Wednesday, May 22, 2024

Police suicide :কেশপুরে পুলিশ আধিকারিকের ‘আত্মহত্যায়’ নয়া রহস্য, আরেক পুলিশ আধিকারিকের দিকেই আঙুল তুললেন স্ত্রী

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে এক পুলিশ আধিকারিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর ঘটনার পেছনে অন্য এক পুলিশ আধিকারিকের ইন্ধন রয়েছে বলে সরাসরি সংবাদমাধ্যমকে জানালেন মৃত পুলিশ আধিকারিকের স্ত্রী। ঘটনায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ মহলে। মৃত পুলিশ আধিকারিকের স্ত্রী দাবি তাঁর স্বামীকে পরিকল্পনা করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন আরেক পুলিশ আধিকারিক যিনি মৃত পুলিশ আধিকারিকের আবাসনের উল্টো দিকে বাস করেন। স্বাভাবিক ভাবেই শনিবার সকাল অবধি যে ঘটনাকে নিছকই আত্মহত্যা বলে মনে হয়েছে স্ত্রীর এই অভিযোগের পর তার ভাবনা বদলে গিয়েছে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

শনিবার সকালেই উদ্ধার হয় কেশপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর সঞ্জয় চৌধুরীর ঝুলন্ত দেহ। ৪৮ বছরের চৌধুরী থানা লাগোয়া যে ঘরে থাকতেন সেই ঘর থেকেই তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে মোট ৩জন থাকতেন ওই ঘরে। ২জন রাতে ডিউটিতে বেরিয়ে যান। সকালে পরিচারিকা এসে বারবার দরজায় কড়া নেড়ে সাড়া না পাওয়ায় খবর দেন লাগোয়া থানায়। এরপরই দরজা ভেঙে উদ্ধার হয় দেহ। প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে সাধারণ আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে করে। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় মর্গে। খবর পাঠানো হয় বিষ্ণুপুর পুলিশ আবাসনে থাকা সঞ্জয় চৌধুরীর স্ত্রী ঈপ্সিতা চৌধুরীকে। একটু বেলার দিকে মেদিনীপুরে এসে পৌঁছান ঈপ্সিতা। এরপরই তিনি ফেটে পড়েন ক্ষোভে।

উল্লেখ্য মাত্র কয়েকমাস আগেই বিষ্ণুপুর থেকে কেশপুরে বদলি হয়ে আসেন। একমাত্র ছেলে এবার বোর্ডের পরীক্ষা দেবে বলে স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে বিষ্ণুপুরের পুলিশ আবাসনেই থাকতেন। সঞ্জয় থাকতে শুরু করেন কেশপুরে। মেদিনীপুরের কুইকোটায় বাড়িও বানিয়েছেন সঞ্জয়। কথা ছিল ছেলের পরীক্ষার পরই সপরিবারে উঠে আসবেন মেদিনীপুরেই। তার আগেই ঘটে গেল এমন ঘটনা। সঞ্জয়ের স্ত্রী ঈপ্সিতা জানিয়েছেন, ‘গতকাল রাত ১১টায় আমার সঙ্গে আমার স্বামীর সম্পুর্ন স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়েছে। তাঁর কথায় কোনও উদ্বিগ্নতা ধরা পড়েনি। আমি যখন তাঁকে ফোন করি তিনি তখন ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। আমার ফোন কেটে যায় এরপর ঘুম থেকে উঠে তিনি সাথে সাথেই আমাকে ফোন করেন। প্রশ্ন হল যে মানুষটা আত্মহত্যা করবে সে তার আগে নিশ্চিন্তে ঘুমায় কী করে?’

ঈপ্সিতা আরও বলেন, ‘আমার স্বামী অত্যন্ত ঠান্ডা মস্তিষ্কের মানুষ ছিলেন। আমার ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল ছিলেন এবং আমাদের দুজনের মধ্যে বন্ডিং ছিল নিবিড়। তিনি আমাকে এতটাই ভালো বাসতেন যে আমাকে ছেড়ে তিনি মরার কথা ভাবতেই পারেন না। আমার মনে হয়েছে পরিকল্পনা মাফিক মার্ডার করা হয়েছে তাঁকে, তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। রাতের দিকে তাঁকে ফোন করে এমন কিছু বলা হয়েছে যা তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমার স্বামীর মোবাইল ঘেঁটে দেখুক পুলিশ, তাহলেই জানা যাবে আসল রহস্য।

ঈপ্সিতার অভিযোগ আমার কোয়ার্টারের উল্টো দিকের কোয়ার্টারে থাকা বিষ্ণুপুর থানার এক এএসআইকেই আমার সন্দেহ হচ্ছে। ওই ব্যক্তিই আমার স্বামীকে এমন কিছু বলেছেন যাঁর পরিনতিতেই আমার স্বামী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।’ যদিও এই অভিযোগ ঈপ্সিতা পুলিশের কাছে করেছেন কী না তা এখনও জানা যায়নি। তবে ঈপ্সিতার অভিযোগ নিশ্চিত ভাবেই ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।

- Advertisement -
Latest news
Related news