Monday, April 15, 2024

Digha: দিঘার আকাশে দুর্যোগের কালোমেঘ! মাথায় মৌসুমী অক্ষরেখা, শিরে অমাবস্যা! বৃষ্টি ও কোটালে সর্বনাশের দুয়ারে দাঁড়িয়ে সৈকত শহর

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: গত ১৩ জুলাই বুধবার, পূর্ণিমার ভরা জোয়ারে ব্যাপক জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছিল দিঘা ও শঙ্করপুর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা। বড় বড় ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে দিঘার গার্ডওয়ালের ওপর। সমুদ্রের জল ছাপিয়ে গিয়েছিল সৈকত সরণি-সহ শহরের রাস্তাঘাট। সমুদ্রবাঁধ উপচে জল ঢুকেছিল শঙ্করপুর, জলধা, চাঁদপুর, জামড়া-শ্যামপুর, তাজপুর প্রভৃতি গ্রামে। চলতি মরসুমে সেটাই ছিল দিঘায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা কিন্তু বর্ষার শেষ বেলায় সম্ভবতঃ আরও বড়সড় সর্বনাশের প্রহর গুনতে চলেছে দিঘা। অন্ততঃ তেমনই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা কারন দিঘার আকাশে এখন দৈত্যসম দ্বৈত দুর্যোগ।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
বুধবারের দিঘা

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর (Alipore Meteorological Department) জানাচ্ছে দক্ষিনবঙ্গে (South Bengal) সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখাটি সরাসরি দিঘার মাথার ওপর অবস্থিত থাকায় মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির বুধবারও হয়ে চলেছে এবং ক্রমশ তা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে পরিণত হচ্ছে। আষাঢ়, শ্রাবণ পেরিয়ে গেলেও দিঘায় তেমনভাবে বৃষ্টির দেখা না পাওয়া গেলেও ভাদ্রের শুরু থেকেই বাদলের বারিধারা অবিরাম ঝরছে। দিঘার ওপর দিয়ে বিস্তৃত মৌসুমী অক্ষরেখার জেরে আগামী কয়েকদিন ধরেই দিঘায় বৃষ্টির পরিমান বাড়বে সঙ্গে ঝোড়ো হওয়ার দাপট। আর গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতই আগামী ২৬শে আগস্ট অমাবস্যা হওয়ায় ভরা কোটালের প্রভাব পড়তে চলেছে সমুদ্রেও। জলস্তর ব্যাপক ভাবে বাড়তে পারে। আকাশে ও সমুদ্রের এই দুর্যোগের কারনে ব্যাপক জলোচ্ছ্বাসের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে যা কিনা ১৩ই জুলাইকে নিশ্চিতভাবে ছাপিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।

সেচ দপ্তরের কর্তারা আশঙ্কা করছেন, অমাবস্যার কোটালের প্রভাবে শুক্রবার থেকেই জোয়ারের উচ্চতা বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং শনি, রবিবার অবধি সেই তীব্রতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেচ দপ্তরের এক কর্তা জানিয়েছেন, ” মৌসুমী অক্ষরেখার প্রভাবে দুর্যোগ বহাল থাকলে শুক্রবার জোয়ারের উচ্চতা ছিল ৭ থেকে ৯ মিটার অবধি হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে জোয়ার-জলোচ্ছ্বাসে সমুদ্রবাঁধ উপচে দিঘা ও শঙ্করপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যেতে পারে। কিছুটা হলেও বিপদের মুখে পড়তে পারে শঙ্করপুর-তাজপুর ২.৮ কিমি বাঁধের অংশ।’

ওই আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, “বাঁধ উপচে জল ঢুকলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বাঁধ লাগোয়া স্থানীয় বাড়িঘর গুলি। গোটা বিষয়টি অবশ্য অবগত রয়েছে প্রশাসন। সেরকম হলে পরিবারগুলির মানুষদের দ্রুত সরিয়ে আনা হবে স্থানীয় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে।ওই আধিকারিক আরও জানান, “গত ১৩ই জুলাইয়ের কোটালে সমুদ্রবাঁধের কিছু জায়গা থেকে পাথর সরে গেছিল যা পরে মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরি আছি। তবে এটাও স্বীকার করতে হবে প্রকৃতি কোনও কোনও সময় মানুষের সমস্ত হিসাব নিকেশ বদলে দেয়।”

- Advertisement -
Latest news
Related news