Tuesday, June 25, 2024

Midnapore: হাতির হানায় মৃত্যু ঠেকাতে জঙ্গলে যেতে নিষেধ বনদপ্তরের! বাঁধনা পরবের মুখে ত্রস্ত জঙ্গলমহল

- Advertisement -spot_imgspot_img
ঘর ভাঙল হাতি

নিজস্ব সংবাদদাতা: মাঝে মাত্র আর একটা দিন! কার্ত্তিক অমাবস্যায় শুরু জঙ্গলমহলের প্রিয় উৎসব বাঁধনা। উৎসবের আচরণ তিনদিনের কিন্তু রেশ চলে আগে পরের ২দিন মিলিয়ে পাঁচদিন। কিন্তু সাধের উৎসবে এবার আতঙ্ক হয়ে এসেছে হাতির উপস্থিতি। পশ্চিম মেদিনীপুর ও লাগোয়া ঝাড়গ্রাম জেলার ঘন অরণ্যবেষ্টিত গ্রাম গুলির আশেপাশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দলমা থেকে নেমে আসা হাতির পাল। মাঠের ফসল, সবজি তো খাচ্ছেই কখনও কখনও হানা দিচ্ছে গ্রামেও। ফলে আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসীরা। ফিকে হয়ে আসছে উৎসবের প্রস্তুতি।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, গ্রামের পর গ্রাম কৃষিনির্ভর জঙ্গলবেষ্টিত জঙ্গলমহলের একটি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উৎসব এই বাঁধনা পরব। কৃষি কাজ যেহেতু গরু নির্ভর ছিল এককালে এমন কি এখনও কিছুটা তাই এই বাঁধনা পরব সেই গরুরই বন্দনা। অনেকের মতে তাই গো-বন্দনার বন্দনা থেকেই বাঁধনা কথার উৎপত্তি। হেমন্ত শুরু হয়েছে আমন কৃষি চক্রের সমাপ্তি, শীতের ফসল শুরুর আগে কয়েকদিনের বিশ্রাম গরু-বলদাদির।

হাতি ধানের ক্ষেতে

এই সময়ে ঘরে ঘরে গোয়ালপূজো, গাই-বাছুর-বলদের পরিচর্যা, পা ধুইয়ে দেওয়া, সিঁদুর চর্চিত করা, গো-খুটান ইত্যাদি ইত্যাদি। গৃহ থেকে সার্বজনীন হয়ে উঠে এই পরব। ঘরে ঘরে যেমন নিজস্ব পূজো চলে তেমনই উৎসবের শেষের দিন গ্রামের মধ্যবর্তী কোনও ময়দানে সমবেত হয়ে চলে গরু খুঁটানোর মজা। কিন্তু সেই মজায় এবার বাধ সেজেছে হাতির পাল।

বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে পশ্চিম মেদিনীপুর ও লাগোয়া ঝাড়গ্রাম জেলার অংশে দুটি বনবিভাগ রয়েছে। এই দুটি বনবিভাগ হল মেদিনীপুর ও রূপনারায়ন। ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড় এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা, গোয়ালতোড়, শালবনী, গুড়গুড়িপাল এবং মেদিনীপুর সদর মিলিয়ে এই ৬টি থানার জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অন্ততঃ ৭৫টি হাতি। যার মধ্যে শুধু মেদিনীপুর বনবিভাগেই রয়েছে ৪৮ থেকে ৪৯টি। একেকটি বনবিভাগের অন্তর্গত বিভিন্ন রেঞ্জে দলে দলে ভাগ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এই হাতির পাল।

জঙ্গলে হাতির পাল

কোথাও কোথাও একটা করেও ঘুরে বেড়াচ্ছে। বনদপ্তর জানাচ্ছে সবসময় একটি জায়গায় থাকছেনা হাতির পাল। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় সরছে। যেমন রবিবার সকালে যে হাতির দলটিকে চাঁদড়া রেঞ্জের ভালুকখুলিয়ায় দেখা গিয়েছিল সোমবার সকালে তারা সরে গিয়েছে বালিচুড়াতে। আবার রবিবার সুকনাখালিতে ২৫টি মত হাতি ছিল সোমবার সেখানে ৩টি হাতি আছে বাকিগুলি হয়ত বাগডুবিতে চলে গিয়েছে।

সোমবার বনদপ্তরের পক্ষে জারি করা একটি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে মেদিনীপুর বনবিভাগের এলাকায় বর্তমানে ৪৮ থেকে ৪৯টি হাতি রয়েছে। এরমধ্যে বনদপ্তরের পর্যবেক্ষণ লালগড় রেঞ্জের ভাঙ্গাডালিতে ১ টি, পোডিহাতে-১ টি, চাঁদড়া রেঞ্জের বালিচুড়াতে ১8 থেকে ১৫ টি, সুকনাখালিতে ৩ টি, আমাঝর্ণায় ১টি, কাদামোলমায় ১টি, নয়াবসত রেঞ্জের উখলা-১টি, মেদিনীপুর রেঞ্জের বাগডুবিতে ২৫-২৬ টি হাতি রয়েছে। হাতির হামলায় মৃত্যু এড়ানোর জন্য জঙ্গলে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একই ভাবে রূপনারায়ন বনবিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জে হাতি অবস্থান করছে। এদিন নয়াবসাত রেঞ্জের উখলাতে হাতি ঢুকেছে বলে সতর্ক করেছে রূপনারায়ন বনবিভাগ। মাঠের ফসল খাওয়ার পাশাপাশি হাতিকে কয়েকদিন আগেই গড়বেতায় রাজ্য সড়কে উঠে গাড়ি থামিয়ে খাওয়ার খোঁজ করতে দেখা গিয়েছে। আবার সোমবার ভোরেই মেদিনীপুর লাগোয়া নয়াগ্রামের বাড়ি ভেঙে তল্লাশি চালাতেও দেখা গিয়েছে। জঙ্গলমহলের অধিবাসীরা কৃষির পাশাপাশি জঙ্গল নির্ভরও বটে। জঙ্গলের কাঠ পাতা তো আছেই পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন লতা গুল্ম ইত্যাদি যা তাঁদের জীবিকা নির্বাহের প্রধান হাতিয়ার। করোনা সংক্রমনের দরুন গতবছর বাঁধনার গনউৎসব মার খেয়েছে এবার চিন্তা হাতি নিয়ে।

 

- Advertisement -
Latest news
Related news