Friday, April 19, 2024

SSC Scam: মেদিনীপুর থেকে বাগদা! রাজ্য জুড়ে SSC পাইয়ে দেওয়া দালালদের ওপর নজরদারিতে CBI

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: মাস ছ’য়েক আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার এক ব্যক্তির অডিও ফাঁস হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। SSC পরীক্ষার্থীনী এক মহিলার কাছে সে দাবি করেছিল ২৫ লক্ষ টাকা দিলেই মিলবে চাকরি। সে আরও দাবি করেছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের কোন কোন স্কুলে কাকে কাকে চাকরি পাইয়ে দিয়েছে সে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
কোলাঘাটের প্রতারিতরা

যদিও সেই ব্যক্তির নাম পরিচয় শেষ অবধি জানা যায়নি কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট এলাকায় সম্প্রতি এক তৃনমূল নেতা ও তাঁর ভাইয়ের নাম জানতে পারা গেছে যাঁরা নিজেদের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচয় দিয়ে SSC তে চাকরি দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা তুলেছেন বেকার যুবক যুবতীদের কাছ থেকে। এবং তাই নিয়ে বর্তমানে সরগরম পূর্ব মেদিনীপুর জেলা।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সিবিআই জেরা করার পর থেকে সেই নিয়ে আরও বেশি চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন বর্তমানে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন ওই তৃণমূল নেতা অতনু গুছাইত ও তার ভাই শান্তনু গুছাইত। ঠিক একই বিষয় বলেছেন রাজ্যের প্রাক্তন অনগ্রসর শ্রেণীকল্যাণ মন্ত্রী উপেন বিশ্বাস। তিনি একটি ভিডিওতে জানিয়েছেন, উত্তর ২৪ পরগনার এক ব্যক্তি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের জন্য ১২ থেকে ৩০লক্ষ টাকা অবধি নিয়ে থাকতেন। সিবিআই তদন্তের ভার নেওয়ার পর সেই ব্যাক্তিও গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে SSC নিয়োগ ক্ষেত্রে এক বিশাল দালাল চক্র কলকাতা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছিল। জানা যাচ্ছে এবার সেই তদন্তের পথেও এগুতে পারে। আপাততঃ সিবিআই মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পত্তির পরিমান জানার জন্য আয়কর দপ্তরের সাহায্য নিচ্ছে। পাশাপাশি হাইকোর্ট পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে তাঁর স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির হলফনামা চেয়েছে। সম্ভবতঃ CBI য়ের লক্ষ্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পত্তি বেড়েছে কতটা তা জানা, সেই বাড়তি আয়ের উৎস এবং তার সাথে এসএসসির কোনও সম্পর্ক আছে কিনা তা খুঁজে বের করা।

পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট এলাকায় এসএসসি, গ্রুপ ডি, গ্রুপ সি, প্রাথমিক সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরি দেওয়ার কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা কর্মপ্রার্থীদের কাছ থেকে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ এক তৃনমূল নেতা অতনু গুছাইত এবং তার ভাই শান্তনু গুছাইতের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কয়েকজন অতনুর হাত ধরে চাকরি পেয়েছিলেন। এতে মানুষের বিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। জমি, জায়গা, সর্বস্ব বিক্রি করেও তাঁরা অতনুর হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলেন।তবে পরে তাঁরা বুঝতে পারবেন চাকরি আর জুটবে না। কে এই অতনু? জানা গেছে ২০০৩ সালে কোলা ১ পঞ্চায়েত সদস্য ও ২০০৮ সালে পঞ্চায়েত সমিতির বিদ্যুৎ কর্মাধক্ষ হয়েছিলেন তিনি।

এই অতনুর কোলাতে  বিশাল বাড়িও রয়েছে। তবে সেসব তালাবন্ধ করা বর্তমানে। বর্তমান গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি। এক কর্মপ্রার্থী বলেন, অতনু গুছাইত তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। আমার কাছ থেকেও বাড়িতে এসে আড়াই লাখ টাকা নিয়েছেন। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথা বলে তিনি টাকা নিয়েছেন। যারা টাকা দিতে পারত না তাদের কাছ থেকে সোনা নিত। বিপুল প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমার মেয়ে আর সম্বন্ধীর চাকরির জন্য ১৮ লক্ষ টাকা নিয়ে গেল। অতনু বলত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ওর যোগাযোগ আছে। প্রাথমিকে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিল।কিন্তু টাকাও ফেরৎ দিল না, চাকরিও হল না।তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ওর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ নেই। বিজেপির দাবি, ওই লোকটা টাকা মারার ক্লাবের দালাল।

অন্যদিকে শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি নিয়ে শোরগোল পড়তেই এক বছর আগেকার একটি পুরনো ভিডিয়ো সামনে এসেছে। ভিডিয়োটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন অনগ্রসর শ্রেণীকল্যাণ মন্ত্রী উপেন বিশ্বাস। ভিডিয়োতে তিনি দাবি করেছিলেন, প্রাথমিকে চাকরির জন্য ১২ -১৩ লক্ষ টাকা, উচ্চ প্রাথমিকে চাকরির জন্য ১৮ লক্ষ টাকা এবং নবম-দশমে চাকরির জন্য ২৫ লক্ষ টাকা দিলেই শিক্ষকতার চাকরি মিলবে। সেই ভিডিয়োর সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন উপেন বিশ্বাস।ভিডিয়োতে তিনি দাবি করেছিলেন, এই দুর্নীতি চক্রের সঙ্গে রঞ্জন নামে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার এক বাসিন্দা জড়িত রয়েছে। রঞ্জনের আসল পরিচয় ভিডিয়োতে না জানালেও রঞ্জন এলাকায় খুবই জনপ্রিয় বলেই জানিয়েছিলেন উপেন বাবু । তিনি অভিযোগ করেছিলেন, রঞ্জন টাকার বিনিময়ে বহু লোকের চাকরি করে দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, উপেন বিশ্বাস রাজনীতিতে আসার আগে সিবিআই আধিকারিক ছিলেন। পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে বিহারের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদকে গ্রেফতার করেছিলেন উপেন বিশ্বাস।

তিনি দাবি করেছেন, এক সেনা কর্মীর কাছ থেকে প্রথমে টাকা দিয়ে চাকরির বিষয়টি জানতে পারেন। প্রথম দিকে সে কথা বিশ্বাস করেননি তিনি। পরে অবশ্য তিনি জানতে পারেন উত্তর ২৪ পরগনা, বনগাঁ, বাগদা প্রকৃতি এলাকার অনেককেই টাকার বিনিময়ে চাকরি করিয়ে দিয়েছিলেন এই রঞ্জন। এমনকি একই পরিবারের ৯ জনকে চাকরি করিয়ে দিয়েছিলেন বলেও শোনা গিয়েছে তার ভিডিয়োতে। প্রসঙ্গত, বাগদা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে সাল ভোটে জিতে ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মন্ত্রী ছিলেন উপেন। পরে ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে তিনি তৃণমূল ছেড়ে দেন উপেন বাবু। এখন এসএসসির দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তে নেমে সিবিআই কী এসবেরও সন্ধানে নামবে? সেটাই এখন দেখার।

- Advertisement -
Latest news
Related news