্ষেতে। পাঁচ সাতটা গ্রামের শতশত বিঘা জমির পাকা ধান চলে গেছে জলের তলায়। চোখের সামনে এই সর্বনাশ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন কৃষকরা। শুক্রবার প্রায় ২ঘন্টা ধরে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে চলল বিক্ষোভ। পরে পুলিশ এসে জোর করে বিক্ষোভকারীকে দের হটিয়ে অবরোধমুক্ত করে রাজ্য সড়ক যদিও তুষের আগুনের মত ধিকিধিকি করে জ্বলছে আগুন। যে কোনও মুহূর্তে তা আরও বড় ক্ষোভ হয়ে ফেটে পড়ার অপেক্ষায়।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা থানার অন্তর্গত মালিগ্রাম বাজারের ওপর বালিচক থেকে ময়না যাওয়ার রাজ্য সড়কের ওপর। ব্যস্ততম এই রাজ্যসড়ক ভায়া মন্ডুমারী হয়ে পিংলা ছুঁয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না গেছে। পশ্চিম এবং পূর্ব মেদিনীপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কই শুক্রবার প্রায় ঘন্টা দুয়েক সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে কৃষকদের অবরোধের জেরে। ক্ষুব্ধ চাষীরা সেচ খালের সংস্কার এবং খালের ওপর থেকে সমস্ত বেআইনি নির্মাণ উচ্ছেদ করতে হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে স্থানীয় বিডিওকে ঘটনাস্থলে এসে আশ্বাস দিতে হবে এই দাবিতে অবরোধ চলেছে সকাল ৯টা থেকে ১১টা অবধি। পরে পুলিশ এসে জোর করে অবরোধ তুলে দেয় বলে অভিযোগ।

অবরোধকারী কৃষকরা জানিয়েছেন ডাকবাংলো থেকে শুরু করে হাজরাবাগান অবধি ওই সেচ খালের ওপর অবাধে বেআইনি নির্মাণ গড়ে তোলা হয়েছে। সেচখালের মধ্যে গাঁথা কিংবা পোঁতা হয়েছে হাজার হাজার কংক্রিটের খুঁটি। এই বেআইনি নির্মাণের জন্য যেমন খালের গর্ভ ভর্তি হয়েছে তেমনই বিভিন্ন জায়গায় খালের পাড় ফেটে বড়বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে খালটি জল ধারণের অনোপযুক্ত হয়ে পড়েছে। জাওয়াদের জেরে যে লাগাতার বৃষ্টি হয়েছে উপরিভাগের সেই জল এখন খাল থেকে বেরিয়ে হু হু করে ঢুকছে পাকা ধানের ক্ষেতে। ফলে সর্বনাশের মুখে শতশত কৃষক। ভয়াবহ ক্ষতির মুখে খার্মিচক, মালিগ্রাম, দেওড়া, বড়খেলনা, বড়াগেড়িয়া ইত্যাদি ডজন খানেক গ্রামের কয়েকশ বিঘা ধানের ক্ষেত। পাকা ধানে মই পড়তেই ক্ষুব্ধ কৃষকরা অবরোধে সামিল হন বাধ্য হয়েই।

সিপিএমের স্থানীয় এরিয়া কমিটির সম্পাদক মলয় মান্না জানান, যে সেচ খাল কৃষকদের স্বার্থে বানানো সেই সেচখাল দখল করে একের পর এক দোকান নির্মাণ হচ্ছে। শত শত বেআইনি নির্মাণ হয়েছে এবং এখনও হয়ে চলেছে। সেচদপ্তর সম্পুর্ন উদাসীন,উদাসীন স্থানীয় প্রশাসন। এখন যখন কৃষকরা সর্বশান্ত হয়ে রাস্তায় নেমেছেন তখন পুলিশ উঠে পড়ে লেগেছে কৃষকদেরই শায়েস্তা করতে। এতেই তো প্রমান হয়ে যায় পুলিশ প্রশাসন বেআইনি নির্মাণের পক্ষেই। কারন এই অধিকাংশ বেআইনি নির্মাণের পেছনে রয়েছে শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের মদত।

পিংলা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃনমূল নেতা বীরেন্দ্রনাথ মাইতি কৃষকদের দাবি মেনে নিয়ে বলেছেন, শুধু বেআইনি নির্মাণই নয়, খালের ওপর যেখানে সেখানে হিউমপাইপ বসিয়ে রাস্তা বানানো হয়েছে যাতায়াতের জন্য। আমরা কৃষকদের নিয়েও বসেছি, ব্যবসায়ীদের নিয়ে, বাজার কমিটিকে নিয়ে আলোচনা করেছি বেশ কয়েকবার। উভয়পক্ষের স্বার্থ বজায় রেখে সমাধানসূত্র খুঁজে বের করা হবে। খালের ওপর থেকে বেআইনি কাঠামো, নির্মাণ না সরালে সেচদপ্তর কাজ করতে পারছেনা। আমরা চেষ্টা করছি যতদ্রুত এটা করা যায়। ছবি: দীপক জানা

- Advertisement -
Latest news
Related news