Sunday, April 14, 2024

Stolen Bike Godown : পশ্চিম মেদিনীপুরের অজ গাঁয়ে চুরির বাইকের গোডাউন? দুই মেদিনীপুর ছাড়াও হাওড়া-হুগলির চুরির পান্ডার খোঁজে পুলিশ

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: দুটো পাঁচটা নয় একেবারে ২ডজন। সুপার স্পেলন্ডার, পালসার, গ্ল্যামার, প্ল্যাটিনা, সিটি কী নেই উদ্ধার হওয়া বাইকের তালিকায়! বাড়ি তো নয় যেন বাইকের একটা আস্ত গোডাউন। পশ্চিম মেদিনীপুরের একেবারে প্রান্তিক সীমানায় অবস্থিত একটি গ্রামের দুটি বাড়ি থেকে ২৪টি বাইক উদ্ধার করল পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের বান্দিপুর ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের ধান্যগাছী গ্রাম থেকে এই বড়সড় সাফল্য পেল চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ। ঘটনায় ওই গ্রাম থেকেই ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে ধৃতরা হল ,ধান্যগাছী গ্রামের বাসিন্দা অশ্বিনী রায় ও অলীপ সাঁতরা।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ধৃত অশ্বিনী রায়ের সিমেন্টের খুঁটি বানানোর ব্যবসায় রয়েছে। অন্যদিকে অলীপ সাঁতরা একজন কৃষক। এই চুরির মূল পান্ডা এখনও অধরা। পুলিশ আরও জানিয়েছে ধৃতরা চুরির বাইক কিনে এনে ধান্যগাছীতে নিজেদের হেফাজতে রাখত। তারপর খদ্দের ধরে বিক্রি করত। বাজারের চেয়ে অর্ধেকেরও কম দরে বিক্রী করায় ক্রেতা মিলতে খুব অসুবিধা হতনা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন কুড়ি থেকে পঁচিশ হাজারে বিক্রী করা হত বাইকগুলি। স্থানীয় এলাকায় ব্যবহার করার জন্য অনেকেই কাগজপত্রের ধার ধারতনা। কাউকে কাউকে হয়ত নকল কাগজপত্র বানিয়ে দেওয়া হত। পুলিশের হাতে ধরা না পড়লে কোনও সমস্যা হতনা। এদিকে চন্দ্রকোনা ও তার আশেপাশের এলাকায় বাইক চুরির ঘটনায় মানুষের ক্ষোভ বাড়ছিল। ফলে পুলিশও খোঁজ চালাচ্ছিল। সেই খোঁজ করতে গিয়ে এই সস্তা বাইক বিক্রী চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। তারপরই ওই গ্রামে হানা দেয় পুলিশ।

পুলিশ ওই গ্রামে প্রবেশ করার পরই ভিড় জমাতে থাকেন অত্যুৎসাহী মানুষ। এরপর ওই বাড়ি দুটি থেকে একের পর বাইক উদ্ধার করে পুলিশ যখন গাড়িতে তুলতে থাকে তখন মানুষের চক্ষু চড়কগাছ। এত বাইক! স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই ২জন যে সস্তায় সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক বিক্রী করত সেটা আমরা জানি। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসত সস্তায় বাইক কেনার জন্য। আমরা ভাবতাম সেকেন্ড হ্যান্ড বাইকের ব্যবসা করে ওরা কিন্তু ওগুলো যে চুরির বাইক তা ঘুণাক্ষরেও জানতে পারিনি।

এক সঙ্গে এত বাইক অবাক করেছে পুলিশকেও। পুলিশের অনুমান শুধুই চন্দ্রকোনা বা পশ্চিম মেদিনীপুরেই নয় লাগোয়া পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া ও হুগলি জেলা থেকেও চুরি যাওয়া বাইক আসত এই গ্রামে। কোথা থেকে কার মাধ্যমে এই বাইক জোগাড় করত ধৃতরা, কে এই বাইক চুরি চক্রের পান্ডা তা জানতে পেরেছে পুলিশ। যদিও তদন্তের স্বার্থে তার নাম পরিচয় গোপন রেখেছে পুলিশ। পুলিশের আশা শীঘ্রই ধরা সম্ভব হবে ওই দুষ্কৃতি কেও।

- Advertisement -
Latest news
Related news