Wednesday, May 22, 2024

Bengal BJP Leader Expelled: শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মন্তব্য করে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বহিষ্কৃত বিজেপির হাওড়া সভাপতি! পুরভোটের আগে কঠোর বার্তা রাজ্য নেতৃত্বের

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: যদি সব ঠিকঠাক থাকে তবে আর ১মাসের মধ্যেই হাওড়া এবং কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচন। তার আগে দলে যে কোনও বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবেনা সেটাই জানিয়ে দিল বিজেপির রাজ্য সভাপতি। শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মন্তব্য করে মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সরাসরি দল থেকে বহিষ্কৃত হলেন হাওড়া সদরের সভাপতি সুরজিৎ সাহা। বিধানসভায় দলের বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়েই এই পথে হাঁটল রাজ্য বিজেপি এমনটাই মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলবার পুরভোট সম্পর্কিত একটি দলীয় সভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন যে হাওড়ার বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে হাওড়ার তৃনমূল নেতা অরূপ রায়ের দহরম রয়েছে। এরই প্রতিবাদে সুরজিৎ বলেন, শুভেন্দুকে নারদা কান্ডে টাকা নিতে দেখা গেছে। তিনি আরও জানিয়ে দেন তৃনমূল থেকে আসা বর্তমান বিজেপি নেতাদের অধীনে কাজ করবেনা হাওড়া বিজেপি। এরপরই এই বড়সড় সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

উল্লেখ্য আগামী ১৯ ডিসেম্বর কলকাতার সাথেই ভোট হতে চলেছে হাওড়া কর্পোরেশনের। সেই নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিজেপির তরফে একটি কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়। সেই কমিটি নিয়েই আপত্তি ছিল সুরজিৎ সাহার। তাঁর কথায়, “নির্বাচন কমিটি গঠনের জন্য মঙ্গলবার হাওড়া জেলার যে ২৩ জনকে ডাকা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই তৃণমূল থেকে আসা নেতা ছিল। তৃণমূলের বি টিমের অধীনে আমরা কাজ করব না।” হাওড়া বিজেপির যে নির্বাচন কমিটি করা হয় তার চেয়ারম্যান করা হয়েছিল তৃণমূল থেকে আসা রথীন চক্রবর্তীকে। তিনি সময় দিতে পারবেন না বলে কো-চেয়ারম্যান করা হয়েছে তৃণমূল থেকে আসা আরেক নেতা সুপ্রীতি চট্টোপাধ্যায়কে। দলের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সুরজিৎবাবু। বলেন, “আমাকেও কো-চেয়ারম্যান করা হয়েছে। কিন্তু দলের নিয়ম অনুযায়ী জেলায় যে কোনও কমিটির মাথায় থাকেন জেলা সভাপতি। এক্ষেত্রে আমাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এভাবে দলের তৃণমূলীকরণ মানব না। নবগঠিত নির্বাচন কমিটিকেও মানব না।”

এই নির্বাচন কমিটি গঠনের জন্য যে বৈঠক ডেকেছিল রাজ্য নেতৃত্ব সেই বৈঠকের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তুলেছিলেন, “হাওড়ার বিজেপি নেতৃত্ব তো অরূপ রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। ওঁরা কী করে পুরভোটে জিতবেন?” এর প্রেক্ষিতে সুরজিৎবাবুর চ্যালেঞ্জ, “আমি বলছি, ওঁকে প্রমাণ দিতে হবে। আমার কাছে অরূপ রায়ের ফোন নম্বরও নেই। পারিবারিক সূত্রে সম্পর্ক থাকায়, দেখা হলে কখনও-কখনও অরূপ রায়কে প্রণাম করি। কিন্তু কোনওদিন রাজনীতি নিয়ে কোনও কথা বলিনি। অরূপ রায়ের সঙ্গে আমার যোগসাজস প্রমাণ করতে হবে, না হলে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমা চাইতে হবে।” এখানেই থেমে না থেকে সুরজিৎ সাহা শুভেন্দুকে কটাক্ষ করে বলেন, “বিজেপির রাজনীতি আমাকে তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের কাছে শিখতে হবে না। শুভেন্দু অধিকারীকে নারদায় টাকা নিতে দেখা গিয়েছে। উনি আগে নিজে ঠিক হন। তার পর বিজেপি নেতাদের মূল্যায়ন করবেন।”

উল্লেখ্য বিধানসভার ভোটে রাজ্যের ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন ভেস্তে যাওয়ার পেছনে অন্য অনেক কারনের পাশাপাশি দলীয় অনৈক্যকেও প্রধান কারণ বলে মনে করেছেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই ঝাঁকে ঝাঁকে তৃনমূলের নেতাকর্মীরা বিজেপিতে যোগ দেয়। বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের উপলব্ধি যে এই নব্য এবং তৎকাল বিজেপিদের মেনে নিতে পারেননি আদি বিজেপির একটি অংশ। আর তারই ফলে দলেরই অভ্যন্তরে একটি ফাটল তৈরি হয় যার মধ্যে দিয়েই অনায়াস জয় ছিনিয়ে আনে তৃনমূল। সেই ফাটলই এবার বন্ধ করতে উদ্যোগী হল দল। বহিস্কারের পরেও তিনি দলের সঙ্গেই থাকছেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপির এই পোড় খাওয়া নেতা।

- Advertisement -
Latest news
Related news