Wednesday, May 22, 2024

Hate Speech: জাতি বিদ্বেষ মূলক মন্তব্য! অবশেষে বরখাস্ত পশ্চিম মেদিনীপুর কলেজের অধ্যাপক

Nirmal Bera, a Bengali professor at Sabang College in West Midnapore district, has been suspended for making racist remarks. He will not be able to go to college until further notice. On Friday, December 17, Tapan Dutta, the principal of Sabang Sajanikanta College, gave a letter to Professor Bera. The letter said that an investigation has been started against you on the basis of the complaint of Papia Mondi, a professor of Bangla in the same college. That's why you are being asked to go into 'suspension' until further notice. Simply put, he will not be able to go to college until the investigation is over and the results are announced and the professor is proven innocent. And if found guilty, he should be fired forever. Professor Papia Mandi complained against Professor Nirmal Bera, while taking an online class in Corona, while defining the term indigenous, Professor Bera said, "Indigenous people are those who used to hang on the branches of trees." Professor Mandy said that when I used the word 'indigenous' in that online class to mean' indigenous people ', Professor Bera told me in the presence of the students in the online class,' You are teaching the students wrong. Indigenous people who used to hang on the branches of trees. Professor Mandy said that the derogatory remarks were aimed at me because I belong to the indigenous community. I was very humiliated that day.

- Advertisement -spot_imgspot_img

শশাঙ্ক প্রধান: শেষ অবধি শেষরক্ষা হলনা, জাতি বিদ্বেষ মূলক মন্তব্য করার অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং কলেজের বাংলার অধ্যাপক নির্মল বেরাকে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া অবধি তিনি কলেজে যেতে পারবেননা। শুক্রবার অর্থাৎ ১৭ই ডিসেম্বর সবং সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ তপন দত্ত একটি চিঠি দিয়েছেন অধ্যাপক বেরাকে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে ওই মহাবিদ্যালয়েরই ‘বাংলা বিভাগের অধ্যাপিকা পাপিয়া মন্ডির অভিযোগের ভিত্তিতে আপনার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া অবধি আপনাকে ‘সাসপেনশনে’ যেতে বলা হচ্ছে। সোজা কথায় যতদিন না তদন্ত শেষ হচ্ছে এবং তার ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছে এবং ওই অধ্যাপক নির্দোষ বলে প্রমাণিত হচ্ছেন ততদিন কলেজে যেতে পারবেননা। আর দোষি প্রমাণিত হল চিরতরে বরখাস্ত হতে হবে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

উল্লেখ্য অধ্যাপক নির্মল বেরার বিরুদ্ধে অধ্যাপিকা পাপিয়া মান্ডি অভিযোগ করেছিলেন, করোনাকালে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার সময় আদিবাসী শব্দটির সংজ্ঞা নিরুপন করতে গিয়ে অধ্যাপক বেরা বলেছিলেন, ‘আদিবাসী হল তারাই যারা একসময় গাছের ডালে ডালে ঝুলে বেড়াত।’ অধ্যাপিকা মান্ডি বলেছিলেন, আমি যখন ওই অনলাইন ক্লাসে আদিবাসী শব্দের অর্থ ‘আদিম অধিবাসী’ বলেছিলাম তখন অনলাইন ক্লাসেই অধ্যাপক বেরা ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিতে আমাকে বলেন, ‘তুমি ভুল শেখাচ্ছ পড়ুয়াদের। আদিবাসী অর্থ যারা গাছের ডালে ডালে ঝুলে বেড়াত।’ অধ্যাপিকা মান্ডি বলেন, ওই নিম্নরুচির মন্তব্য ছিল আমাকে উদ্দেশ্য করেই কারন আমি আদিবাসী সম্প্রদায় ভুক্ত। অত্যন্ত অপমানিত হয়েছিলাম সেদিন। শুধু তাই নয়, ওই অধ্যাপক এর আগেও আমার প্রতি জাতিবিদ্বেষ মূলক ঘৃণা উগরে দিয়েছেন। আমাকে দিয়ে স্টাফরুমের জানলা দরজার পর্দা লাগানোর চেষ্টা করেছেন।’

গত ১৯ অক্টোবর অধ্যাপক নির্মল বেরা এবং কলেজ অধ্যক্ষ তপন দত্তের বিরুদ্ধে সবং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন অধ্যাপিকা পাপিয়া মান্ডি। ওই অভিযোগে তিনি বলেন, অধ্যাপক বেরাকে সমর্থন ও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন কলেজ অধ্যক্ষ। অধ্যক্ষ নিজেও জাতি বিদ্বেষের পক্ষেই কারন তাঁর কাছে অভিযোগ জানানো স্বত্ত্বেও তিনি অধ্যাপক বেরার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেননি উল্টে পুরস্কার স্বরূপ শ্রী বেরাকে স্টাফ কাউন্সিলের সম্পাদক করা হয়েছে। পুলিশ একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিককে দিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। যদিও সেই তদন্ত গড়িমসি করা হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে আসরে নামে আদিবাসী সমাজের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পারগনা মহল। নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনার পর গত ১৩ই ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সবং কলেজ এবং বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় স্তব্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। ওই দিন আদিবাসী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে আলোচনায় বসেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার। তিনি আশ্বস্ত করেন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে। সংগঠনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় ৭দিন অপেক্ষা করবেন তাঁরা। নচেৎ ২১শে ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধ। এরমধ্যেই ১৭ তারিখ অধ্যাপক নির্মল বেরাকে বরখাস্ত করা হল।

নির্মল বেরার বরখাস্ত হওয়ার খবরে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন অধ্যাপিকা পাপিয়া মান্ডি। তিনি বলেন, ‘ আমি কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছি যে আমার দীর্ঘ লড়াই এবং আমাদের আদিবাসী সমাজের সহযোগিতায় একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমি আইনের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। আইন তার পথে চলছে। আমি আইনে আস্থা রাখছি।’ তাঁর অভিযোগ ছিল অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেও সে বিষয়ে তিনি কী ভাবছেন জানতে চাওয়া হলে অধ্যাপিকা মান্ডি বলেন, ‘সে বিষয়েও আমি আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। আশাকরি সেখানেও সুবিচার পাব।’ বিষয়টি অধ্যাপক নির্মল বেরার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

- Advertisement -
Latest news
Related news