Tuesday, April 16, 2024

Panskura: চাকরির পরীক্ষার আগেই সচিত্র নিয়োগের তালিকা ছড়িয়ে আছে পাঁশকুড়ার রাজপথে! কোন পদে কত দর তাও বলা লিফলেটে

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা : রবিবার পাঁশকুড়া পুরসভার ২টি শূন্যপদদের জন্য পরীক্ষা হতে চলেছে। তার ২৪ ঘন্টা আগেই কোন পদে কাকে নিয়োগ করা হতে চলেছে তার বিস্তারিত তালিকা জানিয়ে লিফলেটে ছেয়ে গেল পাঁশকুড়া পুর এলাকা। শুধু তাই নয় যাঁদের নিযুক্ত করা হতে চলেছে বলে দাবি করা হয়েছে তাঁরা বর্তমানে অন্য জায়গায় কর্মরত। চলতি শূন্যপদে তাঁরা নিয়োগ হলে তাঁদের আগের যে দুটি পদ শূন্য হবে সেখানে কাদের নিয়োগ করা হবে তারও নাম প্রকাশ করা হয়েছে। সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোন পদের জন্য কত লাখ টাকা খসাতে হচ্ছে নিযুক্ত হতে যাওয়া ওই ব্যক্তিদের। পুরো বিষয়কে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

জানা গেছে পুরসভায় নিয়োগ CMM এবং DEO পদে। স্থায়ী পদ, মোটা বেতন। সেই পদের পরীক্ষা রবিবার। শত শত বেকার যুবক যুবতী ওই পদের জন্য পরীক্ষায় বসতে চলেছেন। আর তার ঠিক আগেই “পাঁশকুড়ার বেকার যুবক যুবতী জাগো, প্রতিবাদ কর।” শীর্ষক লিফলেট বাজার গরম করে দিয়েছে। লিফলেটে বলা হয়েছে,” আগামী 19/06/2022 তারিখ রবিবার ছুটির দিনে পাঁশশকুড়া মিউনিসিপ্যালটির NULM স্কীমের জন্য CMM ও DEO পদে লোক নিয়োগের পরীক্ষা পাঁশকুড়া বনমালী কলেজে অনুষ্ঠিত হবে। যদিও নিয়োগের ব্যাপারে মাননীয় চেয়ারম্যান শ্রী নন্দকুমার মিশ্র সহঃ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ কাকে নেওয়া হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পাকা করে রেখেছেন। CMM পদে প্রয়াস বর ও DEO পদে মিউনিসিপ্যালটির কর্মরত ITO কর্মচারী সৈকত দাসকে নেওয়া হবে। বেতনক্রম যথাক্রমে 30000 (ত্রিশ হাজার) এবং 50000 (পঞ্চাশ হাজার) টাকা । সৈকত দাসের চাকরী হয়ে গেলে তার ITO দপ্তরে নন্দ বাবুর ঘনিষ্ঠ প্রতাপপুরের সুদীপ চক্রবর্তীকে নেওয়া হবে ঠিক হয়েছে।”

কোন পদের জন্য কত টাকা ঘুষ দিতে হবে তা উল্লেখ করে লিফলেটে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, “চাকরির যৌতুক হিসাবে যথাক্রমে CMM এর জন্য ১৫ লক্ষ টাকা ও DEO পদের জন্য ২০ লক্ষ টাকা এবং তৃতীয় ব্যাক্তির চাকরি হলে তাকেও ১০ লক্ষ টাকা হবে কথা হয়েছে।
আমাদের প্রশ্ন, তবে বেকার ছেলেদের কেন হয়রানি করার জন্য ডাকা হয়েছে। চাকরি তো কে পাবে ঠিক হয়েই আছে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুবক যুবতীরা পথে নামুন, প্রতিবাদ করুন। যদি নিময় মেনে পরীক্ষা ও নিয়োগ না হয়, প্রভাব খাটিয়ে পূর্ব্ব নিধারিত মনোনিত দুজনই কাজ পায় তবে চেয়ারম্যান সাহেব জেনে রাখুন আমরা পাঁশকুড়ার বেকার যুবক যুবতীরা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হবই।”

তবে এ ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি লিফলেটে নাম থাকা চাকরি প্রার্থীদের। অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন পুরসভার চেয়ারম্যান নন্দকুমার মিশ্র। তাঁর বক্তব্য, পুরসভা ও তৃণমূলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বিজেপি-র লোকজন এমন লিফলেট ছড়িয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় বিজেপি নেতা প্রতীক পাখিরা বলেন, ‘ তৃণমূল যে টাকার বিনিময়ে চাকরি দিয়ে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের পথে বসিয়েছে তা বাংলার মানুষ জানেন। তাই দুর্নীতির অভিযোগ উঠতেই আমাদের দিকে চক্রান্তের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তা ঠিক না। ওরা সাধু, স্বচ্ছতার সঙ্গে কর্মী নিয়োগ করে সেটা প্রমাণ করুক। উল্লেখ্য সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষিকার তালিকা থেকে হাইকোর্ট যে ২৬৯ জনের নাম ছেঁটে ফেলেছে তার মধ্যে উঠে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুরের এক তৃনমূল নেত্রী তথা নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের কর্মাধ্যক্ষের নাম। এরপর এই লিফলেট নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ালো।

- Advertisement -
Latest news
Related news