Tuesday, June 25, 2024

Susanta Ghosh: সুশান্ত ঘোষের প্রত্যাবর্তন! পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সিপিএমের সর্বেসর্বা পদে গড়বেতার নায়ক

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: ব্যাপক অংশের কর্মী আর সমর্থক ফিরতে চাইছিলেন লড়াকু আন্দোলনে কিন্তু কোথাও যেন পশ্চাদপদ জড়তা কাজ করছিল। খুঁজছিল নতুন কোনও মুখ, নতুন নেতৃত্ব। শেষ অবধি সেই নেতৃত্ব বেছে নিল দল। সিপিএমের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটির ২ দিনের সম্মেলন শেষ অবধি জেলা সম্পাদক হিসাবে বেছে নিলেন সুশান্ত ঘোষকেই। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় দুদিনের সম্মেলন শেষে বৃহস্পতিবার ৩৪৭জন প্রতিনিধি সর্বসম্মতিক্রমে বেছে নিয়েছেন এই বছর বয়সী নেতাকে। কোনও ভোটাভুটি হয়নি, অপেক্ষাকৃত তরুণ আরও একজনকে গত কয়েকবছর ধরে সামনে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল কিন্তু তার প্রয়োজন হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা এই প্রথম কোনও একজনকে সম্পাদক পদে আনার জন্য দলের বাইরে থাকা সিপিএম সমর্থকদের কাছ থেকেও দাবি উঠেছিল। সেই দাবি প্রতিফলিত হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়াতেও। আর সেই হিসাবে দলের অভ্যন্তরে এবং দলের বাইরে সমর্থক অংশে সুশান্ত ঘোষের মধ্যে যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা যা সম্ভবতঃ সিপিএমে এর আগে পরিলক্ষিত হয়নি তাকেই মর্যাদা দিল ৩১৯ পুরুষ ও ৫৮ জন মহিলা প্রতিনিধি সমন্বিত এই সম্মেলন।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

২০১১ সালে তৃনমূলের সবুজ ঢেউয়ের যুগেও গড়বেতা বিধানসভাকে লালে লাল করে বিধায়ক হয়েছিলেন সুশান্ত ঘোষ। ২০০৮ থেকে ২০১১ সালের মাঝামাঝি অব্যাহত মাওবাদী সন্ত্রাস। অবিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রায় ৪০০ সিপিএম নেতা কর্মী হত্যা, ২০০জন চিরতরে নিখোঁজ কিন্তু জঙ্গলঘেরা গড়বেতায় দাঁত ফোটাতে পারেনি মাওবাদীরা। ১৯৯৮ থেকে ২০০১ জেলা জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের সামনের সারিতে সুশান্ত ঘোষ। তৃনমূল কংগ্রেসের কেশপুর আর গড়বেতা দখলের চেষ্টা, সশস্ত্র লড়াই, রক্তপাত, মৃত্যু, অগ্নিসংযোগ সব কিছু ব্যর্থ করে দিয়ে ফের ওই এলাকায় লালপতাকা উড়িয়ে ছিলেন এই গড়বেতা নায়ক। বৃহস্পতিবার সিপিএমের সেই সম্মেলন সেই নায়ককেই যেন পুনর্বাসন দিল।

২০১১ সালে গড়বেতা থেকে জয়ী হওয়ার পরই নতুন সরকার তাঁকে বেনাচাপড়া মামলায় অভিযুক্ত করে ফের জেলে ভরে। যদিও ২০১১ সালের আগে এই মামলাতেই জয়ী হয়েছিলেন সুশান্ত ঘোষ। বেকসুর খালাস পেয়েছিলেন। ফের নতুন করে সেই একই মামলায় দেগে দেওয়া হয় ঘোষকে। যদিও সিপিএমের ভাষায় সেই মামলা ছিল পুরানো কঙ্কালের পরনে নতুন জাঙ্গিয়া আর কাঁধে নতুন গামছা জড়িয়ে নতুন করে সাজানো মামলা। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সে মামলায় এখনও অবধি দোষি সব্যস্ত করা যায়নি তাঁকে। হাইকোর্ট জামিন দিলেও রাজ্য সরকার নতুন করে আবদার ধরে জেলায় ঢুকতে দেওয়া যাবেনা তাঁকে। সিপিএমের একমাত্র নেতা যিনি ১০বছরেরও বেশি নিজের জেলায় ঢুকতে পাননি। বৃদ্ধা মাকে দেখতে আসতে পারেননি। কিন্তু লালঝান্ডা আর সিপিএম থেকে সরে আসেননি।

এই ১০ বছর নিজের জেলায় ফিরতে না পারলেও রাজ্যের বাকি অংশের সিপিএম কর্মী সমর্থকরা লুফে নিয়েছেন তাঁকে। কাকদ্বীপ থেকে কালিংপঙ কর্মী সমর্থকরা তাঁকে চেয়েছেন যুব সম্মেলন, স্থানীয় নির্বাচনী লড়াই, মিটিং, মিছিল, সমাবেশে। প্রতিটি জায়গাতেই বলেছেন, লালঝান্ডাই আমার শক্তির উৎস, পার্টিই আমার শেষ কথা। ২০২১ সালে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ঘোষ কিন্তু জয় আসেনি। বলেছিলেন, জয়ের চাইতেও এই মুহূর্তে জরুরি ছিল লড়াইয়ে ফিরে আসা। সেটা করতে পেরেছি।

পাশাপাশি দলের মধ্যে বিতর্কও হয়েছে তাঁকে নিয়ে। কিন্তু সে বিতর্ক যে স্থায়ী হয়নি তা প্রমাণ করে দিয়েছে এই সম্মেলন। সম্মেলনে উপস্থিত রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, মহম্মদ সেলিম, কননিকা ঘোষ প্রমুখ শীর্ষ নেতৃত্বরা স্বাক্ষী থেকেছেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সিপিএমের সুশান্ত যুগের সূচনায়। এদিন সম্মেলনের শেষ বেলাতেও নিজের বক্তব্যে সুশান্ত ঘোষ বলেছেন, ‘ তৃনমূল পচে গিয়েছে, হাড় মাংস গলে গলে পড়ছে, গন্ধ ছাড়ছে। শুধু পুলিশ দিয়ে সেসব ঢেকে রেখেছে। সংবদমাধ্যমের একাংশকে কিনে নিয়ে নিজেদের অপকর্ম ঢেকে রাখছে।’ কী ভাবে ঘুরে দাঁড়াবে দল? সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ঘোষ জানিয়েছেন, মানুষই তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, আমাদের কাজ মানুষের সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁকে সংগঠিত করা। সে কাজ আরও জোরালো করতে হবে। আমরা সবাই মিলে তা করব।

- Advertisement -
Latest news
Related news