Sunday, April 14, 2024

Midnapore: অকালে বিদায় নিলেন টিটো! ‘সম্ভ্রম’ হারিয়ে যন্ত্রনায় কুঁকড়ে মেদিনীপুর শহর, ফেসবুকে কান্নার ঝড়

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: শনিবার সন্ধ্যাতেও খড়গপুর শহরের এক মুমূর্ষুকে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়েছিলেন। ঘরে ফেরার পর সাড়ে ৮টা নাগাদ একটু অসুস্থতা বোধ করছিলেন। হঠাৎই শুরু হয় বমি। বেশ কয়েকবার। ক্রমশঃ একটা আচ্ছন্ন ভাব ঘিরে ধরছিল দেখে তাড়াহুড়ো করে কয়েকজন আত্মীয় বন্ধু নিয়ে যান মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
গদাধরের ভূমিকায় টিটো! বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ

কিন্তু না, আর ফেরা হ’লনা বাড়ি, ফেরা হ’লনা ‘বাপী কখন আসবে?’ বলে অতন্দ্র চেয়ে থাকা ১২ বছরের মেয়ের কাছে। চিকিৎসকরা জানালেন, সেরিব্রাল আ্যটাক, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ। ঘন্টা কয়েক আগেই এক মুমূর্ষুকে অক্সিজেন দান করে মাত্র সাড়ে এক চল্লিশে নিজেই অক্সিজেন নেওয়া বন্ধ করে দিলেন ‘টিটো।’ রবিবার সকাল থেকে এক এক করে খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই অসম্ভব মানসিক যন্ত্রনায় কুঁকড়ে পড়েছে সারা মেদিনীপুর শহর। সোশ্যাল মিডিয়ায় (Facebook) ক্রমাগত বিলাপ রাগিনী আছড়ে পড়ছে টিটো নেই, টিটো নেই, টিটো নেই! পরিচিত মহল যেন ভেতরে ভেতরে মাথা খুঁড়ে চলেছে প্রিয় সন্তান হারানোর যন্ত্রনায়।

কোন লুকানো যন্ত্রনায় টিটো বা সম্ভ্রম চক্রবর্তীর মাথার শিরা উপশিরার তন্ত্রী ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল এখন আর তা জানার উপায় নেই কিন্তু মেদিনীপুর শহরজুড়ে তার জন্য ছড়ানো আশ্চর্য সফলতার স্বীকৃতি, সম্ভ্রম সৃষ্টিকারী কীর্তি। সঙ্গীত সাধনা করেছেন পন্ডিত জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের কাছে। তাঁর মধু মাখা গানের গলায় অসাধারণ সুর খেলে যেত। পরিচিত মহলে যে কারনে তাঁর অসম্ভব স্বীকৃতি মিলেছিল। সংস্কৃতি চর্চায় নতুন দ্যোতনা যুক্ত হয়েছিল নাটকের ক্ষেত্রে।

গানের রেকর্ডিংয়ে

কিছুদিন আগেই মেদিনীপুর মহাবিদ্যালয়ের ১৫০ বছর পূর্তি উৎসবে প্রাক্তনীদের নাট্য অভিনয় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ তে অভিনয় করেছেন গদাধর চরিত্রে। নাট্যবোদ্ধাদের মতে, অনবদ্য সে অভিনয়! নাটকের নির্দেশক, মেদিনীপুর শহরের অন্যতম নাট্য ব্যক্তিত্ব পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ” টিটো মূলতঃ গানের জগতের মানুষ হলেও বছর খানেক আগে রক্তকরবী অভিনয়ের জন্য ওঁকে বেছে নিয়েছিলাম। রক্তকরবী নাটকে ওঁকে বিশু পাগলের চরিত্রে অভিনয় করিয়েছিলাম। বাংলা নাটকের জগতে রক্তকরবী আর বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ যেমন দুটি ক্লাসিক নাটক হিসাবে বিবেচিত হয় তেমনই বিশু পাগল আর গদাধর দুটি ক্লাসিক চরিত্রও বটে। আনকোরা অভিনেতা হয়েও দুটি চরিত্রে সফলতার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন টিটো। ওকে নিয়ে অসংখ্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছিলাম। টিটোকে হারিয়ে মেদিনীপুরের সাংস্কৃতিক জগৎটার যেমন মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গেল তেমনই ও যেন আমাকে খোঁড়া করে দিয়ে চলে গেল। আমি এখনও ভাবতেই পারছিনা টিটো নেই।”

টিটোর বন্ধুরা জানিয়েছেন, মানব প্রেম আর পশুপ্রেম তাঁর শিরায় শিরায় প্রবাহিত ছিল। করোনা আর লকডাউনে দুঃস্থ, অবলম্বনহীন, পীড়িত মানুষের জন্য ছুটে গিয়েছেন বারংবার। পরোপকারের নেশায় নাওয়া খাওয়া ভুলেই যেতেন। পথের কুকুরদের পরম মমতায় ভালোবাসতেন। নিজের ঘরে একটি বিলেতি কুকুরের পাশাপাশি পথ থেকে তুলে আনা কুকুরকে রেখেছিলেন। সম্প্রতি শুরু করেছিলেন শহর থেকে সাপ উদ্ধার করে জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে আসার কাজ। বন্ধুদেরকে বলতেন, কোথাও সাপ দেখতে পেলে না মেরে যেন তাঁকে খবর দেওয়া হয়। এই দুঃসাহসী কাজটি করতে গিয়ে দু’দুবার সাপের ছোবলও খেয়েছেন কিন্তু পিছিয়ে আসেননি।

গ্রীন রুমে! নির্দেশক পার্থ মুখোপাধ্যায়ের সাথে

মেদিনীপুর শহরের বক্সীবাজারে বাবা-মা আর স্ত্রী কন্যাকে নিয়ে থাকতেন। বেড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পরিবেশেই বাবা প্রসিদ্ধ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রণব চক্রবর্তী পরিচিত মহলে জেমু নামে প্রসিদ্ধ। মা রেবা চক্রবর্তী শিক্ষিকা এবং সংস্কৃতি সংগঠক। বাবা মা দুজনেই ছিলেন মেদিনীপুরের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘নিশান’ এর সংগঠক সদস্য।

ডাক পড়লেই প্রিয় এই বাইক নিয়ে হাজির টিটো

দিদি শতাব্দী একজন সফল নৃত্যশিল্পী। মেদিনীপুর শহরের বটতলায় একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকান ছিল টিটোর কিন্তু সেখানে তার বসাই হতনা তাঁর। মেদিনীপুর শহরের প্রিয় আশ্চর্য এই বোহেমিয়ান চরিত্রটি যেন হঠাৎ করেই নিজের অবসর খুঁজে নিলেন শনিবার রাতে। তাঁর ভালোবাসার মানুষগুলিকে রাতারাতি নিঃস্ব করে স্থায়ী ঠিকানা করে নিলেন আকাশের গায়ে, টিটো নামে কোনও নক্ষত্র কী সেখানে রয়ে যাবে?

- Advertisement -
Latest news
Related news