Friday, April 19, 2024

Pingla: পিংলা কান্ডে তিনদিনের পুলিশি হেফাজতে দুই মহিলার স্বামী কীর্তিমান পঞ্চায়েত সদস্য! মেদিনীপুরে বিক্ষোভে কাকদ্বীপ থেকে কান্তি

- Advertisement -spot_imgspot_img

শশাঙ্ক প্রধান: পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থানার কালুখাঁড়া গ্রামে এক প্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণের চেষ্টায় গ্রেফতার হওয়া গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য অভিজিৎ মন্ডলকে গ্রেপ্তার করার পর আদালতে তাঁকে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় অভিজিতের সাথে আরও একজন ছিল বলে ওই নির্যাতিতা প্রতিবন্ধীর পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। কে সেই ব্যক্তি তারও খোঁজ চলছে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
ধৃত পঞ্চায়েত সদস্য

অভিজিৎকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য পেতে চাইছে পুলিশ এমনটাই দাবি পুলিশের। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ধৃত গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য অভিজিৎ মন্ডলের দুই স্ত্রী রয়েছেন। এক স্ত্রী কালুখাঁড়া গ্রামে তাঁর বাড়িতেই থাকেন। দ্বিতীয় স্ত্রী থাকেন হাউর এলাকায়। দুই স্ত্রী থাকা স্বত্ত্বেও কী ভাবে তিনি এরকম ঘটনা ঘটাতে গেলেন তা নিয়ে অবাক গ্রামের মানুষ।

স্থানীয়দের একাংশের মতে একাধিক মহিলাদের প্রতি দুর্বলতা অভিজিতের বরাবরের অভ্যাস। দুই মহিলাকে বিয়ে করেও সেই রোগ যায়নি তাঁর। তারপরও একাধিক মহিলার প্রতি দুর্বলতা ছিল তাঁর। ঘটনার দিন গ্রামের বাসন্তী পূজার শেষদিনে বেশ রাত অবধি পরিচিত কয়েকজনের আড্ডা মারার পর বাড়ি ফিরছিল অভিজিৎ।

বিক্ষোভ পিংলায়

এরপর বাড়ি ফেরার পথে পুকুর পাড়ে হ্যারিকেন হাতে এক মহিলাকে দেখে সেদিকেই গিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন কোনও মহিলা একা দাঁড়িয়ে রয়েছে। পুকুরঘাটে যে অন্য এক মহিলা বাসন ধুচ্ছে এটা অন্ধকারে বুঝতেই পারেননি। যেমন অন্ধকারে বুঝতে পারেননি যে মহিলাকে কামতাড়িত হয়ে জাপটে ধরেছেন সে প্রতিবন্ধী।

অভিজিতের এক সহকর্মী জানিয়েছেন, যে প্রতিবন্ধী যুবতীর সাথে অভিজিৎ এই কান্ড ঘটিয়েছে সেই যুবতী ও পরিবারটিকে অভিজিৎ খুব ভাল ভাবেই চিনত। পরিবারটি কিছুদিন আগেও অবধি তৃনমূল সমর্থক পরিবার হিসাবেই পরিচিত ছিল। একসময় তাঁদের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াতও ছিল অভিজিতের।

প্রতিবন্ধীদের বিক্ষোভ

সেই হিসাবে ওই প্রতিবন্ধী যুবতীর সাথে এই ঘটনা ঘটানোর কথাই নয়। কিন্তু অন্ধকারে অন্য মহিলা ভেবেই হয়ত এই কাজ করে ফেলেছেন। যুবতীর চিৎকার চেঁচামেচির পরেই অভিজিৎ বুঝতে পারে যে টার্গেট ভুল হয়েছে তাঁর। কিন্তু ততক্ষণে তাঁকে চিনে ফেলে ওই যুবতী এবং সঙ্গে থাকা অন্য মহিলা। এদিকে এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে মেদিনীপুর শহর থেকে পিংলা বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ মিছিল করতে দেখা যায় বাম দলগুলিকে। মেদিনীপুর শহরে এই বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন বাম নেতা কান্তি গাঙ্গুলি।

জেলার পুলিস সুপার দপ্তরের সামনে প্রতিবন্ধী সংগঠনের শ’খানেক সদস্যদের বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে প্রতিবন্ধী সম্মিলনী সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক কান্তি গাঙ্গুলি বলেন, ‘সোমবার রাত আটটায় পিংলার কালুখাঁড়া মৌজায় এমন ঘটনা ঘটে। পুলিশ খবর পেয়ে ঐ গ্রামে গিয়ে ফিরে এলো কেনো খালি হাতে। কেনই বা শাসকদলের কথা মতো নির্যাতিত যুবতীকে উদ্ধার করে রাতেই মেডিকেল করা হলো না। এর পিছনে কি রহস্য আছে আজ বাংলার মানুষ জানে। হাঁসখালি থেকে পিংলার কালুখাঁড়া এমন একের পর এক ধর্ষনের ঘটনাকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন তাতে এই মেয়ে কে বাংলার মানুষ চায়না।’

বুধবার মেদিনীপুর শহরে এল আই সি মোড় থেকে এমন ঘটনায় জড়িত দের শাস্তি সহ নির্যাতিতর ন্যায় বিচার ও পুনর্বাসন দাবীতে প্রতিবন্ধীদের বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। সেই মিছিলে কান্তি গাঙ্গুলি সহ সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্ব অনির্বাণ সরকার, সৌম্য গাঙ্গুলি, মধুসূদন দাস,ধর্ম দাস ঠাকুর জেলা নেতা অশোক ঘোষ, অমরনাথ সাঁতরা প্রমুখ অংশ গ্রহন করেন। বিক্ষোভ মিছিল পুলিশ সুপারের দপ্তরে গেটে পৌঁছলে পুলিশ পথ আটকায়। পুলিশের সাথে সাময়িক ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ আধিকারিকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত হয়। জেলা পুলিশ সুপার দপ্তরে গিয়ে ডেপুটেশন দেন পাঁচ জনের প্রতিনিধি দল। তারপর মিছিল করে জেলা শাসক দপ্তরে গিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে একই দাবীতে ডেপুটেশন দেওয়া হয়।

এছাড়াও পিংলার কালুখাঁড়া, মাটিয়া, হাঁসখালি, নামখানা, বোলপুর সহ রাজ্যজুড়ে ধর্ষন এবং নারী নিগ্রহের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর সম্প্রতি করা কিছু মন্তব্যকে ধিক্কার জানিয়ে জেলার ১১টি থানা সহ ২২টি স্থানে বিক্ষোভ মিছিল সহ ডেপুটেশন কর্মসূচি হয় সিপিআইএম পক্ষ থেকে। পিংলা বিক্ষোভ মিছিল থানার সামনে বিক্ষোভ অবস্থান ও ডেপুটেশন কর্মসূচি হয়। মেদিনীপুর শহরে দুটি, খড়্গপুর শহরে তিনটি, নারায়নগড়, বেলদা, দাঁতন, ধনেশ্বরপুর, মোহনপুর,দাসপুর, গোপীগঞ্জ, গোপালী, কেশিয়াড়ী, শালবনী, পীড়াকাটা, গড়বেতা, চন্দ্রকোনারোড, ক্ষীরপাই রামজীবনপুরেও ধিক্কার মিছিল সংগঠিত হয়।

- Advertisement -
Latest news
Related news