Tuesday, April 16, 2024

Midnapore: কেলেঙ্কারি পশ্চিম মেদিনীপুরের স্বনামধন্য স্কুলে! শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রেমালাপে উঠে আসল প্রধান শিক্ষকের চরিত্র, পোস্টারে পোস্টারে ছয়লাপ এলাকা

- Advertisement -spot_imgspot_img

শশাঙ্ক প্রধান: স্বনামধন্য স্কুল! যে স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী নগেন্দ্রনাথ সেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানার আওতাধীন সেই আলোককেন্দ্র হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক, পরিচালন সমিতির ও দুই শিক্ষক-শিক্ষিকার অপসারণ চেয়ে পোস্টারে পোস্টারে ছয়লাপ এলাকা। সৌজন্যে স্কুলের হোস্টেলের ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর জন্য নিযুক্ত দুই শিক্ষক শিক্ষিকার রসালাপ। প্রায় ৪০ মিনিটের সেই অডিও ফাঁস হয়েছে সম্প্রতি। আর তাকে ঘিরেই তোলপাড় আলোককেন্দ্র এলাকা। পোস্টার পড়েছে ধর্ষক প্রধান শিক্ষকের শাস্তি চাই, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শাস্তি চাই আর শিবু পার্বতীর শাস্তি চাই। রাত পোহালেই দেশজুড়ে ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন কিন্তু স্বাধীনতার গৌরব মাখা এই স্কুলে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে টালমাটাল অবস্থা। অভিভাবকদের দাবি, প্রতিদিনই চলছে মিটিং, মিটিং পুরো বিষয়টি ম্যানেজ করার, ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে অভিযুক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বাঁচানোর জন্যই চলছে দিনের পর দিন মিটিং। কিন্ত ক্ষোভে ফুঁসছে সমগ্র ডেবরা আর সেই ক্ষোভ থেকেই শনিবার আলোককেন্দ্র এলাকা জুড়ে পড়েছে পোস্টার।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

কী ঘটনা? ঘটনাটি জানাচ্ছে একটি মোবাইল অডিও ক্লিপ। ভাইরাল হওয়া ওই অডিও ক্লিপটি আলোককেন্দ্র হাইস্কুলের ছাত্র ও ছাত্রী আবাসের দুই শিক্ষক শিক্ষিকার। দীর্ঘ আলাপ চলছে শিক্ষক শিবু ও শিক্ষিকা পার্বতীর। এই ‘শিব-পার্বতী’ অবশ্য স্কুলের স্থায়ী শিক্ষক নন, এঁরা হোস্টেলের ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর জন্য বিশেষ ভাবে নিযুক্ত এবং সম্ভবতঃ হোস্টেল কিংবা স্কুলের আশেপাশে থাকেন। কোনও একটি সময়ে এঁরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন। শিক্ষকটি মদ্যপান করেছেন বোঝা যাচ্ছে। দীর্ঘ সেই ফোনালাপে তাঁরা যেমন নিজেদের ব্যক্তিগত অন্তরঙ্গতার কথা বলছেন, নিজেদের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলছেন তেমনই বলছেন হোস্টেলে থাকা একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিখিল মন্ডল কী রকম আচরণ করেন তাঁর কথা। ওই ফোনালাপে দাবি করা হয়েছে প্রধান শিক্ষক ছাত্রীদের আপত্তিকর ভাবে স্পর্শ করেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এই অডিও ক্লিপ ভাইরাল হওয়ার পরই তোলপাড় এলাকা। যদিও ওই অডিও ক্লিপটির সত্যতা যাচাই করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি!
কিন্তু ঘটনা এটাই যে গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কিংবা ওই দুই শিক্ষক-শিক্ষিকার কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গত কয়েকদিন ধরে প্রায় ৫০ বার ফোন করা হয়েছে প্রধান শিক্ষক নিখিল মন্ডলকে, ৪০ বার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অংশুমান জাসুকে। হয় তাঁদের মোবাইলে সুইচ অফ অথবা রিং হয়ে গেছে।

গত কয়েকদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে। শনিবার আরেকদফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ম্যানেজিং কমিটির। কিন্তু শুক্রবার রাতের অন্ধকারে কেউ বা কারা ডেবরা ব্লকের আলোককেন্দ্র বাজার সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বাজারের দেওয়াল, কার্লভাট পোস্টারে ছেয়ে দিয়েছে! পোস্টারগুলিতে লেখা “হোস্টেল ছাত্রীদের শ্লীলতাহানিকারী নিখিল মণ্ডলের শাস্তি চাই”, “ম্যানেজিং কমিটির কারেপটেড সভাপতির শাস্তি চাই”, “শিবু – পার্বতীর শাস্তি চাই” ইত্যাদি। শুক্রবারও বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলেও স্কুলের কোন শিক্ষা কর্মী ঘটনার মুখ খুলতে রাজি হননি, এমনকি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিডি সভাপতি এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও একাধিকবার ফোন করেও তাদের সাথে যোগাযোগ করে ওঠা সম্ভব হয়নি।

এরপরই যোগাযোগ করা সম্ভব হয় ডেবরা পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ বিবেকানন্দ মুখার্জির সঙ্গে। তিনি ওই সভায় ছিলেন বলে জানা গেছে। মুখার্জি বলেন, “হ্যাঁ সভায় প্রধান শিক্ষকের আচরণ, ওই দুই শিক্ষক-শিক্ষিকার ফোনালাপ ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি পুরো বিষয়টি জানার পর স্তম্ভিত। ডেবরা ব্লকের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই স্কুল যার জায়গা দান করেছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী নগেন্দ্রনাথ সেন। আমি মিটিং থেকেই ডিস্ট্রিক্ট ইন্সপেক্টর অফ স্কুলস বা ডি.আইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি।” তিনি এও স্বীকার করে নিয়েছেন ওই প্রধান শিক্ষককে আড়াল করার, বিষয়টি ম্যানেজ করার চেষ্টাও করছে কেউ কেউ। এদিকে স্কুলের অভিভাবকরা রীতিমত ফুঁসছে। তাঁরা অবিলম্বে প্রধান শিক্ষকের কঠিন শাস্তি চাইছেন । ঘটনা যেকোনও সময়ে অন্যদিকে মোড় নিতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে পুলিশও এলাকা পরিদর্শন করে গেছে।

- Advertisement -
Latest news
Related news