Saturday, May 25, 2024

Kharagpur TMC: প্রার্থী ঘোষণার আগেই বিদ্রোহ তৃণমূলে! বে-পাড়ার প্রদীপ জ্বালতে নারাজ ভাবনীপুর, দেখুন খড়গপুরে তৃনমূলের প্রার্থী তালিকা

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: মাত্র কয়েকঘন্টা আগেই রাজ্যের পুরনির্বাচনগুলির প্রার্থী ঘোষণা করেছে রাজ্য তৃনমূল। খড়গপুরের জন্যও ঘোষিত হয়েছে সেই তালিকা। তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন প্রদীপ সরকার,  জহরলাল পাল , তুষার চৌধুরীর মত শহরের বড়সড় তৃনমূল নেতারা। বাদ  গিয়েছেন রবিশঙ্কর পাণ্ডে, সনাতন যাদবের মত নেতারা। বদলে অবশ্য প্রার্থী করা হয়েছে তাঁদের স্ত্রীদের। কিন্তু উল্লেখ যোগ্যভাবে তৃনমূল এবার ছেঁটে ফেলেছে প্রাক্তন তৃনমূল কর্মী বাবলা সেনগুপ্ত, সুরেশ যাদব, মুনমুন চৌধুরীদের।  সিপিআই, সিপিএম, কংগ্রেস থেকে আসা ছাঁট তৃণমূলী সেক হানিফ, অরূপ কুন্ডু, শ্যামল রায়, সরিতা ঝাদের ছেঁটে ফেলেছে তৃনমূল।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

তবে প্রার্থী ঘোষণার ২৪ঘন্টা আগেই বড়সড় ঝড় বয়ে গেছে ভাবনীপুর এলাকা বা ৬নম্বর ওয়ার্ডে। যেখানে প্রদীপ সরকারকে প্রার্থী করা হচ্ছে ধরে নিয়েই এলাকার দেওয়ালে দেওয়ালে পোস্টার পড়েছে, এলাকার প্রার্থী চাই বলে।

মাত্র ২বছর আগে খড়গপুর শহর বিধানসভার উপনির্বাচন জিতে ছিলেন প্রদীপ সরকার। ভাড়া করে আনা টিম পিকের দল খড়গপুরে প্রদীপ সরকারের হয়ে বিজয় শ্লোগান তৈরি করে বলে গিয়েছিল প্রদীপ জ্বলবে ঘরে ঘরে। আর দু’বছরও হলনা বিধানসভায় হারার পর সেই প্রদীপ সরকারের কপালে এমনই দুর্ভাগ্য যে, তাঁর শেষ প্রদীপটাও নিভিয়ে দিতে উঠে পড়ে লেগেছে তৃনমূলের একটি অংশ। হ্যাঁ, এটাই ঘটনা যে এই পুরসভা নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলে খড়গপুর থেকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর নাম মুছে যাবে। কালীঘাটে প্রশ্ন উঠবে তিনি বিধায়ক নন, চেয়ারম্যান নন, এমন কী কাউন্সিলর নন তো তিনি কী ? সেটাই যেন হতে করতে চায় কেউ বা কারা।

নিজের ২০নম্বর ওয়ার্ড মহিলা সংরক্ষিত হওয়ার পরই প্রদীপ সরকার চেয়েছিলেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দাঁড়াতে। কিন্তু কারা যেন ‘নো এন্ট্রি’ বোর্ডের পোস্টার সেঁটে দিয়েছে ওই ওয়ার্ডের ভাবনীপুরের দেওয়ালে দেওয়ালে। কারা যেন তেরঙা বৃত্তের মধ্যে লিখে দিয়েছে, ভাবনীপুরে নিজের ওয়ার্ডের লোককেই চাই। ঠিক যেন বাংলা নিজের মেয়েকেই চায় ধাঁচের লেখা।

উল্লেখ্য এই ওয়ার্ডে গতবার জয়ী হয়েছিলেন অরূপ কুন্ডু বা বাবু কুন্ডু। পরে তৃনমূলে যোগ দেন তিনি কিন্তু এবার তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি। ফলে এলাকার তৃনমূল কর্মীদের একাংশের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। তাঁদেরই একটা অংশ এই পোষ্টার সাঁটিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও তৃনমূলের তরফে বলা হয়েছে, লড়াই হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখেই। এখানে কে প্রার্থী বড় কথা নয়। কিন্তু খড়গপুরের বুকে সেই তত্ত্ব কাজ করা মুশকিল। কারন এখানে গত নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিল তৃনমূল। পরে পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের চাপে বিভিন্ন দলের কাউন্সিলরদের নিয়ে তৃনমূল বোর্ড গঠন করে। তারপরেও যে তৃনমূলের সংগঠন জোরালো নয় তা প্রমাণ হয়ে গেছে বিধানসভায়। সারা রাজ্যে যেখানে হৈ হৈ করে জিতেছে সেখানে খড়গপুর হেরেছে তৃনমূল। আর সেই হারের পেছনে বিধায়ক ও চেয়ারম্যান হিসাবে প্রদীপ সরকারের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছে দলীয় কর্মীদের একাংশ। সেই প্রদীপকেই মানতে নারাজ ভবানীপুর দলের একাংশ।

- Advertisement -
Latest news
Related news