Thursday, May 23, 2024

Digha: হোটেলে ঠাঁই নেই! রঙের উৎসবে পর্যটক উপচে পড়ল দিঘা, তাজপুর, মন্দারমণিতে

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: ” দাদা একটা রুম, ডবল বেড। একটা হলেই চলবে। চারজন শেয়ার করে চালিয়ে নেব।” ওল্ড দিঘার অভিজাত হোটেলের রিসেপশনে মাথা খোঁড়ার অবস্থা বেহালার অমিত মন্ডলের। বৃহস্পতিবার বিকালে ওল্ড দিঘায় বাস থেকে নেমেই হোটেলে হোটেলে ঢুঁ মারছেন অমিত আর তাঁর স্ত্রী অর্পিতা। সঙ্গে ১২ আর ৯ বছরের দুটি সন্তান। চারটা হোটেল ফিরিয়ে দিয়েছে। পাঁচ নম্বর হোটেলে হত্যে দিয়ে পড়ে রয়েছেন। ম্যানেজার বোঝানোর চেষ্টা করছেন, অন্য কোথাও দেখুন কিন্তু আর নড়ার ক্ষমতা নেই মন্ডল পরিবারের। রিসেপশনের সোফায় দুই সন্তানকে নিয়ে গ‍্যাঁট হয়ে বসে রয়েছেন অর্পিতা। ওদিকে অমিত লড়ে যাচ্ছে, ” প্লিজ দাদা একটা রুম, ডাবল বেড হলেই চলবে….”

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

এবার দিঘার জন্য হোলির ছুটিতে স্পেশাল ট্রেন চালানোর কথা ঘোষণা করেছিল দক্ষিণ-পূর্ব রেল।
প্রাথমিকভাবে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের তরফে বলা হয়েছিল ১৭ মার্চ (বৃহস্পতিবার), ১৮ মার্চ (শুক্রবার) এবং ১৯ মার্চ (শনিবার) সেই ট্রেন চলবে। ঘোষণার পরপরই অসম্ভব সাড়া পাওয়া যায়। দুদিনের মধ্যেই বুক হয়ে যায় তিনদিনের সমস্ত আসন। ফলে ফের আরও ৩ দিনের জন্য ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দু’দিন পরেই দক্ষিণ-পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে দোল স্পেশাল ট্রেন চলবে আরও ৩দিন । ২০ মার্চ (রবিবার), ২১ মার্চ (সোমবার) এবং ২২ মার্চও (মঙ্গলবার) স্পেশাল ট্রেন চলবে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল। বৃহস্পতিবার সেই ট্রেন উপচে মানুষের ঢল নেমেছে। সঙ্গে পেটে পিঠে উপচে পড়ে দিঘায় ঢুকছে কলকাতা সহ প্রায় সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ থেকে আসা বাসগুলি।

শুধু দিঘা নয়, শুক্রবার থেকে রবিবার ৩ দিনের লম্বা ছুটিকে যেন চেটেপুটে ভোগ করতে পর্যটকেরভ। তার অবিশ্বাস্য ঢল নামতে দেখা গেল দিঘা- শঙ্করপুর, তাজপুর- মন্দারমণিতে। সর্বত্রই গিজগিজ করছে ভ্রমণপিপাসুদের দল। সর্বত্রই মারকাটারি ভিড়ের ছবি । বৃহস্পতিবার ছুটির প্রথম দিনেই ওল্ড দিঘা থেকে নিউ দিঘায় যাওয়ার রাস্তায় পর্যটকদের ভিড়ে যেন পায়ে পা লেগে যাওয়ার জোগাড়। জন্য হেঁটে যেতেও বারবার থমকাতে হয়েছে পর্যটকদের। অন্যদিকে দুপুরের পর থেকে পর্যটক বোঝাই গাড়িতে যানজট হওয়ার মত অবস্থা ব্যস্ততম ১১৬ বি জাতীয় সড়ক। তারই মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে শয়ে শয়ে পর্যটক রঙ আর আবীর নিয়ে নেমে পড়েছেন সৈকতে। শুরু হয়ে গেছে বসন্ত উৎসব।

কলকাতার আরেক পর্যটক অনুপম সিনহা জানিয়েছেন, ‘ বড় জোর বেঁচে গিয়েছি এবার। এত ভিড় কল্পনাও করতে পারিনি ! ভাগ্যিস আগেভাগে হোটেল বুকিং করেছিলাম। যা পরিস্থিতি, তা না হলে এসেই বাড়ি ফিরতে হত।’ অনেকের মতেই এবারের ভিড় এই সময় কালের রেকর্ড। গত বছর লকডাউন কাটানোর পর ২৫শে ডিসেম্বর কিংবা এবছরের শুরুতেই ১লা জানুয়ারির বর্ষবরনের ভিড়কেও ছাপিয়ে গেছে বসন্ত উৎসবের দিঘা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাড়তি পুলিশ মোতায়েন হয়েছে সৈকত শহর জুড়ে। কাঁথির মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সোমনাথ সাহা বলেন, ‘ দিঘা এবং লাগোয়া ৩ পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় রয়েছে।আরও ভিড় বাড়বেও। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাড়তি পুলিশি বন্দ্যোবস্ত রাখতে হয়েছে।’

বৃহস্পতিবারের শুরুর দিনেই পর্যটকদের ঢল দেখেই খুশির ঝলক পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে। দিঘা শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, ‘ দিঘার প্রায় সব হোটেলেই ৯০-৯৫ শতাংশ বুকিং হয়ে গিয়েছে। ৭০ শতাংশ পর্যটক ইতিমধ্যে চলে এসেছেন। শুক্রবার ১০০ শতাংশ হোটেল বুকিং হয়ে যাবে।’ মন্দারমণি ১২০ টি হোটেলই হাউসফুল বলে জানিয়েছেন মন্দারমণি বিচ হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দেবদুলাল দাস মহাপাত্র। শুধু হোটেল মালিকরাই নন, লকডাউনের ক্ষত মেরামতের আশায় দিঘার কয়েকশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পরিবহন ব্যবসায়ীরাও।

- Advertisement -
Latest news
Related news