Friday, April 19, 2024

Debra Crime: পিংলায় কলেজ ছাত্রী খুনের ছায়া এবার ডেবরাতেও! বাড়িতেই উদ্ধার ছাত্রীর মৃতদেহ! পলাতক রাজমিস্ত্রী, ধর্ষণে ব্যর্থ হয়েই কী খুন

- Advertisement -spot_imgspot_img

শশাঙ্ক প্রধান : বৃহস্পতিবার সাতসকালে নিজের বাড়ির নিজেরই রুম থেকে উদ্ধার হওয়া এক ১৯ বছরের তরুণীর দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ালো পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানা এলাকার বাড়াগড় গ্রামে। ঘটনায় বছর দুয়েক আগে পিংলা থানা এলাকায় এক কলেজ ছাত্রী খুনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে মৃত ওই যুবতীর স্পৃহা চক্রবর্তী, বয়স (১৯)। গত বছর খুব ভালো নম্বর নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন স্পৃহা। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে ডেবরা থানার পুলিশ এবং উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্তারাও।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

মৃতা ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘ ডাক্তারী পড়ার ইচ্ছা ছিল স্পৃহার। সেই কারণে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিজের বাড়ির দোতালার একটি ঘরে একাই থাকতেন স্পৃহা। প্রতিদিনকার মতো বুধবার রাতেও খাওয়া দাওয়া সারার পর বাড়ির দোতালায় স্বাভাবিক ভাবেই নিজের কক্ষে চলে যান ওই তরুণী। কখনও রাত্রে পড়াশুনা করতেন কখনও আবার ঘুমিয়ে পড়তেন। তরুনীর মায়ের কথা অনুযায়ী, রাত্রি আড়াইটা নাগাদ মেয়ে একবার নিচে নেমেছিল জল খেতে। তখনও তাঁর সাথে কথা হয়। এরপর সে ওপরে উঠে যায়।’ বৃহস্পতিবার সকালে তরুণীর টিউশন পড়তে যাওয়ার কথা ছিল। মাকে বলেছিলেন সকালে ডেকে দিতে। সেই মত স্পৃহার মা দোতলায় উঠে মেয়েকে ডাকতে যান। কিন্তু কয়েকবার ডাকাডাকির পরও কোন সাড়া না পেয়ে দরজায় ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে যায়। অর্থাৎ দরজা ভেজানো ছিল। ঘরের ভেতরে মা প্রবেশ করে দেখেন বিছানার উপর উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছে মেয়ের দেহ! হাত-পা ঠান্ডা।

সাথে সাথে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ডাকেন তার মা। পরিবারের সদস্যরা দেখেন ওই তরুণীর শরীরের হাতে ও গলায় একাধিক দাগ রয়েছে। এরপরই ঘটনার খবর দেওয়া হয় ডেবরা থানায়। ঘটনার খবর পেয়ে ডেবরা থানার পুলিশ গিয়ে ওই তরুণীকে ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করায় পুলিশ দেহটি থানায় নিয়ে আসে এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়।

মৃত ওই যুবতীর বাবা ভগীরথ চক্রবর্তী বলেন, ” ডেবরা বাজার সংলগ্ন তাদের একটি নির্মীয়মান বাড়ির কাজ করছিলেন কয়েকজন মুর্শিদাবাদের রাজমিস্ত্রি। মেচোগ্রামের এক ঠিকাদারের অধীনে কর্মরত রাজমিস্ত্রী ও জোগাড়দাররা বাড়াগড়ে তাদের গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন। বৃহস্পতিবার ভোরেই ওই রাজমিস্ত্রীদের মধ্যে ১জন পলাতক। বাকী তিনজনকে ও ঠিকাদারকে আটক করে ডেবরা থানার পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।” মৃতার এক আত্মীয় জানিয়েছেন, স্পৃহার নিজের রুমের দরজা খোলা ছিল এবং নিচের গেটের তালা ভাঙা ও গেট হাট করে খোলা ছিল। স্পৃহার গলায় কালশিটে দাগের পাশাপাশি হাতেও আঁচড়ের দাগ ছিল। পরনের জামাকাপড় কোথাও কোথাও ছেঁড়া। পাশেই একটি কাপড়ের অংশ ছিল।” ওই কাপড় দিয়েই গলায় ফাঁস দিয়ে মারা হয়েছে স্পৃহাকে? উঠছে প্রশ্ন।

উল্লেখ্য বছর দুই আগে পিংলা থানা এলাকার জামনা গ্রামে এক কলেজ ছাত্রী খুন হয়েছিলেন নিজের ঘরেরই একটি অংশে। সেখানেও বাড়িতে কাজ করতে আসা এবং কয়েকদিন ধরে তাদের বাড়িতেই থেকে যাওয়া রাজমিস্ত্রী ও লেবারদের ওপরই অভিযোগের আঙুল ওঠে। পরে পুলিশ জানিয়েছিল ধর্ষণে ব্যর্থ হয়েই এক লেবার খুন করেছিল ওই ছাত্রীকে। স্পৃহার বেলাতেও কী একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। স্পৃহার জেঠামশাই যজ্ঞেশ্বর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “ওই পলাতক রাজমিস্ত্রী প্রথমে ফোন ধরে বলছিল যে সে বাস ধরে ডেবরা আসছে কিন্তু তারপর থেকেই তার সুইচ অফ।” যদিও স্পৃহার মৃত্যুর ঘটনার কারন ঠিক কী তা এখনও খোলসা করে বলতে রাজী নয় পুলিশ। পুলিশের তরফে প্রাথমিক ভাবে বলা হচ্ছে, এটি খুনের ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে কিন্তু কেন খুন সেটা এখুনি বলা যাবেনা।

- Advertisement -
Latest news
Related news