Sunday, April 14, 2024

Nandigram: নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কার্যালয় পুলিশের দ্বারা আক্রান্ত ! মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট তলব রাজ্যপালের, সিবিআইয়ের পাল্টা দিচ্ছে পুলিশ, দাবি বিজেপির

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: শুভেন্দু অধিকারীর কার্যালয় পুলিশের দ্বারা আক্রান্ত। এমনই ট্যুইট করলেন রাজ্যপাল। মাত্র এক ঘন্টার ব্যবধানে রাজ্যপালের এই দ্বিতীয় ট্যুইট এবং তারই সাথে জরুরি ভিত্তিতে মুখ্যসচিবের রিপোর্ট তলব রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেদিল।  রাজ্যপাল রবিবারের প্রথম ট্যুইটে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কার্যালয়ে কেন পুলিশ হানা দিয়েছে এই প্রশ্ন তুলে মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট তলব করেছিলেন। কিছুক্ষণ পরেই ফের দ্বিতীয় ট্যুইটে তিনি বলেন, বিরোধী দলনেতার কার্যালয় আক্রান্ত পুলিশের হাতে। ভিডিও সহ রাজ্যপালের ওই ট্যুইট নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে রাজ্য রাজনীতিতে। ওই ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে নন্দীগ্রামের নন্দপাইকবাড়ি গ্রামের একটি বাড়িতে বেশকিছু মহিলা পুলিশ নিয়ে পুলিশের একটি বাহিনী উপস্থিত রয়েছে। ৪৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে একটি বার্তা যুক্ত করে রাজ্যপাল লিখেছেন ‘পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতার নন্দীগ্রামের কার্যালয়ে পুলিশ হানা দিয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগের, তাই আমি মুখ্যসচিবের কাছে এ বিষয়ে জবাব চেয়েছি।’ ওই ভিডিয়োটিতে আরও দেখা যাচ্ছে, পুলিশ নন্দীগ্রামের শুভেন্দুর বিধায়ক কার্যালয়ে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। কার্যালয়ের দায়িত্ব থাকা ওই ব্যক্তি পুলিশকে বলছেন, এই কার্যালয় থেকে কোনও দলীয় কাজ হয় না। কেবল মাত্র বিধায়ক পরিষেবার কাজ হয়।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

এই ট্যুইটের কিছুক্ষণ আগেই অবশ্য আরও একটি ট্যুইট ছড়িয়ে পড়েছিল যা করেছিলেন স্বয়ং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি তাঁর বার্তায় লেখেন, ‘কোনও পূর্ব সূচনা না দিয়ে, কোনও সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই এবং ম্যাজিস্ট্রেটের অনুপস্থিতিতে, আচমকা মমতার পুলিশ (পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ) আমার নন্দীগ্রামের বিধায়ক কার্যালয়ে অনধিকার প্রবেশ করেছে।মমতার সরকারের পুলিশের এই জঘন্য অপব্যবহার বিরোধী দলনেতার প্রতি এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের প্রমাণ।’ জানা গেছে নন্দীগ্রামের এই অফিসে তল্লাশি চালানোর আগে পুলিশের এই দলটি তল্লাশি চালাতে গেছিল নন্দীগ্রামের শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা মেঘনাদ পালের বাড়িতে। পুলিশের নজরে ছিল মেঘনাদ পাল এবং তাঁর স্ত্রী মহুয়া জানা পালকে নিজেদের বাড়িতে না পেয়েই পুলিশ ওই কার্যালয়ে যায় কারন পুলিশের কাছে খবর ছিল ওই দম্পত্তি শুভেন্দু কার্যালয়ে আত্মগোপন করেছে। যদিও শেষ অবধি সেখানেও খোঁজ মেলেনি তাঁদের।

পুলিশের বক্তব্য, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। মেঘনাদ পালের স্ত্রী নন্দীগ্রামের একটি সমবায় ব্যাংকের শাখার ম্যানেজার। তমলুকের প্রধান কার্যালয় রয়েছে ওই সমবায় ব্যাংকটির। একদা শুভেন্দু অধিকারীই ছিলেন ওই ব্যাংকের সর্বেসর্বা। সম্প্রতি তমলুক থানায় দায়ের করা একটি অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ভুয়ো শংসাপত্র জমা দিয়ে নন্দীগ্রাম শাখার ম্যানেজার পদে বসেছেন মহুয়া আর সেই অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই অভিযোগকারীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এমনকি প্রাণনাশেরও। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পুলিশি হানা। যদিও বিজেপির দাবি, ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সিবিআইয়ের সক্রিয় হয়ে ওঠা এবং একের পর এক তৃনমূল নেতাকে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের পরিপ্রেক্ষিতেই পাল্টা এই সব করছে তৃনমূল, যাকে বলে প্রতিহিংসার রাজনীতি। যদিও তৃণমূলের দাবি, ওই অফিসটি আসলে বিধায়ক কার্যালয় নয়। ওই বাড়িটি থেকেই তিনি নন্দীগ্রামে ভোটার হয়েছেন। আর অভিযুক্ত যদি কোনও অপরাধ না করেন তবে পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কেন ?

নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা প্রলয় পাল বলেন, ‘‘ নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী পরাজিত হওয়ার পর থেকেই পুরোপুরি প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে তৃনমূল আর এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পুলিশকে। যেহেতু আদালতের নির্দেশে ভোট পরবর্তী হিংসার তদন্তে সিবিআই নামার পরই ঘুম ছুটেছে শাসকদলের নেতা কর্মীদের তাই বিরোধী দলনেতাকে হেনস্থা করতেই এই পরিকল্পনা করেছে তৃনমূল। বিজেপির নেতা কর্মীদের পুলিশ দিয়ে শায়েস্তা করতে চাইছে ওরা।” পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, যা করা হয়েছে তা পুরোপুরি আইন মেনেই করা হয়েছে। নির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে।গোটা ঘটনার ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে। আদালত চাইলে তা জমা দেওয়া হবে।

- Advertisement -
Latest news
Related news