Tuesday, June 25, 2024

Midnapore: এবার পশ্চিম মেদিনীপুরে গ্রামেও বিপুল জয় তৃনমূলের ! সহকর্মীদের রাস্তায় আটকে, মিড-ডে মিল বন্ধ করে জয় ছিনিয়ে নিলেন তৃণমূল শিক্ষক শিক্ষিকারা

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: শহরে জয়ের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রামেও বিপুল জয় তৃনমূলের। অবশ্য সেই জয়ের জন্য প্রচুর পরিশ্রমও করতে হয়েছে তাঁদের এক দিনে ২১ জন শিক্ষক শিক্ষিকা ক্যাজুয়াল লিভ বা হঠাৎ ছুটি নিয়ে বসেছেন। স্কুলে আসা পড়ুয়াদের মিড-ডে-মিল না দিয়েই বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ফোন করেন কিছু অভিভাবক। জানতে চাইলেন কেন একসাথে এতজন শিক্ষক-শিক্ষিকা অনুপস্থিত আর কেনই বা পড়ুয়াদের মিড-ডে-মিল না খাইয়ে বাড়ি পাঠানো হল? খোঁজ নিয়ে অভিভাবকরা জানলেন, স্কুলের পরিচালন সমিতিতে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন হবে, শিক্ষকরা ভোট দেবেন তাই ছেলেমেয়েরা আজ খেতে পাবেনা। তো শিক্ষকদের ভোট হবে তো শিক্ষকরা কোথায়? বেছে বেছে এই ভোটের দিনেই ২১ জন শিক্ষক আসেনি কেন? খোঁজ নিয়ে জানা গেল স্কুল থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার আগেই আটকে রাখা হয়েছে! একজন অন্যদিক থেকে স্কুলে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন তাঁকে স্কুলের গেট থেকেই ধাক্কা মেরে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

২রা মার্চ শহরের ১০৮ টি পুরসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরুনোর পরের দিনই এমনই গণতন্ত্রের প্রকাশ দেখা গেল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর সদর ব্লকের অন্তর্গত গুড়গুড়িপাল উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। ৩রা মার্চ ছিল স্কুলের পরিচালন কমিটি গঠনের জন্য ৩জন শিক্ষক ও ১জন অশিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন। ভোট দেবেন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরাই। জানা গেছে মোট ১২জনের কমিটির ৭জনই সরকার বা শাসকদলের মনোনীত। এই ৭ জনের মধ্যে একজন সভাপতি, ২জন শিক্ষানুরাগী, ২জন অভিভাবক প্রতিনিধি ছাড়াও কমিটিতে থাকেন ১জন স্কুল পরিদর্শক ও বিএমওএইচ। এছাড়া থাকেন প্রধান শিক্ষক যিনি কমিটির সম্পাদক। বাকি ৪জন কমিটিতে যাবেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী প্রতিনিধি হিসেবে। গোল বেঁধেছে সেখানেই। তৃনমূলের শিক্ষা সেল চায় এই চারটিই তাঁদের তরফেই যাবে কিন্তু সিপিএমের শিক্ষক সংগঠন এবিটিএ চায় কোন চারজন কমিটিতে যাবে তার নির্বাচন হোক। কিন্তু শিক্ষকদের মধ্যে এবিটিএ র প্রভাব বেশি তাই শিক্ষা সেলের ভয় যে নির্বাচন হলে চারটাতেই হারবে তাঁরা। দিদির ভাই-বোন বলে কথা,ক্ষমতায় আছে তাঁরাই, শিক্ষক বলে কী তাঁরা তৃনমূল নন?

এবিটিএ-র এক নেতা জানালেন, আমরা ২/২ অনুপাতে নির্বাচন এড়াতে চেয়েছিলাম। বলেছিলাম ওদের দু’জন আর আমাদের দু’জন প্রতিনিধি ঠিক করে নেওয়া হোক দু’পক্ষ মিলে। কিন্ত ওঁরা রাজি হননি। ওঁরা বলেন বড়জোর শিক্ষাকর্মী প্রতিনিধি ওঁরা ছাড়তে পারেন কিন্তু ৩জন শিক্ষক থাকবে ওঁদের তরফ থেকেই। আমরা রাজি হইনি। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব বলি এবং প্রধানশিক্ষককে তা জানিয়েও দেই। এরপর থেকেই আমাদের হুমকি দেওয়া শুরু হয়। কখনও স্থানীয় বাজারে চা খেতে গেলে আমাদের ঘেরাও করা হয়। স্কুলেরই কয়েকজন শিক্ষা সেলের মাস্টারমশাই, দিদিমণিদের প্ররোচনায় এসবই করেন স্থানীয় তৃনমূল নেতা কর্মীদের একাংশ। এরপর তৃনমূলের স্থানীয় নেতারা শিক্ষক শিক্ষিকাদের চারজনের একটি তালিকা ধরিয়ে দিয়ে বলেন ওঁদেরই ভোট দিতে হবে। ওই চারজনই শিক্ষাসেলের সদস্য সদস্যা যাঁরা হলেন, সুভাষ হাজরা, সুশীল মান্ডি, অরূপ মন্ডল, তনুশ্রী চক্রবর্তী।’

অনেক টালবাহানার পর বৃহস্পতিবার সেই ভোট দানের দিন ঠিক হয়েছিল। মেদিনীপুর শহর থেকে মাত্র ১৩কিলোমিটার দুরে গুড়গুড়িপাল স্কুল। স্বভাবতই বেশিরভাগ শিক্ষক শিক্ষিকা মেদিনীপুর শহরেই থাকেন। তাঁরা কেউ গাড়ি ভাড়া করে কেউ বাইক ইত্যাদিতে যাওয়া আসা করেন। সেই শিক্ষক শিক্ষিকাদের ১৯জনকে আটকে দেওয়া হয় স্কুল থেকে ৩ কিলোমিটার আগে লোহাটিকরি বলে একটি জায়গায়। জানা গেছে বেশকিছু মানুষ মেদিনীপুর-ঝাড়গ্রাম রাজ্যসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে গাড়ি আটকে দেন। শিক্ষক শিক্ষিকাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলা হয়। তাঁদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না বলা হয়। ছবি তুলতে, পুলিশ বা ডিআইকে ফোন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষক শিক্ষিকারা বাড়ি ফিরে আসেন। ওদিকে স্কুলের গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় যাতে কোনও বিরোধী শিক্ষক শিক্ষিকা কোনও ভাবে স্কুলে পৌঁছে গেলেও যাতে ঢুকতে না পারেন। যে কারনে ঝাড়গ্রামের দিক থেকে আসা শিক্ষককে রোখা সম্ভব হয়। এরপর নিজেরা ভোট দিয়ে নিজেরাই জিতে গেছেন তৃনমূল কংগ্রেসের শিক্ষক শিক্ষিকারা। গতকাল শহরে জেতার পর আজ গ্রামেও জিতে বেজায় খুশি তাঁরা।

বিষয়টি নিয়ে বিপদে পড়তে পারেন বলে মুখ খুলতে চাননি স্কুলের প্রধান শিক্ষক গৌতম ভৌমিক। তাঁর সাফকথা শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে কিছুই বলতে পারবনা। তবে এটা ঘটনা যে ২১জন শিক্ষক শিক্ষিকা আজ ক্যাজুয়াল লিভ নিয়েছেন। আর মিড-ডে-মিল? প্রধান শিক্ষকের আবারও আর্তি, ‘দয়া করে কিছু জানতে চাইবেননা।’ তবে হেভ্ভি খুশি স্থানীয় তৃনমূল নেতারা। সামনেই পঞ্চায়েত ভোট। শহরের কিছু মাস্টারমশাই দিদিমনিরা পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে ছেলে মেয়েদের নিশ্চিত রিগিং করাটাও শিখিয়ে দিতে পারবে। খোদ মাস্টাররাই যখন রিগিং করে তখন ছাত্ররা গুরুমারা বিদ্যাটা শিখতে পারবেনা ?

- Advertisement -
Latest news
Related news