Monday, April 15, 2024

Digha Marine Drive: দিঘার মেরিন ড্রাইভে প্রথম মৃত্যু! বাইক রেসে হত পডুয়া, নজরদারি চাইছেন জনতা, জাতীয় সড়কে মায়ের সামনেই মৃত ছেলে

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: বন্ধুকে পেছনে নিয়ে বাইকে মেরিনে ড্রাইভে স্বপ্নের উজান বাইতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক দশম শ্রেণীর পড়ুয়ার। গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্য কিশোর। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মন্দারমণি কোস্টাল থানা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে মৃত ১৭ বছরের ওই ছাত্রের নাম বিকাশ ঘোড়াই। মৃত ও আহত দুই কিশোরের বাড়ি রামনগর থানার বালিসাইয়ে। মৃত বিকাশ রামনগর রাও হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। বিকাশের সঙ্গে থাকা আহত কিশোরেরও বাড়ি ওই একই এলাকায়। শুভময় মাইতি নামে ওই কিশোর বর্তমানে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে চিকৎসাধীন।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

স্থানীয় মানুষজনের বক্তব্য মাস দুয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ১৭৩ কোটি টাকার প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। ৩০ কিলোমিটার ব্যাপী এই সমুদ্র তীরবর্তী পথটির আংশিক অবশ্য মুখ থুবড়ে পড়েছে উদ্বোধনের পরই। বিশেষ করে শংকরপুর থেকে তাজপুর এই সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা বর্তমানে ভেঙে চুরে অগম্য কিন্তু দুদিকের বাকি অংশে দেদার বাইক ছোটান কিশোর থেকে যুবক এমন কি সদ্য স্কুটি চালাতে শেখা যুবতীরাও। চলে একে অপরকে টপকে যাওয়ার দুরন্ত বাইক রেসিং। মঙ্গলবার সেই রোমাঞ্চের স্বাদ নিতে গিয়েই মৃত্যু হল ওই কিশোরের। ঘটনাটি ঘটেছে ওই কিশোরের বাড়ি থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে শঙ্করপুরের কাছাকাছি নায়েকালী ব্রিজে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ৫০ মিটারের কাছাকাছি দৈর্ঘ্যের এই নায়েকালী সেতুটিকে ঘিরেই বাইকের রেসিংয়ের দাপাদাপি। সেতুটি একটু উঁচু হয়ে নেমে গেছে দু’পাশেই। দিঘার দিক থেকে একটি বাঁক পেরিয়ে যেমন সেতুতে উঠতে হয় ঠিক তেমনই সেতু পেরিয়েই শঙ্করপুরের মুখে রয়েছে একটি লম্বা বাঁক। বাইক রেসিং যাঁরা করে থাকেন সেতু সহ এই দুটি বাঁক দুরন্ত গতিতে অতিক্রম করা। সদ্য বাইকে হাত পাকানো মৃত বিকাশও বন্ধুকে পেছনে নিয়ে সেটাই করছিল। বাইকের গতিবেগ ছিল ৭৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। একটি বাঁক অতিক্রম করার পর ভারসাম্য হারিয়ে সোজা সে ধাক্কা মারে সেতুর রেলিংয়ে এবং বাইক থেকে ছিটকে পড়ে কংক্রিটের ওপর। হেলমেট না থাকায় মাথায় জোরালো আঘাত লাগে।  গুরুতর জখম অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রামনগর-২ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা। সেখানেই বিকাশকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

স্থানীয় মানুষরা দাবি করেছেন, বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যার মুখ থেকেই বাইক বাজদের দাপট বাড়তে থাকে মেরিন ড্রাইভের ওপর। এদের দুরন্তপনায় সাধারন পথযাত্রীদেরও প্রাণ হাতে করে রাস্তায় চলতে হয়। বিষয়টি নিয়ন্ত্রনের জন্য পুলিশের কোনও নজরদারি নেই। বাইকবাজরা ছাড়াও মেরিন ড্রাইভ জুড়ে বিভিন্ন নেশাড়িদেরও উৎপাত বাড়ছে বলে দাবি স্থানীয় মানুষজনের। মন্দারমনি ও দিঘা মোহনা কোস্টাল থানা যাতে এই রাস্তার ওপর নিয়মিত টহল দেয় সেই দাবি জানিয়েছেন সাধারন মানুষ। যদিও দুটি থানাই জানিয়েছে মাঝে মধ্যেই টহল দেওয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

এই দিনই জেলার ১১৬ বি জাতীয় সড়কের ওপর চণ্ডীপুর থানার গড়গ্রামে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মিনিবাসে ধাক্কা দিয়ে গুরুতর জখম হন বাইক আরোহী মা ও ছেলে। মঙ্গলবার বিকেলের ওই দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান এলাকার বাসিন্দারা। সেখানে আহত ছেলে রবীন্দ্রনাথ সাহু(২০)-কে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। আর আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর মা মাঝবয়সী বিজলি সাহু। ওই মা-ছেলের বাড়ি ভগবানপুর থানার কাজলাগড়ে বলে জানিয়েছে চণ্ডীপুর থানার পুলিশ।

- Advertisement -
Latest news
Related news