Wednesday, May 22, 2024

Kanthi Civic Poll: কাঁথিতে কী ঘটি হারালো তৃনমূল? শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করতে চান তৃণমূল নেতা

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা : বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর ভাই সৌমেন্দ্যুর বিরুদ্ধে বুক ঠুকে ত্রিপল চুরির মামলা করেছিলেন কাঁথির তৃনমূল নেতা রত্নদ্বীপ মান্না। ১০ মাস পর সেই মামলা প্রত্যাহার করতে চাইছেন ওই নেতা। রত্নদ্বীপ কোনও ছোটখাটো নেতা নন।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
রত্নদ্বীপ মান্না

বর্তমান কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তিনি। স্বাভাবিক ভাবেই এই কথা জানাজানির হওয়ার পরই পুরসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কাঁথি পুরসভায় ঘটি ডোবার অবস্থা তৃনমূল কংগ্রেসের। এমনিতেই প্রার্থী তালিকা নিয়ে চাপা অসন্তোষ ছিল শাসকদলের মধ্যে। তারই মধ্যে পুরসভার তৎকালীন প্রশাসনিক বোর্ডের সদস্য রত্নদীপ মান্নার এই ঘোষণায় প্রমাদ গুনছে তৃনমূল অন্যদিকে বাড়তি অক্সিজেন পেয়ে গেল কাঁথি বিজেপি।

উল্লেখ্য গতবছর মে মাসে কাঁথি পুরসভার গুদাম থেকে ত্রাণের ত্রিপল নয়ছয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারী, তাঁর ভাই সৌমেন্দ্যু অধিকারী এবং পুরসভার দুই কর্মীর বিরুদ্ধে কাঁথি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন রত্নদীপ মান্না। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারধীন রয়েছে ওই মামলা। এখন সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন অভিযোগ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছেন তিনি। কারন হিসাবে তিনি বলেছেন, ‘পুরভোটে দল প্রার্থী করেছে বিজেপি থেকে আসা লোকজনদেরই আর এই অবস্থায় নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

রত্নদ্বীপ অভিমানের স্বরে বলেছেন, ‘সেই ১৯৯৮ সাল থেকে দল করছি। দলের খারাপ সময়েও সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি সেই দলে নিজের জায়গাই নেই। পরিবর্তে ভোট ঘোষণার আগে যারা দলে এসেছে তাদের পুরভোটে প্রার্থী করা হয়েছে। পুরানো তৃণমূলকর্মীদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কোন আলোচনা করা হয়নি। যা আদি তৃণমূল কর্মী হিসেবে আমার আত্মমর্যাদায় লেগেছে।’ আক্ষেপ করে আরও বলেছেন, ‘দল আমার মতো তৃণমূল কর্মীদের খোঁজ রাখে না। সবাই পিছিয়ে গেলেও ত্রিপল চুরির ঘটনায় আমিই সাহস নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। তারপর থেকেই আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যে কোনও সময় আমার প্রাণ সংশয় হতে পারে। এটা বুঝতে পেরেছি, আমার কিছু হলে দল আমার পাশে থাকবেনা। সে কারণে আমি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

কাঁথি পুরসভার দলীয় প্রার্থী নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কাঁথি সাংগঠনিক জেলা যুব তৃনমূলের সভাপতি ও মন্ত্রী পুত্র সুপ্রকাশ গিরি স্বয়ং। প্রার্থী হয়েও মনোনয়ন জমা না দেওয়ার জন্য নাছোড় হয়েছিলেন তিনি। যদিও দলের নেতাদের কথায় শেষ অবধি লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এখন যে তৃনমূল প্রার্থীদের সুপ্রকাশ বা রত্নদ্বীপের পছন্দ নয় তাঁদের হয়ে দলীয় কর্মীরা কতটা জেতানো বা হারানোর লড়াই করবেন সে সন্দেহ রয়েই যাচ্ছে। তার আগে নিজেরই করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে চেয়ে অধিকারীদের ক্লিনচিট দিয়ে দিলেন রত্নদ্বিপ। বলাবাহুল্য লড়াইয়ে নামার আগে অনকেটাই বাড়তি মনোবল পেয়ে গেল বিজেপি।

- Advertisement -
Latest news
Related news