Saturday, April 20, 2024

Digha Haldia: দিঘা হলদিয়ায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য সরকারি বাস চালানো বন্ধ করলেন শাসক দলের কর্মীরাই! পুজোর মুখেই পর্যটনে ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ দিন কয়েকের মধ্যেই বাঙালির বড় উৎসব দুর্গাপূজো। শারদীয় উৎসবের বহু বাঙালি ছুটি কাটাতে বাইরে কোথাও না কোথাও যেতে চান। দিল্লি থেকে দার্জিলিং কিংবা মুম্বাই থেকে মানালি। কিন্তু সবার তো সে সাধ্য হয়না বিশেষ করে মধ্যবিত্ত বাঙালির। তাঁদের অনেকেই ছোটেন দিঘা মান্দারমনি। সেই বাঙালির দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে রাজ্যের অন্য কিছু ডিপোর মতই অনির্দিষ্ট কালের ধর্মঘট শুরু করেছেন দক্ষিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার (SBSTC) দিঘা হলদিয়া ডিপোর অস্থায়ী ড্রাইভার ও কন্ডাক্টররা। মঙ্গলবার থেকে স্থায়ীকরণের দাবিতে শুরু করা এই কর্মবিরতিতে স্তব্ধ পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা (Digha)ও হলদিয়া(Haldia) থেকে কলকাতা (Kolkata) এবং তার সংলগ্ন এলাকায় যাওয়ার সিংহভাগ সরকারি বাস।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

সবচেয়ে বড় কথা এই ধর্মঘটের সামনের সারিতে রয়েছেন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের আওতাধীন
অস্থায়ী কর্মীদের সংগঠন। ফলে ধর্মঘট হয়েছে একশ শতাংশ। হলদিয়া-কলকাতা এবং দিঘা-কলকাতা
রুটের সমস্ত সরকারি বাস পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। প্রথম সোমবার থেকে দীঘা ডিপোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করে ছিলেন অস্থায়ী কর্মীরা। মঙ্গলবার সেই আন্দোলনের আঁচ  ছড়িয়ে পড়েছে হলদিয়াতেও। স্থায়ীকরণ, সমকাজে সমবেতন এবং ছাঁটাই কর্মীদের পুনরায় কাজে ফেরানোর দাবিতে লাগাতর আন্দোলন শুরু হয়েছে। আন্দোলনে সামিল দিঘা ডিপোর শতাধিক এবং হলদিয়া ডিপোর প্রায় ৮০জন অস্থায়ী কর্মী। হলদিয়া দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক ডিপো হওয়া সত্ত্বেও প্রায় ৭০শতাংশ অস্থায়ী কর্মীদের দিয়ে ডিপো পরিচালনা করা হয় বলে অভিযোগ। চুক্তির কর্মীদের কম বেতনে কাজ করিয়ে বঞ্চনা করানোর অভিযোগ উঠেছে।

অস্থায়ী কর্মীদের এই বিক্ষোভের ফলে এবং ড্রাইভার কন্ডাক্টররা কাজে যোগ না দেওয়ায় থমকে গেছে বাস পরিষেবা। দুই ডিপো সূত্রে জানা গিয়েছে, দিঘা থেকে কলকাতা সহ বারাসত, দমদম, ঠাকুরপুকুর, আরামবাগ, হাবড়া প্রভৃতি রুটে প্রায় ২০ টি এবং হলদিয়ায় কলকাতা সহ বিভিন্ন রুটের ২৫টি বাস রয়েছে। দুই ডিপো থেকে বাস চালানোর জন্য স্থায়ী ড্রাইভার এবং কন্ডাক্টরের সংখ্যা অত্যন্ত নগন্য । বাস চালাতে মূলত অস্থায়ী ড্রাইভার ও কন্ডাক্টরদের উপর হলদিয়া ডিপোকে নির্ভর করতে হয়। দুই ডিপোরই অস্থায়ী কর্মীরা দাবি করেন বাস চালানো সম্পূর্ণ নির্ভর করে অস্থায়ীদের উপর। অস্থায়ীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন বলে ডিপো গুলি লাভের মুখ দেখে কিন্তু স্থায়ীদের বেতনের ৬ভাগের একভাগ বেতন পান অস্থায়ীরা। এই বেতন বৈষম্য দূর করে সমকাজে সমবেতন দিতে হবে। অস্থায়ী কর্মীরা জানান, তাঁরা মাসে ২৬দিন ডিউটি করলে সাড়ে ১১হাজার টাকা পান। পিএফ কেটে নিলে টাকা পরিমাণ কমে যায়। ইদানিং সেই ডিউটির পরিমান কমিয়ে দেওয়ায় অনেকে মাসে ৩-৪হাজার টাকাও হাতে পান না। এছাড়া হলদিয়া ডিপোর ৭জন ছাঁটাই কর্মীকে ফেরানোর জন্যও সরব হয়েছেন কর্মীরা।

পুজোর মুখেই এই ধর্মঘট চলতে থাকলে পর্যটনে জোরালো প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। ক’দিন আগেই দিঘা ও সংলগ্ন এলাকায় পর্যটনের উন্নতির জন্য দীর্ঘ সমূদ্র সৈকত বরাবর মেরিন ড্রাইভ সড়কের উদ্বোধন করেছেন। অথচ তারই কয়েক দিনের মধ্যেই দিঘার সঙ্গে কলকাতা ও অন্যান্য অংশের এই বাস বিচ্ছিন্নতা চাপে ফেলেছে প্রশাসনকেও। কোনও একটি সমঝোতা সূত্র বের করে বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি চাইছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা যাতে পূজো শুরুর আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়। পূর্ব মেদিনীপুর আইএনটিটিইউসি নেতারাও তাদের সদস্য ওই বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এই কর্মবিরতি প্রত্যাহার করাতে উদ্যোগ নিচ্ছেন বলেই জানা গেছে।

- Advertisement -
Latest news
Related news