Saturday, May 25, 2024

Midnapore: এবার কোলাঘাটে নদীবাঁধে ধস! নদীগর্ভে যেতে রাস্তা যাওয়ার পরই সেচদপ্তরের ঘুম ভাঙার অভিযোগ

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা : ৬দিন আগেই রাস্তায় ফাটল ধরেছিল। অভিযোগ তখন ঘুম ভাঙেনি সেচদপ্তরের। ঘুম ভেঙেছে তখনই যখন কার্যত কিছুই করার নেই। শুক্রবার নদীবাঁধে ধস নেমে কোলাঘাটের দেনান এলাকার রাস্তার বেশ কিছু অংশ চলে যেতে বসেছে রূপনারায়নের গর্ভে। শুধু তাই নয় ধসের প্রবণতা বলছে নদী গর্ভে কয়েকদিন ধরেই একটু একটু করে ফাটল ধরছিল কোলাঘাট স্টেশন লাগোয়া দেনান নদী বাঁধে। শুক্রবার বিকেলে হঠাৎই নামে ধস। প্রায় ১৫০ ফুট এলাকায় ধস নেমে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

সেচ দপ্তরের কর্তারা জানিয়েছেন, হাওড়ার দিকে রূপনারায়ণ নদীতে তৈরি হওয়া বিশাল চরের কারণেই মূলত এই বিপর্যয়। হাওড়ার ওই চরের জন্যই কোলাঘাটের দিকে সরে এসেছে নদীর মূল স্রোত। যা সরাসরি ধাক্কা মারছে বাঁধে। তাতেই নদীবাঁধ বিপ্পন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে বাঁধ লাগোয়া বয়ে চলার রূপনারায়নের তলদেশে ক্ষয় মারাত্মক ভাবে চলে এসেছে রাস্তার নিচের অংশে আর তার ফলেই বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা এখন স্থানীয় মানুষের মনে। নদী গর্ভে কী এবার বাপ চোদ্দপুরুষের ভিটে? এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারছেন না সেচ দপ্তরের আধিকারিকরাও। বাঁধ রক্ষায় দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি হাওড়ায় নদীর চর সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন্যা-ভাঙন-খরা প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ নায়েক। এই মর্মে সেচমন্ত্রীকে স্মারকলিপিও দিয়েছেন তিনি। বিকেলে ধস নামার খবর পেয়েই বিপন্ন ওই এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি দেখে যান সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা।

শুক্রবার সন্ধ্যাবেলাতেই এলাকা পরিদর্শনে যান সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র। তারপরই জরুরি ভিত্তিতে রাত থেকেই ধস এলাকায় বাঁধ মেরামতির কাজে হাত লাগিয়েছে সেচ দপ্তর। সেচমন্ত্রী বলেন, ‘ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারা এসেও ধস কবলিত এলাকা ঘুরে গিয়েছেন। বাঁধ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ আমি দিয়েছি। সেই মতো তাঁরাও তৎপরতার সঙ্গে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।’ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সেচ দপ্তরের নির্বাহী বাস্তুকার অনির্বাণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘ ভয়াবহ ধস নেমেছে। বিপন্ন হয়ে পড়েছে নদীবাঁধ। আর যাতে বড় কিছু না ঘটে সে জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাঁধের কাজ শুরু হয়ছে।’

কোলাঘাট ব্লক কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে গত শনিবার এই রাস্তার ওপর প্রথম ভাঙনের চিহ্ন নজরে পড়েছিল। কোলাঘাট ব্লক কংগ্রেস সভাপতি সমীর হোসেন বলেন, ‘ খবর পেয়ে আমরা গত রবিবারই এই এলাকায় এসেছিলাম। তখনই অবস্থা ভয়াবহবলে মনে হয়েছিল। এতদিন তাহলে সেচ দপ্তরের কর্তারা কী করছিলেন? নদীর বাঁধের ধারে একাধিক নিয়ম বহির্ভূতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ হল কী ভাবে? কারা অনুমতি দিল ওই ভবন নির্মাণের? সেচ দপ্তরের লোকেরা কী করছিল? এখন হাওড়া চরের ঘাড়ে দোষ চাপালে হবে। চর তো প্রকৃতির নিয়মেই গড়বে। সেটা জেনেই তো পরিকল্পনা করতে হয়।” এই ভাঙনের জন্য কারা দায়ি তদন্ত করে সেই ব্যাক্তি ও জড়িত আধিকারিকদের খুঁজে বের করে শাস্তির দাবি করেন তিনি। উল্লেখ্য কিছুদিন আগেই তমলুকের অন্তর্গত কাঁসাই নদীর পাড়ের একটি রাস্তা সহ বেশ কিছু ঘরবাড়ি নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে।

- Advertisement -
Latest news
Related news