Monday, April 15, 2024

তৃনমূলের আমল থেকেই হলদিয়া বন্দরে তোলাবাজি ! গিলতে হল পুলিশকে

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: না, আর বিরোধীরা বা শিল্পপতিরা নয় এবার খোদ পুলিশকেই বলতে হল যে, রাজ্যে মা মাটি মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই হলদিয়া শিল্প শহরে তোলাবাজি গেড়ে বসেছে। গত এক দশকে বেহাল দশা হয়েছে হলদিয়া শিলাঞ্চলে। একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়েছে, নতুন বিনিয়োগ নেই। শ্রমিক অসন্তোষের নামে নির্বিচার তোলাবাজিতে নাভিশ্বাস উঠছে চালু শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলির। কোথাও কোথাও শিল্প কর্ণধাররা উৎপাদন বন্ধের হুমকি অবধি দিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুদিন আগেই শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি বহিস্কারও করা হয়। কিন্তু এবার যা হল তা সরাসরি সরকারি ভাষ্যেই। হলদিয়া পুলিশ মহকুমা আধিকারিক জানালেন, ২০১৩ সাল থেকে হলদিয়া বন্দরে তোলাবাজির প্রমান মিলেছে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে হলদিয়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রাহুল পাণ্ডে জানিয়েছেন, হলদিয়া বন্দরে তোলাবাজির অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এখনও অবধি যা প্রমান পেয়েছে তাতে জানা যাচ্ছে ২০১৩ সাল থেকে বন্দরে তোলাবাজি চলছে। পুলিশ আধিকারিক এও দাবি করেছেন যে পুলিশ এ অবধি তদন্ত করে জানতে পেরেছে তোলাবাজির পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

সাংবাদিক সম্মেলনে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বা এসডিপিও বলেন, ২০২১ সালে জুলাই মাসে বন্দরে তোলাবাজি নিয়ে হলদিয়া বন্দর এক পরিবহন ব্যবসায়ী প্রাক্তন পুরপ্রধান শ্যামল আদক সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে হলদিয়া থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই ৬ জনের বেশি হলদিয়া মহকুমা আদালতে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন। ১২ জনের বেশি সাক্ষী দিয়েছেন। প্রায় ২০ জনকে হাজিরার দেওয়ার হয়েছে। আর এই সমস্ত তদন্ত থেকেই উঠে এসেছে তোলাবাজির সময়কাল, পরিমান ইত্যাদি।

উল্লেখ্য এই তোলাবাজিতে অভিযুক্ত প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা তৎকালীন তৃনমূল নেতা উচ্চ আদালতের স্মরণাপন্ন হয়ে বলেন, তিনি দল পরিবর্তন করার পরই প্রতিহিংসাপরায়নতা থেকেই রাজ্য সরকার এই মামলা দায়ের করেছে। তাই রাজ্য পুলিশের পক্ষে এই মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়। এরপরই আদালত সিবিআই তদন্তের আদেশ দেন। মামলা স্থানান্তরিত হয় সিবিআইয়ের হাতে।
মামলার তদন্ত ভার হাতে নেওয়ার পরই সিবিআই এই মামলার নথি পাওয়ার জন্য হলদিয়া থানাকে নোটিশ দেয়। সিবিআইয়ের তরফে এও দাবি করা হয় যে হলদিয়া থানা অযথা কালক্ষেপ করছে। ইতিমধ্যে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা শ্যামল আদকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরকারী সেক মোবারক আলীর। সিবিআইয়ের ধারণা তাদের হাতে মামলা চলে আসার পরই মামলাটিকে আড়াল করার চেষ্টা নিয়েই এইসব করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয় বিভিন্ন স্তরে। কোনও কোনও তরফে আঙুল তোলা হয় পুলিশের দিকেও। অযথা এই বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা করা হচ্ছে দাবি করে আসরে নামে পুলিশও। সেখানে দাবি করা হয়, শ্যামল আদকের পাশাপাশি এই মামলায় তীরবিদ্ধ করার লক্ষ্য ছিল বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ যাকে দিয়ে এই মামলা করানো হয়েছিল সেই সেক মোবারক আলী আদতে হলদিয়ার এক তৃণমুল কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলের ঘনিষ্ট। মোবারকের দায়ের করা অভিযোগকে ভিত্তি করেই দলত্যাগী শ্যামল আদক ও শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছিল পুলিশ কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে যায় মামলা সিবিআইয়ের হাতে চলে যাওয়ায়। অভিযোগকারী মোবারকে জেরা করে সিবিআই পাল্টা ওই চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলকেই জালে টানতে পারে এই ভয় থেকেই লুকিয়ে রাখা হয়েছে মোবারককে।

হলদিয়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘ মামলা আড়াল করার কোনও উদ্দেশ্যই পুলিশের নেই। পুলিশের তরফে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছে। কারণ ইতিমধ্যে প্রায় ২৫০০ পাতার কেস ডায়রি তৈরি হয়েছে। অডিও ভিজুয়াল ফরম্যাটে অনেক কিছু বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই সবগুলি একত্রিত করতে কিছুটা সময় লাগছে হলদিয়া থানার। শ্রী পান্ডের দাবী, সম্মানীয় উচ্চ আদালত মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে দেওয়ার পর সমাজ মাধ্যমে হলদিয়া থানা পুলিশের বিরুদ্ধে কিছু ভিত্তিহীন মন্তব্য করা হচ্ছে। যদিও পুলিশ সঠিক পথেই তদন্ত করছিল। মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের দাবি, তৎকালীন পূর্ব মেদিনীপুরের এক প্রভাবশালী নেতার ইন্ধনেই চলত তোলাবাজি। তোলাবাজির মোটা অংশ দিতে হতো সেই প্রভাবশালী নেতা কে। বলা বাহুল্য নাম না করলেও তীর সেই শুভেন্দু অধিকারীর দিকেই। কারন তাঁরই নেতৃত্বে সেই সময় হলদিয়ায় তৃনমূল রাজ শুরু হয়েছিল।

- Advertisement -
Latest news
Related news